ফিলিস্তিনের গাজা অঞ্চলের পুনর্গঠন এবং মানবিক সংকট মোকাবেলায় গাজা পুনর্গঠন সহায়তা চীন ঘোষণা করেছে ১০ কোটি ডলারের গুরুত্বপূর্ণ অনুদান। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানায়।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে একটি চিঠি প্রেরণ করেছেন। চিঠিতে ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকার সমর্থন এবং পশ্চিম তীর ও গাজায় ইসরাইলি দখলদারিত্ব কমানোর ক্ষেত্রে চীনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে।
চীনের অনুদানের প্রেক্ষাপট
বেইজিংয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই ১০ কোটি ডলারের অনুদানের ঘোষণা দেন। গাজা পুনর্গঠন সহায়তা চীন-এর এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিকভাবে মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে বড় গুরুত্ব বহন করে।
সিনহুয়া সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, চীনা প্রেসিডেন্ট শি ফ্রান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে ফিলিস্তিনি ইস্যুর জন্য সর্বসম্মত, ন্যায়সংগত ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে চান। দুই দেশের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি, পারস্পরিক সহায়তা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের রাজনৈতিক ভিত্তি অটুট রাখার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন।

আন্তর্জাতিক সমর্থন ও দ্বিরাষ্ট্র সমাধান
গত সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সহ-সভাপতিত্ব করেন। সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল দ্বিরাষ্ট্র সমাধান এবং একটি স্বীকৃত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার করা। এই প্রেক্ষাপটেই চীনের ১০ কোটি ডলারের অনুদান মানবিক সহায়তা এবং পুনর্গঠন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে।
মানবিক প্রভাব
গাজা অঞ্চলের জন্য এই সহায়তা কেবল অর্থনৈতিক নয়, মানবিক সংকট লাঘবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। স্থানীয় স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে এই অনুদান ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।
ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা WAFA জানিয়েছে, চীনের পদক্ষেপে ফিলিস্তিন জনগণকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দিকে একটি বড় ধাপ এগিয়ে যাবে।




