এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (33)
বিরোধী দলীয় নেতা ঘোষণা: উপনেতা ও হুইপ হলেন যারা
Shikor Web Image (29)
কে কোন মন্ত্রণালয় পাচ্ছেন
Shikor Web Image (23)
বিএনপি নতুন মন্ত্রিসভা: ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেছে
Shikor Web Image (14)
ডাকসুর ভিপি থেকে প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন নুরুল হক নুর
Shikor Web Image (12)
জামায়াত সংবিধান সংস্কার শপথে নাটকীয় ঘটনা: চলে গেলেন রুমিন ফারহানা

শপথ নিলেন বিএনপির নবনির্বাচিত এমপিরা

শপথ নিলেন বিএনপির নবনির্বাচিত এমপিরা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিএনপি এমপিদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন শপথবাক্য পাঠ করান। এই বিএনপি এমপিদের শপথ ঘিরে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়া সদস্যদের নিয়ে বিএনপি এমপিদের শপথ অনুষ্ঠান মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় রেওয়াজ অনুযায়ী প্রথমেই বিএনপির সদস্যদের শপথ পড়ানো হয়।

এই বিএনপি এমপিদের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ সংসদীয় কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নেওয়া বাধ্যতামূলক। এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার সকালে সংসদ ভবনে জমে ওঠে রাজনৈতিক পরিবেশ।

সকাল ৯টা থেকে সংসদ ভবনের প্রধান ফটকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গাড়ি প্রবেশ করতে শুরু করে। ধীরে ধীরে সংসদ চত্বরে বাড়তে থাকে নিরাপত্তা ও আনুষ্ঠানিকতার পরিবেশ। নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর ছিল বিশেষভাবে।

সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর সদস্যদের শপথ পড়ানোর মধ্য দিয়ে সংসদীয় যাত্রা শুরু হয়।

শপথবাক্য পাঠ করান সিইসি

শপথ অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন উপস্থিত থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। বেলা পৌনে ১১টার পর আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়।

শপথ গ্রহণের সময় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আনুষ্ঠানিক পরিবেশে একে একে সদস্যরা শপথ নেন এবং জাতীয় সংসদের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে আয়োজন

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত প্রোটোকল অনুযায়ী সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, এ ধরনের অনুষ্ঠান সংসদীয় রীতিনীতির অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হয়।

কেন আগে বিএনপি সদস্যদের শপথ?

বাংলাদেশের সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোটের সদস্যদের শপথ আগে পড়ানো হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় বিএনপির নির্বাচিত সদস্যদের শপথই প্রথমে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এই প্রক্রিয়াকে সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা ও আনুষ্ঠানিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয়।

সংসদ কার্যক্রম শুরুর পথে

শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে সংসদ সদস্যরা তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান। শপথের পর তারা সংসদ অধিবেশনে অংশ নিতে পারবেন এবং আইন প্রণয়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত হবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিএনপি এমপিদের শপথ নতুন সংসদে ক্ষমতার ভারসাম্য, বিরোধী রাজনীতি এবং নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নতুন সংসদ নিয়ে রাজনৈতিক প্রত্যাশা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় দেশজুড়ে রাজনৈতিক আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল ও শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংসদীয় গণতন্ত্রের কার্যকারিতা, বিরোধী দলের ভূমিকা এবং জাতীয় ইস্যুগুলো নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদ কার্যকর হলে দেশের নীতি নির্ধারণে নতুন গতি আসতে পারে।

সংসদ ভবনে সকাল থেকেই ব্যস্ততা

শপথ অনুষ্ঠানের দিন সকাল থেকেই সংসদ ভবনে ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যায়। সকাল ৯টা থেকে নির্বাচিত সদস্যদের গাড়ি প্রবেশ করতে শুরু করে। নিরাপত্তা ও আনুষ্ঠানিকতা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ছিল।

এ সময় সংসদ ভবনের আশপাশে গণমাধ্যমকর্মী, কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর শপথ অনুষ্ঠান গণতান্ত্রিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সাংবিধানিক শপথ নিয়ে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

এই প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক বলে মনে করা হয়।

ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

নতুন সংসদ গঠনের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনীতি, উন্নয়ন, নির্বাচন সংস্কার, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংসদে আলোচনা শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিরোধী দল ও সরকার—উভয় পক্ষের সক্রিয় ভূমিকা সংসদের কার্যকারিতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সংসদ ও জনগণের প্রত্যাশা

দেশের সাধারণ জনগণ নতুন সংসদের কাছে কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সংসদে গঠনমূলক বিতর্ক ও আইন প্রণয়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি এমপিদের শপথ নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক নজর

বাংলাদেশের নির্বাচন ও সংসদীয় কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মহলেও আগ্রহের বিষয়। নতুন সংসদের কার্যক্রম, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা নিয়ে বিদেশি পর্যবেক্ষকদেরও আগ্রহ রয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সদস্যদের শপথের মাধ্যমে দেশের সংসদীয় যাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান রাজনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, কার্যকর সংসদ এবং গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই শপথ অনুষ্ঠান একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আগামী দিনে সংসদের কার্যক্রম, নীতিনির্ধারণ এবং রাজনৈতিক পরিবেশ কোন দিকে এগোয়—তা নিয়ে দেশজুড়ে নজর থাকবে।

সর্বাধিক পঠিত