এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (57)
৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি ডিজিটাল লেনদেনে ‘রেড অ্যালার্ট’
Shikor Web Image (27)
ফের কমল স্বর্ণের দাম: ১৫,৭৪৬ টাকা কমে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা
Shikor Web Image - 2026-01-28T162155.269
ঋণভিত্তিক ব্যয় কোনো আয় তৈরি করতে পারেনি: বললেন বাণিজ্য উপদেষ্টা
Shikor Web Image - 2026-01-28T161305.446
১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কিনবে সরকার
Shikor Web Image - 2026-01-28T160330.637
সোনার দাম রেকর্ড: আজ থেকেই কার্যকর প্রতি ভরি ২ লাখ ৬৯ হাজার ৭৮৮ টাকা

বাংলাদেশ থেকে ওষুধ আমদানি করবে আফগানিস্তান

বাংলাদেশ থেকে ওষুধ আমদানি করবে আফগানিস্তান—এ নিয়ে বড় চুক্তি হয়েছে শীর্ষ ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে। বিনিয়োগ, রপ্তানি ও শিল্পখাতে নতুন সম্ভাবনার বিস্তারিত জানুন।

বাংলাদেশ থেকে ওষুধ আমদানি করবে আফগানিস্তান—এই ঘোষণা দক্ষিণ এশিয়ার ওষুধ শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তান সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের শীর্ষ ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসে এবং ওষুধ আমদানির বিষয়ে চুক্তিতে পৌঁছায়।

এই সিদ্ধান্ত শুধু দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কই নয়, বরং বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকেও আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে।

আফগান উপ-বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীর নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি

আফগানিস্তানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, দেশটির উপ-বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী মাওলাওই আহমাদুল্লাহ জাহিদ বাংলাদেশের বৃহৎ ওষুধ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল আফগানিস্তানে প্রয়োজনীয় মানসম্পন্ন ওষুধ সরবরাহ এবং দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সহযোগিতা।

এই আলোচনার ফলেই নিশ্চিত হয় যে বাংলাদেশ থেকে ওষুধ আমদানি করবে আফগানিস্তান, যা দেশটির স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বেক্সিমকো ও রেনেটা পরিদর্শন: আস্থার প্রতীক

আফগানিস্তানের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের দুই বৃহৎ ওষুধ কোম্পানি—

  • বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস

  • রেনেটা পিএলসি

পরিদর্শন করেন।

এই প্রতিষ্ঠান দুটি বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৫০টির বেশি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে। মান, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি মেনে চলার ক্ষেত্রে এই কোম্পানিগুলোর সুনাম আফগানিস্তান সরকারের আস্থা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখে।

কেন বাংলাদেশি ওষুধে আগ্রহী আফগানিস্তান?

বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তান বাংলাদেশি ওষুধ আমদানিতে আগ্রহী হওয়ার পেছনে কয়েকটি বাস্তব কারণ রয়েছে—

  1. আন্তর্জাতিক মান: বাংলাদেশি ওষুধ WHO-GMP মানদণ্ড মেনে উৎপাদিত

  2. সাশ্রয়ী মূল্য: ইউরোপ ও পশ্চিমা দেশের তুলনায় কম খরচ

  3. বিশ্বাসযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা

  4. উন্নয়নশীল দেশের অভিজ্ঞতা

  5. দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার সুযোগ

এই সব কারণ মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকে ওষুধ আমদানি করবে আফগানিস্তান সিদ্ধান্তটি বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আফগানিস্তানে ওষুধ কারখানা স্থাপনের প্রস্তাব

চুক্তির পাশাপাশি আফগান উপমন্ত্রী বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলোকে আফগানিস্তানে ওষুধ কারখানা স্থাপনের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন—

  • আফগানিস্তানের সব অঞ্চলে এখন নিরাপত্তা নিশ্চিত

  • শিল্প ও উৎপাদন খাতে সরকার পূর্ণ সমর্থন দেবে

  • বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য কর ও নীতিগত সুবিধা থাকবে

এটি বাস্তবায়িত হলে শুধু আমদানিই নয়, বরং যৌথ উৎপাদনের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনীতি লাভবান হবে।

বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের জন্য বড় সুযোগ

বর্তমানে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৯৮% পূরণ করছে এবং নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। আফগানিস্তানের মতো নতুন বাজার যুক্ত হওয়ায়—

  • রপ্তানি আয় বাড়বে

  • কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে

  • গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়বে

এ কারণে বাংলাদেশ থেকে ওষুধ আমদানি করবে আফগানিস্তান খবরটি দেশের শিল্পখাতে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য মান ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা

এই আমদানি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে আফগানিস্তান Afghanistan Food and Drug Authority (AFDA)–এর নির্দেশনা অনুসরণ করবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর নীতিমালাও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও কূটনৈতিক গুরুত্ব

এই উদ্যোগ শুধু বাণিজ্যিক নয়, কূটনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়লে—

  • দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে

  • আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বাড়বে

  • মানবিক সহায়তার ক্ষেত্র প্রসারিত হবে

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশ থেকে ওষুধ আমদানি করবে আফগানিস্তান—এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আরও বড় অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ভিত্তি তৈরি করবে।

বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করে আসছে। আফগানিস্তানের সঙ্গে এই নতুন চুক্তি সেই সাফল্যের আরেকটি স্বীকৃতি। নিরাপত্তা, বিনিয়োগ সুবিধা ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে এই সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে দুই দেশই দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হবে।

সর্বাধিক পঠিত