ফেব্রুয়ারির শৈত্যপ্রবাহ পূর্বাভাস অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু শীত, কুয়াশা ও অন্তত ২ দিন বজ্রসহ বৃষ্টি বা শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ফেব্রুয়ারির শৈত্যপ্রবাহ পূর্বাভাস অনুযায়ী দেশজুড়ে শীতের তীব্রতা সাময়িকভাবে কমলেও পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছে না। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে দেশের উত্তর, পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে মাসজুড়ে অন্তত দুই দিন বজ্রসহ বৃষ্টি অথবা শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে। এই পূর্বাভাস দেশের কৃষি, জনজীবন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফেব্রুয়ারির শৈত্যপ্রবাহ পূর্বাভাস: কী জানালো আবহাওয়া বিভাগ
গতকাল রবিবার প্রকাশিত দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়, ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাত কম হতে পারে। তবে বৃষ্টিপাত কম হলেও পুরো মাসজুড়ে আবহাওয়া একরকম থাকবে না। বিশেষ করে মাসের প্রথমার্ধে শীতের একটি নতুন ধাপ দেখা দিতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের উত্তর, পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে একটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এটিকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ না বলা হলেও, শীতজনিত ভোগান্তি কিছু এলাকায় বাড়তে পারে।
কোন কোন অঞ্চলে শীতের প্রভাব বেশি পড়তে পারে

আবহাওয়া পূর্বাভাসে অঞ্চলভিত্তিক চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে—
-
উত্তরাঞ্চল, পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল: শৈত্যপ্রবাহের প্রধান প্রভাব পড়তে পারে
-
নদী অববাহিকা এলাকা: মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা
-
দেশের অন্যান্য অঞ্চল: হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা যেতে পারে
এই পরিস্থিতিতে সকালবেলা সড়ক ও নৌপথে চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
কুয়াশা ও দৃশ্যমানতা: বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন
পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, নদী অববাহিকায় মাঝারি বা ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হালকা অথবা মাঝারি ধরনের কুয়াশা দেখা দিতে পারে। কুয়াশার কারণে ভোর ও সকালের দিকে দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে, যা যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চ ও নৌযানগুলোর ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাপমাত্রার ওঠানামা: শীত কমলেও পুরোপুরি শেষ নয়
যদিও শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে, তবে সামগ্রিকভাবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী—
-
দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকতে পারে
-
শীতের তীব্রতা আগের মতো দীর্ঘস্থায়ী হবে না
-
তবুও নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় শীতের প্রভাব টের পাওয়া যাবে
এই বৈপরীত্যপূর্ণ আবহাওয়াই ফেব্রুয়ারি মাসের বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
বজ্রবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি: কোন সময় হতে পারে
আবহাওয়া পূর্বাভাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো বজ্রবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা। এতে বলা হয়েছে—
-
ফেব্রুয়ারি মাসে অন্তত ১–২ দিন
-
দেশের কোথাও কোথাও
-
বজ্রসহ বৃষ্টি অথবা শিলাসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে
বিশেষ করে মাসের শেষার্ধে এ ধরনের আবহাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
কৃষি ও নদী পরিস্থিতি নিয়ে পূর্বাভাস
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হলেও প্রধান নদীগুলোতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বজায় থাকতে পারে। এটি কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার জন্য একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে বজ্রবৃষ্টি বা শিলাবৃষ্টি হলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় কৃষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপ নিয়ে কী বলা হয়েছে
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে উপকূলীয় এলাকার জন্য এটি কিছুটা স্বস্তির খবর।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ফেব্রুয়ারির শৈত্যপ্রবাহ পূর্বাভাস
এই ফেব্রুয়ারির শৈত্যপ্রবাহ পূর্বাভাস গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কারণে—
-
শীতজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে আগাম সতর্কতা
-
কৃষি ও ফসল ব্যবস্থাপনায় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ
-
কুয়াশা ও বজ্রবৃষ্টিজনিত যোগাযোগ ঝুঁকি কমানো
-
নদী ও নৌপথ ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা বৃদ্ধি
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে আবহাওয়া পূর্বাভাস
বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার ধরণ ও মৌসুমি পরিবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বৈশ্বিক আবহাওয়া প্রবণতা বুঝতে ফেব্রুয়ারির শৈত্যপ্রবাহ পূর্বাভাস নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ দেখতে চাইলে BBC Weather–এর প্রতিবেদন সহায়ক হতে পারে।




