বিপিএল ফাইনালে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স নিশ্চিত হলো সিলেট টাইটান্সকে ১২ রানে হারিয়ে। উইলিয়ামসন–নিশামের জুটি ও ফার্নান্দোর বিধ্বংসী বোলিংয়ে জয়ের গল্প।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে উত্তেজনা ক্রমেই চূড়ান্ত রূপ নিচ্ছে। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে নাটকীয় লড়াই শেষে বিপিএল ফাইনালে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স পৌঁছে গেছে, যা তাদের সমর্থকদের জন্য বড় এক সুখবর। সিলেট টাইটান্সকে ১২ রানে হারিয়ে রাজশাহী নিশ্চিত করেছে শিরোপার মঞ্চে জায়গা। এই জয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রাখেন কেন উইলিয়ামসন, জেমস নিশাম এবং ম্যাচসেরা বিনুরা ফার্নান্দো।
এই ম্যাচটি শুধু একটি জয় নয়, বরং রাজশাহীর মানসিক দৃঢ়তা, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং চাপের মুহূর্তে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের দায়িত্ব নেওয়ার এক নিখুঁত উদাহরণ।
বিপিএল ফাইনালে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স: ম্যাচের পূর্ণ চিত্র

বুধবার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। শুরুটা ছিল বেশ আত্মবিশ্বাসী। ওপেনার সাহেবজাদা ফারহান এবং তানজিদ হাসান প্রথম উইকেটে ভালো জুটি গড়ে তোলেন।
ফারহান ২৬ রান এবং তানজিদ ৩২ রান করে দলের ভিত গড়ে দেন। পাওয়ারপ্লে শেষে রাজশাহীর স্কোরবোর্ডে জমা হয় গুরুত্বপূর্ণ রান।
মিডল অর্ডারে ধস, বিপদে রাজশাহী
ভালো শুরুর পর হঠাৎ করেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। এক পর্যায়ে ৭৯ রানে ২ উইকেট থাকা রাজশাহী মাত্র ছয় বলের ব্যবধানে হারায় আরও তিন উইকেট। সিলেট অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ টানা দুই বলে নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমকে ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচে নাটকীয়তা বাড়ান।
এই ধসের সময় রাজশাহী বড় বিপদের মুখে পড়ে। তখনই দায়িত্ব নেন সদ্য দলে যোগ দেওয়া কেন উইলিয়ামসন।
উইলিয়ামসন–নিশামের জুটি বদলে দেয় ম্যাচের গতিপথ
চাপের মুহূর্তে অভিজ্ঞতা যে কতটা মূল্যবান, তা আবারও প্রমাণ করেন কেন উইলিয়ামসন। তিনি একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলেন ধীরস্থির কিন্তু কার্যকর ইনিংস।
উইলিয়ামসন অপরাজিত থাকেন ৩৮ বলে ৪৫ রানে। তার ইনিংসে ছিল একটি চার ও দুটি ছক্কা। অন্য প্রান্তে তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন জেমস নিশাম।
নিশাম ২৬ বলে ৪৪ রান করেন, যেখানে ছিল দুটি ছক্কা ও চারটি চার। ষষ্ঠ উইকেটে তাদের ৭৭ রানের জুটি রাজশাহীর ইনিংসকে আবারও ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনে।
এই জুটিই মূলত বিপিএল ফাইনালে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ওঠার ভিত গড়ে দেয়।
রাজশাহীর সংগ্রহ: লড়াইয়ের পুঁজি
২০ ওভার শেষে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ৯ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৬৫ রান। এই স্কোর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে লড়াই করার মতোই ছিল, বিশেষ করে তাদের বোলিং আক্রমণ বিবেচনায়।
সিলেটের হয়ে সালমান ইরশাদ তিনটি উইকেট নেন। মিরাজ ও নাসুম আহমেদ নেন দুটি করে উইকেট।
বিনুরা ফার্নান্দোর আগুনে শুরু
১৬৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় সিলেট টাইটান্স। শ্রীলঙ্কান পেসার বিনুরা ফার্নান্দো প্রথম দুই ওভারে মাত্র তিন রান দিয়ে তুলে নেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।
তার সুইং ও লাইন-লেন্থ সিলেট ব্যাটারদের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়।
ইমন–বিলিংসের লড়াই
প্রাথমিক ধাক্কা সামলে তৃতীয় উইকেটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন পারভেজ হোসেন ইমন ও স্যাম বিলিংস। তারা ৬৯ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে তোলেন।
ইমন ৩৪ বলে ৪৮ রান করেন, যেখানে ছিল পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কা। অন্যদিকে বিলিংস খেলেন ৩৭ রানের ইনিংস।
কিন্তু ১১তম ওভারে ইমন রানআউট হওয়ার পরই আবার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় রাজশাহীর হাতে।
ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় রাজশাহী
১৪তম ওভারে ফারহানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বিলিংস। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সিলেট।
শেষদিকে বিনুরা ফার্নান্দো আরও দুটি উইকেট তুলে নিয়ে সিলেটের জয়ের সম্ভাবনায় পুরোপুরি ইতি টানেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে সিলেট থামে ৮ উইকেটে ১৫৮ রানে।
এর ফলে বিপিএল ফাইনালে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ১২ রানের রুদ্ধশ্বাস জয় নিশ্চিত করে।
ম্যাচসেরা বিনুরা ফার্নান্দো
১৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন বিনুরা ফার্নান্দো। তার বোলিংই মূলত রাজশাহীর জয়ের ভিত শক্ত করে দেয়।
ফাইনালের অপেক্ষা: চট্টগ্রাম রয়্যালস বনাম রাজশাহী
আগামী ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বিপিএল ফাইনাল। সেখানে রাজশাহীর প্রতিপক্ষ চট্টগ্রাম রয়্যালস। দুই দলের সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় ফাইনাল ম্যাচটি হতে যাচ্ছে অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ।
বিপিএলের সর্বশেষ সূচি ও অফিসিয়াল তথ্যের জন্য দেখা যেতে পারে
এই জয় রাজশাহীর ড্রেসিংরুমে বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগাবে। বিশেষ করে উইলিয়ামসনের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের উপস্থিতি এবং ফার্নান্দোর ধারাবাহিক বোলিং ফাইনালের আগে বড় শক্তি হয়ে উঠছে।




