চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স হয়ে উঠল বিপিএলের নতুন শিরোপাধারী। ফাইনালে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল রাজশাহী।
চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স—এই নামটাই এখন বিপিএল ক্রিকেটপ্রেমীদের মুখে মুখে। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জমজমাট ফাইনালে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপুটে পারফরম্যান্সে একপ্রকার একতরফা ম্যাচ উপহার দেয় দলটি।
টস জিতে চট্টগ্রাম রয়্যালস রাজশাহীকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত যে ফাইনালের মোড় ঘুরিয়ে দেবে, তা হয়তো তখন কেউ ভাবেনি। ব্যাট হাতে রাজশাহীর ব্যাটাররা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে থাকেন।
রাজশাহীর ইনিংস: তানজিদের শতকে শক্ত ভিত
ব্যাটিংয়ে নেমেই উড়ন্ত সূচনা পায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও ফারহান সাহিবজাদা মিলে গড়েন ৮৩ রানের জুটি। ফারহান ৩০ বলে ৩০ রান করে ফিরে গেলেও দলের রানরেট তখন চট্টগ্রামের নাগালের বাইরে।
এরপর দ্বিতীয় উইকেটে তানজিদের সঙ্গে যোগ দেন কেন উইলিয়ামসন। দুজনের জুটিতে আসে আরও ৪৭ রান। উইলিয়ামসন ১৫ বলে ২৪ রান করে শরিফুল ইসলামের বলে আউট হলেও তানজিদের ব্যাটে তখন আগুন ঝরছিল।
চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স-এর জয়ের নায়ক তানজিদ
ফাইনালের মঞ্চে নিজের সেরাটা তুলে ধরেন তানজিদ হাসান তামিম। বাঁহাতি এই ওপেনার ৬২ বলে করেন অনবদ্য ১০০ রান। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ছয়টি চার ও সাতটি বিশাল ছয়ে। এটি ছিল চলতি আসরে তার চতুর্থ সেঞ্চুরি।
এই শতকের মাধ্যমে বিপিএল ফাইনালে তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন তানজিদ। এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন ক্রিস গেইল ও তামিম ইকবাল। এমন ঐতিহাসিক ইনিংস রাজশাহীকে এনে দেয় শক্ত ভিত।
২০ ওভার শেষে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স তোলে ১৭৪ রান।
চট্টগ্রামের বোলিং: চেষ্টা ছিল, সফলতা কম
চট্টগ্রাম রয়্যালসের হয়ে বোলিংয়ে কিছুটা আলো ছড়ান শরিফুল ইসলাম ও মুকিদুল ইসলাম। দুজনই দুটি করে উইকেট শিকার করেন। তবে ফাইনালের চাপ আর রাজশাহীর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সামনে অন্য বোলাররা ছিলেন অনেকটাই অসহায়।
রান তাড়ায় ধসে পড়ে চট্টগ্রাম রয়্যালস
১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে চট্টগ্রাম রয়্যালস। দলীয় মাত্র ১৮ রানে ফিরে যান দুই ওপেনার। মোহাম্মদ নাঈম শেখ ৯ রান করে আউট হন। আর মাহমুদুল হাসান জয় কোনো রান ছাড়াই ফিরে যান সাজঘরে।
এরপর হাসান নেওয়াজ ৭ বলে ১১ রান করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। দ্রুত উইকেট হারানোয় চট্টগ্রাম শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়।
মাঝের ওভারে ধীরগতির ব্যাটিং
চতুর্থ উইকেটে মির্জা বেগ ও জাহিদুজ্জামান কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে তাদের ব্যাটিং ছিল বেশ ধীরগতির। জাহিদুজ্জামান ১৩ বলে ১১ রান করে আউট হন। মির্জা বেগ করেন ৩৬ বলে ৩৯ রান।
এই ধীরগতির ব্যাটিংয়ের ফলে ম্যাচটি পুরোপুরি চট্টগ্রামের হাতছাড়া হয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত পুরো দল গুটিয়ে যায় মাত্র ১১১ রানে।
ইতিহাসে দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স

এই জয়ের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স তাদের বিপিএল ইতিহাসে দ্বিতীয় শিরোপা জিতে নেয়। এর আগে ২০১৯–২০ মৌসুমে রাজশাহী রয়্যালস নামে প্রথম শিরোপা জিতেছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
বিপিএলের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত—
-
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স: ৪ বার চ্যাম্পিয়ন
-
ঢাকা: ৩ বার
-
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স: ২ বার
-
বরিশাল: ২ বার
-
রংপুর রাইডার্স: ১ বার
রাজশাহীর দলগত শক্তিই পার্থক্য গড়েছে
এই ফাইনালে রাজশাহীর জয় শুধু তানজিদের শতকের কারণে নয়। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দলটি ছিল ভারসাম্যপূর্ণ। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে রাজশাহী।
বিশেষ করে বড় ম্যাচে চাপ সামলানোর ক্ষমতাই চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স-কে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
বিপিএলের ভবিষ্যৎ ও রাজশাহীর বার্তা
এই শিরোপা জয় রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের জন্য শুধু ট্রফি নয়, ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্ত বার্তাও। তরুণ ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস, দেশি-বিদেশি তারকাদের অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে রাজশাহী এখন বিপিএলের শক্তিশালী ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর একটি।




