এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (75)
পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন: জানে তারা হারবে—কীর্তি আজাদ ও ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের নাটকীয় মন্তব্য
Shikor Web Image (54)
বিশ্বকাপের সময় বিসিবির আয়োজনে ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ’
Shikor Web Image (24)
বিশ্বকাপ ছিটকে গেলেন প্যাট কামিন্স
Shikor Web Image (21)
পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপ ফাইনালের প্রতিশোধ নিতে চায় ভারত
Shikor Web Image (18)
বাংলাদেশ ইস্যুর মাঝেই নতুন করে বিপাকে আইসিসি

বাংলাদেশি সাংবাদিকদের আইসিসি অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল

বাংলাদেশি সাংবাদিকদের আইসিসি অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় বিতর্ক। জানুন সিদ্ধান্তের কারণ ও প্রভাব।

বাংলাদেশি সাংবাদিকদের আইসিসি অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করার সিদ্ধান্ত ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম জগতে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশি ক্রীড়া সাংবাদিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়—ভারত বা শ্রীলঙ্কায় গিয়ে বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য তারা কোনো ধরনের অ্যাক্রিডিটেশন পাবেন না। এই ঘোষণার পরপরই ক্রীড়াঙ্গনে ছড়িয়ে পড়ে হতাশা ও ক্ষোভ।

আইসিসির সিদ্ধান্তের মূল ব্যাখ্যা

আইসিসি তাদের বার্তায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যেহেতু বাংলাদেশ দল এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে না, তাই বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের জন্যও টুর্নামেন্ট কাভারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

আইসিসির এই যুক্তি অনেকের কাছেই প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ, আন্তর্জাতিক মানের সাংবাদিকতা কোনো নির্দিষ্ট দলের অংশগ্রহণের ওপর নির্ভর করে না—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেন বাংলাদেশি সাংবাদিকদের আইসিসি অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল বিতর্কিত

এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিতর্কের কারণ একাধিক—

  • বাংলাদেশ খেলুক বা না খেলুক, বিশ্বকাপ কাভার করার অধিকার সাংবাদিকদের থাকা উচিত

  • অতীতে দল না থাকলেও বাংলাদেশি সাংবাদিকরা বিশ্বকাপ কাভার করেছেন

  • এটি সংবাদপেশার স্বাধীনতার পরিপন্থী

  • অন্যান্য দেশের সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এমন নজির নেই

ফলে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের আইসিসি অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল বিষয়টি শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং নীতিগত প্রশ্নও তুলেছে।

 সাংবাদিকদের ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া

এই ঘোষণার পর দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এটি বাংলাদেশি গণমাধ্যমের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ।

অনেকে বিশ্বকাপ কাভারের জন্য আগেই ভিসা, টিকিট ও লজিস্টিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে তারা আর্থিক ও পেশাগত ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

আসিফ নজরুলের মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করল

এর আগে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল মন্তব্য করেছিলেন,

“ভারত শুধু খেলোয়াড়দের জন্য নয়, বাংলাদেশের দর্শক ও সাংবাদিকদের জন্যও অনিরাপদ।”

এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের আইসিসি অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল হওয়ায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

পূর্ব নির্ধারিত সূচি ও প্রস্তুতি

প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী—

  • গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের ৩টি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল কলকাতায়

  • ১টি ম্যাচ ছিল মুম্বাইয়ে

এই সূচির ভিত্তিতেই দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে সাংবাদিকরা আইসিসির নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অ্যাক্রিডিটেশনের জন্য আবেদন করেছিলেন।

শুধু বাংলাদেশ দলের ম্যাচ নয়, পুরো বিশ্বকাপ কাভারের পরিকল্পনাই করেছিলেন অনেকে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশি সাংবাদিকদের উপস্থিতি

১৯৯৯ সালে প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর থেকে—

  • প্রতিটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ

  • প্রতিটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

সবগুলোতেই বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল।

এমনকি ১৯৯৯ সালের আগেও, যখন বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে খেলেনি, তখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আসরে সংবাদ সংগ্রহে গিয়েছেন দেশের সাংবাদিকরা।

 আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সাংবাদিকতার অধিকার

বিশ্বজুড়ে ক্রীড়া সাংবাদিকতা একটি স্বাধীন পেশা হিসেবে স্বীকৃত। আইসিসির মতো বৈশ্বিক সংস্থার কাছ থেকে এমন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক—এমন মত দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সাংবাদিক সংগঠনগুলোর অবস্থান জানতে আইসিসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও চোখ রাখছেন অনেকে।

ক্রিকেট বিশ্বকাপ মানেই বাংলাদেশে বাড়তি উত্তেজনা। দেশের কোটি কোটি দর্শকের কাছে মাঠের বাইরের তথ্য পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে গণমাধ্যম।

সে কারণেই প্রতিবার বিশ্বকাপ এলেই প্রায় সব বড় মিডিয়া হাউস প্রতিনিধি পাঠায়।

এই বাস্তবতায় বাংলাদেশি সাংবাদিকদের আইসিসি অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল সিদ্ধান্তটি সাধারণ দর্শকদের কাছেও হতাশাজনক।

এই সিদ্ধান্তের ফলে—

  • আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি সাংবাদিকতার উপস্থিতি কমবে

  • বিশ্বকাপ কাভারে তথ্য বৈচিত্র্য হ্রাস পাবে

  • আইসিসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে

সর্বাধিক পঠিত