আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ইসির বৈঠক আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে ইসি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সম্ভাব্য গণভোটকে সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ইসির বৈঠক আজ রোববার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনকালীন সার্বিক নিরাপত্তা, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে দেশের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ আইন-শৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। ফলে নির্বাচনের মাঠে বাহিনীগুলোর সমন্বয় ও প্রস্তুতি নিয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচন সামনে রেখে নিরাপত্তা ইস্যুতে বাড়তি গুরুত্ব

নির্বাচন কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১১ জানুয়ারি সকাল ৯টায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন ঘিরে যেকোনো ধরনের সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা গুজব মোকাবিলায় আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার লক্ষ্যেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ইসির বৈঠক আয়োজন করা হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ইসির বৈঠক কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই বৈঠক থেকে অন্তত ৭টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে—
-
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা বলয় শক্তিশালী করা
-
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিতকরণ
-
সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের কৌশল
-
গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান
-
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নজরদারি
-
গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধ
-
জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা
এই কারণেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ইসির বৈঠক নির্বাচনপূর্ব সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক উদ্যোগগুলোর একটি।
বৈঠকে কারা কারা উপস্থিত থাকছেন
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন—
-
সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার
-
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক
-
কোস্ট গার্ড মহাপরিচালক
-
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)
-
র্যাব মহাপরিচালক
-
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) মহাপরিচালক
-
এনএসআই ও ডিজিএফআই প্রধান
-
জাতীয় টেলিযোগাযোগ মনিটরিং সেন্টার (NTMC) মহাপরিচালক
সব মিলিয়ে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রায় সব স্তরের প্রতিনিধিরা এই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ইসির বৈঠক-এ অংশ নিচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির বর্তমান অবস্থা
ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদ, সীমানা নির্ধারণ এবং আচরণবিধি বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নিয়েছে। তবে বাস্তব মাঠে শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এ কারণে এই বৈঠকে বাহিনীগুলোর দায়িত্ব বণ্টন, চেইন অব কমান্ড এবং নির্বাচনকালীন ক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা ও ডিজিটাল নজরদারি
বর্তমান সময়ে গুজব ও অপপ্রচার বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ইসির বৈঠক-এ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মনিটরিং বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশেষ করে—
-
ফেসবুক
-
ইউটিউব
-
টিকটক
-
হোয়াটসঅ্যাপ
এসব মাধ্যমে নির্বাচনবিরোধী অপপ্রচার রোধে এনটিএমসি ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইসির নির্দেশনা
বিগত নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে, কিছু এলাকায় সহিংসতার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই ইসি চাইছে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করতে।
এই বৈঠক থেকেই—
-
কোন এলাকায় কত বাহিনী
-
কোন সময় মোতায়েন
-
কতদিন থাকবে
এসব বিষয়ে একটি খসড়া পরিকল্পনা চূড়ান্ত হতে পারে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও ইসির অবস্থান
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে নির্বাচন আয়োজন করতে চায়। এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষতা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল তথ্য থেকে।
সাধারণ ভোটারদের জন্য কী বার্তা আসতে পারে
এই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ইসির বৈঠক শেষে ভোটারদের জন্য স্পষ্ট বার্তা আসতে পারে—
-
ভোট দিতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই
-
নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে
-
যেকোনো অভিযোগ দ্রুত আমলে নেওয়া হবে
ফলে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই বৈঠক ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া
যদিও বৈঠকটি প্রশাসনিক, তবে রাজনৈতিক দলগুলোও এর দিকে নজর রাখছে। কারণ নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রাজনৈতিক আস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই বৈঠক থেকেই নির্বাচনের মাঠের বাস্তব চিত্র অনেকটাই স্পষ্ট হবে।
সামনে কী হতে পারে
বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং আসতে পারে। সেখানে হয়তো—
-
বাহিনী মোতায়েনের সময়সূচি
-
আচরণবিধি বাস্তবায়নের কৌশল
-
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার নির্দেশনা
এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ইসির বৈঠক একটি সময়োপযোগী ও কৌশলগত উদ্যোগ। এই বৈঠকের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, ভোটের মাঠ কতটা শান্ত ও গ্রহণযোগ্য হবে।
Shikor TV Canada এই বৈঠক-পরবর্তী সব আপডেট নিয়মিত তুলে ধরবে। চোখ রাখুন আমাদের সঙ্গে।




