শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে ৪৪ জেলা। ভয়াবহ ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত জনজীবন। আবহাওয়া অফিস জানাল আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে ৪৪ জেলা। হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় কাবু হয়ে পড়েছে দেশের জনজীবন। টানা কয়েক দিন ধরে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। একই সঙ্গে সারা দেশে ঘন কুয়াশার দাপট বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এতে বলা হয়, সাময়িকভাবে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও সারাদেশে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে। তবে শীতের তীব্রতা কমার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।
কোন কোন জেলায় শৈত্যপ্রবাহ চলছে
বর্তমানে শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে ৪৪ জেলা, যা দেশের বড় একটি অংশকে প্রভাবিত করছে। এসব জেলার মধ্যে রয়েছে—

টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লা।
এ ছাড়া রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের আটটি জেলা, খুলনা বিভাগের ১০টি জেলা এবং বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, এই শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
শীতের এই প্রবাহে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। অনেক এলাকায় কাজে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
ঘন কুয়াশার সতর্কতা
শৈত্যপ্রবাহের পাশাপাশি কুয়াশা পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কোথাও কোথাও এই কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
বিশেষ করে নদী অববাহিকা এলাকায় কুয়াশার ঘনত্ব বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে সড়ক, নৌ ও আকাশপথে চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
তাপমাত্রার সর্বশেষ অবস্থা
শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে ৪৪ জেলা—এর অন্যতম কারণ হচ্ছে নিম্ন তাপমাত্রা। বুধবার সকাল ৬টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নওগাঁয়, মাত্র ৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। যদিও এই সামান্য উষ্ণতা শীতের তীব্রতা কমাতে যথেষ্ট নয়।
আগামী ৫ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস
বৃহস্পতিবার
অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। বিরাজমান শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শুক্রবার
শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকার পাশাপাশি কুয়াশার দাপটও থাকবে। এ দিন দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, যা শীত আরও বাড়াতে পারে।
শনিবার
নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা যেতে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
রবিবার
সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমার আশঙ্কা রয়েছে। শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে।
বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে আবহাওয়ায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
সিনপটিক পরিস্থিতি কী বলছে
আবহাওয়া অফিসের সিনপটিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ একই এলাকায় অবস্থান করছে।
এই লঘুচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ঘনীভূত হতে পারে। পাশাপাশি উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থান করছে। এর ফলেই শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা বাড়ছে।
এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুসরণ করা যেতে পারে
জনজীবনে প্রভাব ও করণীয়
শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে ৪৪ জেলা—এই বাস্তবতায় জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। গ্রামাঞ্চলে শীতবস্ত্রের সংকট দেখা দিয়েছে। হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন—
-
শিশু ও বয়স্কদের অতিরিক্ত যত্ন নেওয়া
-
ভোর ও রাতের ঠান্ডা এড়িয়ে চলা
-
পর্যাপ্ত গরম কাপড় ব্যবহার
-
কুয়াশার সময় যানবাহন চালাতে সতর্কতা
শীতের এই কঠিন সময়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সচেতনতা থাকলেই শৈত্যপ্রবাহের ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।




