প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপি জামায়াত এনসিপির বৈঠক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আশা ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপি জামায়াত এনসিপির বৈঠক বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শনিবার সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠক রাজনীতির অন্দরমহলে নানা প্রশ্ন, প্রত্যাশা ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে একসঙ্গে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধি দলের বৈঠক—এমন দৃশ্য সাম্প্রতিক সময়ে বিরল। বিশেষ করে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এই বৈঠককে অনেকেই “টার্নিং পয়েন্ট” হিসেবে দেখছেন।
শনিবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুরু হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বৈঠকে তিনটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দুইজন করে প্রতিনিধি অংশ নেন।
রাজনৈতিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকটি ছিল পূর্বনির্ধারিত হলেও সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার কারণে এর গুরুত্ব বহুগুণে বেড়ে যায়।
কারা কারা অংশ নিয়েছেন
বিএনপি প্রতিনিধি
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান—
-
সালাহউদ্দিন আহমদ (স্থায়ী কমিটির সদস্য)
-
মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ
জামায়াতে ইসলামী প্রতিনিধি
-
মিয়া গোলাম পরওয়ার (সেক্রেটারি জেনারেল)
-
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের (সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল)
এনসিপি প্রতিনিধি
-
নাহিদ ইসলাম (আহ্বায়ক)
-
হাসনাত আব্দুল্লাহ (মুখ্য সংগঠক, দক্ষিণাঞ্চল)
এই প্রতিনিধিত্ব প্রমাণ করে যে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপি জামায়াত এনসিপির বৈঠক ছিল রাজনৈতিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ ও কৌশলগত।
বৈঠকের সম্ভাব্য আলোচ্য বিষয়

তাৎক্ষণিকভাবে বৈঠকের পূর্ণ আলোচ্যসূচি প্রকাশ না হলেও রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় উঠে আসতে পারে—
-
দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি
-
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি
-
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন
-
রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিরাপত্তা
-
বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ভূমিকা
এই বিষয়গুলো বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রভাব
বৈঠকের পেছনে অন্যতম বড় প্রেক্ষাপট হলো ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনা।
শুক্রবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে তাকে গুলি করা হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের মতে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এই ঘটনার পরই রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
প্রধান উপদেষ্টার কড়া অবস্থান
এই হামলার প্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শুক্রবারই জরুরি বৈঠক করেন উপদেষ্টা পরিষদ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন—
“এই হামলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে অন্যতম উদ্বেগজনক ঘটনা। এটি দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় সুপরিকল্পিত আঘাত।”
তিনি আরও বলেন, পরাজিত শক্তি দেশের অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জ করছে এবং এ ধরনের অপশক্তির আঘাত কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
এই বক্তব্য প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপি জামায়াত এনসিপির বৈঠককে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন—
-
এটি কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়
-
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে
-
জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর সরাসরি সংলাপ রাজনৈতিক উত্তেজনা কমাতে পারে।
ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলতে পারে
এই বৈঠকের মাধ্যমে—
-
রাজনৈতিক সংলাপের দরজা খুলতে পারে
-
সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐকমত্য তৈরি হতে পারে
-
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আস্থা বাড়তে পারে
তবে সবকিছুই নির্ভর করবে আলোচনার বাস্তব বাস্তবায়নের ওপর।
সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপি জামায়াত এনসিপির বৈঠক বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। সহিংসতা, নির্বাচন ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে এই সংলাপ ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে।
তবে এই বৈঠক কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও বাস্তব পদক্ষেপের ওপর। Shikor TV Canada এই বিষয়টির সর্বশেষ আপডেট আপনাদের সামনে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।




