বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্য এখন দুই দিনের অপেক্ষায়। বিসিবি, আইসিসি বৈঠক ও নিরাপত্তা প্রশ্নে অনিশ্চয়তার সর্বশেষ আপডেট জানুন।
দুই দিনের অপেক্ষা—এই দুটি শব্দেই আপাতত আটকে আছে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্য। অনেক আগেই সম্ভাব্য প্রস্তুতি শুরু করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ভারতের ভিসা ফরম পূরণ থেকে শুরু করে খেলোয়াড়দের সই-স্বাক্ষর পর্যন্ত সব কিছুই ছিল পরিকল্পনার অংশ। এমনকি জাতীয় দলের সদস্যদের জার্সি ও ব্লেজারের মাপও নেওয়া হয়েছে সময়মতো।
তবু শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে—বাংলাদেশ কি আদৌ বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে?
এই অনিশ্চয়তা শুধু খেলোয়াড়দের মধ্যেই নয়, বিসিবির শীর্ষ মহল থেকে শুরু করে সমর্থকদের মাঝেও তৈরি করেছে গভীর দোলাচল। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্য এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে আগামী ৪৮ ঘণ্টার ওপর।
বিসিবির প্রস্তুতি থাকলেও কেন অনিশ্চয়তা?
পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আগেই বিসিবি সম্ভাব্য সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিল। ভিসা ফরম, সরকারি আদেশ (জিও) প্রস্তুত রাখা—সবই ছিল আগাম পরিকল্পনার অংশ। তবে পরবর্তীতে নিরাপত্তা ও ভেন্যু ইস্যু সামনে আসায় সেই প্রস্তুতিগুলো আর কাজে আসেনি।
জাতীয় দলের এক সদস্য সম্প্রতি বিসিবির কয়েকজন কর্মকর্তার কাছে সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন—
“আমরা কি যাচ্ছি?”
জবাব ছিল সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ—
“আরো দুই দিন অপেক্ষা করো।”
এই অপেক্ষাই এখন বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্য নির্ধারণের সবচেয়ে বড় নিয়ামক।
বিসিবি পরিচালকদের নীরবতা কী ইঙ্গিত দেয়?
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বিপিএলের একটি ম্যাচ চলাকালীন বিসিবির এক দায়িত্বশীল পরিচালক উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট বক্সে। তবে বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কথা বাড়াতে চাননি।
তার নীরবতা অনেক কিছুই ইঙ্গিত করে। বোঝা যাচ্ছিল, সিদ্ধান্তের দড়ি টানাটানি এখনো চলছে। কেউই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্য যেন আটকে আছে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতায়।
আইসিসি বৈঠক: আশার আলো না হতাশা?
শনিবার ঢাকায় আইসিসির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভের সঙ্গে বিসিবি কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন আইসিসির ইভেন্টস অ্যান্ড করপোরেট কমিউনিকেশনস প্রধান গৌরব সাক্সেনা।
কিন্তু বৈঠক শেষে নতুন কোনো সমাধানের ইঙ্গিত মেলেনি।
সূত্র জানায়—
-
নতুন কোনো পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়নি
-
বিকল্প ভেন্যু নিয়ে আলোচনা হয়নি
-
শুধু ভারতে খেললে কী ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হবে, সেই প্রটোকল তুলে ধরা হয়েছে
এতে করে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা আরো বেড়েছে।
বিসিবির মূল দাবি কী?
বিসিবি আগের অবস্থানেই অনড়। তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো—
-
গ্রুপ ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন
-
প্রয়োজনে গ্রুপ পরিবর্তন
আইসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতে খেলতে গেলে বাংলাদেশি সমর্থকদের দ্রুত ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তবে বিসিবি নিরাপত্তা ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিজেদের দাবিতে অটল রয়েছে।
এই অনড় অবস্থানই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্য নির্ধারণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্রিকবাজের প্রতিবেদন কেন আশাব্যঞ্জক নয়?
একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড আইসিসির কাছ থেকে নিশ্চিত হয়েছে যে তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কা থেকেই সরানো হবে না।
এর অর্থ দাঁড়ায়—
-
বাংলাদেশকে বি গ্রুপে নেওয়া
-
আয়ারল্যান্ডকে সি গ্রুপে পাঠানো
এই সমীকরণে বাংলাদেশের সুযোগ কমে যাচ্ছে। তাই

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্য নিয়ে আশাবাদী হওয়ার তেমন কারণ দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।
পাকিস্তান ইস্যু ও উপমহাদেশীয় রাজনীতি
এদিকে পাকিস্তানের জিও নিউজ উর্দু একটি আলোচিত খবর প্রকাশ করেছে। সেখানে দাবি করা হয়—
-
বাংলাদেশ সরকার নাকি পাকিস্তানের সহায়তা চেয়েছে
-
পাকিস্তান বাংলাদেশের দাবির পক্ষে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে
-
দাবি মানা না হলে পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনা করতে পারে
তবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের একটি সূত্র এই খবর নাকচ করেছে। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে—
“দুই দেশের সরকারের মধ্যে এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়নি।”
ফলে এই খবরও বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
দুই দিনের অপেক্ষা—এরপর কী?
সব দিক বিবেচনায় এখন একটাই বাস্তবতা—
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্য নির্ধারিত হবে আগামী দুই দিনের মধ্যেই।
এই সময়ের মধ্যে—
-
আইসিসি সিদ্ধান্ত নেবে
-
বিসিবি চূড়ান্ত অবস্থান জানাবে
-
সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় অনুমোদন আসতে পারে
অথবা, সব দরজাই বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে এর প্রভাব কতটা বড়?
যদি বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে না পারে—
-
খেলোয়াড়দের মানসিক প্রভাব পড়বে
-
আর্থিক ক্ষতি হবে
-
আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়বে
এই কারণেই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্য শুধু একটি টুর্নামেন্টের প্রশ্ন নয়, বরং দেশের ক্রিকেট ভবিষ্যতের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।
দুই দিনের অপেক্ষা হয়তো খুব বেশি সময় নয়। কিন্তু এই দুই দিনেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্য। খেলতে যাবে বাংলাদেশ, নাকি ইতিহাসের এক কঠিন অধ্যায়ের মুখোমুখি হবে—এই প্রশ্নের উত্তর খুব শিগগিরই মিলবে।
এখন পুরো জাতির দৃষ্টি শুধু এক জায়গায়—
আগামী ৪৮ ঘণ্টা।




