ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে অর্থ দিয়েছিলেন এপস্টেইন, মার্কিন বিচার বিভাগের নথিতে উঠে এলো এপস্টেইনের ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে অর্থায়ন ও বসতি কার্যক্রমে অনুদানের বিস্ফোরক তথ্য। বিস্তারিত পড়ুন।
মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত নথিতে জেফরি এপস্টেইনের ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে অর্থায়ন এবং ফিলিস্তিনি ভূমিতে বসতি স্থাপন কার্যক্রমে তার আর্থিক সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে এসেছে। আনাদোলু এজেন্সির বরাতে প্রকাশিত এই নথিগুলো নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে, কারণ এপস্টেইন ছিলেন অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত একজন আলোচিত বিলিয়নেয়ার।
এই তথ্যগুলো সামনে আসার মূল কারণ হলো, এপস্টেইন মৃত্যুর পরও তার আর্থিক লেনদেন ও রাজনৈতিক-সামাজিক সংযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থার প্রকাশিত দলিল।
মার্কিন বিচার বিভাগের নথিতে যা বলা হয়েছে
মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) সম্প্রতি যে নথিগুলো প্রকাশ করেছে, সেখানে ২০০৫ সালে দাখিল করা জেফরি এপস্টেইনের করসংক্রান্ত দলিলের উল্লেখ রয়েছে। এসব দলিল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তিনি একাধিক ইসরায়েলি ও ইহুদি সংগঠনে অনুদান প্রদান করেছিলেন।
নথিগুলো অনুযায়ী, এই অনুদানগুলো শুধু দাতব্য পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এর সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং দখলদার বসতি কার্যক্রমের আর্থিক সংযোগের অভিযোগ উঠে এসেছে।
২০০৫ সালের করনথিতে এপস্টেইনের অনুদান

২০০৫ সালের করনথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, জেফরি এপস্টেইন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অর্থ প্রদান করেন। নথি অনুযায়ী:
-
২০০৫ সালের ৩ মার্চ, তিনি ‘ফ্রেন্ডস অব দ্য ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF)’–এ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দেন।
-
একই বছরে তিনি ‘জিউইশ ন্যাশনাল ফান্ড’–এ ১৫ হাজার ডলার প্রদান করেন। এই সংস্থাটি পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের অর্থায়ন করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
-
পাশাপাশি ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অব জিউইশ উইমেন’–এ তিনি আরও ৫ হাজার ডলার অনুদান দেন।
এই আর্থিক লেনদেনগুলোর মাধ্যমেই এপস্টেইনের ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে অর্থায়ন সংক্রান্ত বিতর্ক নতুন করে সামনে আসে।
বিতর্কিত ইমেইল: ফিলিস্তিন নিয়ে এপস্টেইনের দাবি
নথিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যুক্ত হয়েছে—২০১২ সালের ২০ মে তারিখে পাঠানো এপস্টেইনের একটি ইমেইল। ওই ইমেইলে তিনি দাবি করেন, ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিন কখনো অস্তিত্বশীল রাষ্ট্র ছিল না।
ইমেইলে এপস্টেইনের বক্তব্যের সারমর্ম ছিল—
ফিলিস্তিন কখনো একচেটিয়াভাবে আরবদের দেশ ছিল না এবং সপ্তম শতকে মুসলিম অভিযানের পর ধীরে ধীরে আরবি ভাষা সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ভাষা হয়ে ওঠে। তিনি আরও লেখেন, ফিলিস্তিনে কখনো কোনো স্বাধীন আরব বা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ছিল না।
এই বক্তব্যগুলো নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে তার আর্থিক অনুদানের প্রেক্ষাপটে।
এপস্টেইনের মৃত্যু ও চলমান তথ্য উন্মোচন
জেফরি এপস্টেইন ২০১৯ সালে কারাগারে বিচারাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জড়িত করে একটি যৌন পাচার নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগ ছিল। মৃত্যুর পরও তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ, সংযোগ এবং আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে একের পর এক নথি প্রকাশ পাচ্ছে।
নতুন প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, তার মৃত্যুর বহু আগেই বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পর্কিত তথ্যও নথিতে
নতুন নথিতে এপস্টেইনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পর্কেও কিছু তথ্য উঠে এসেছে। এফবিআইয়ের একটি নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ১২ আগস্ট তারিখে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এসব বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
যদিও এই অংশে বিস্তারিত তথ্য নেই, তবে এপস্টেইনকে ঘিরে তদন্তের বিস্তার ও গভীরতা বোঝাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও গণমাধ্যমের নজর
আনাদোলু এজেন্সির প্রকাশিত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী, পশ্চিম তীরের বসতি কার্যক্রম এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের অর্থায়ন—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে উঠে আসায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।




