এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (27)
বিজিবির নতুন ৩০২৩ সদস্য শপথ: নিলেন দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষার
Shikor Web Image (24)
বিএনপি গণভোটে হ্যাঁ ভোট সিদ্ধান্ত: নজরুল ইসলাম খান
Shikor Web Image (23)
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লাখ সদস্য: দায়িত্বে থাকবে বললেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
Shikor Web Image (19)
জনগণের আস্থা তৈরি করার দায়িত্ব রাজনীতিবিদদেরই: আমীর খসরু
Shikor Web Image (8)
১১ দলীয় জোট আসন সমঝোতা: জামায়াত লড়বে কত আসনে?

গণভোট সচেতনতা কর্মসূচি নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন

গণভোট সচেতনতা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার ৮ বিভাগে প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভা করছে। ভোটারদের সচেতন করতে চলছে শক্তিশালী উদ্যোগ।

গণভোট সচেতনতা কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেশজুড়ে ব্যাপক ও পরিকল্পিত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তৃণমূল পর্যায়ে গণভোট সম্পর্কে বিদ্যমান বিভ্রান্তি দূর করা এবং ভোটারদের মধ্যে স্পষ্ট ধারণা তৈরি করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে সরকার একটি সমন্বিত সচেতনতা কাঠামো গড়ে তুলছে।

এই গণভোট সচেতনতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বিভাগীয় পর্যায়ে একাধিক সভা, প্রশিক্ষণ এবং মতবিনিময় আয়োজন করা হয়েছে। সর্বশেষ বরিশালে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় কর্মকর্তা সম্মেলন ও ইমাম সম্মেলনের মধ্য দিয়ে কার্যক্রমটি আরও গতি পেয়েছে।

গণভোট সচেতনতা কর্মসূচি: কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার?

গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। তবে বাস্তবতায় দেখা যায়, অনেক ভোটারই গণভোটের উদ্দেশ্য, পদ্ধতি এবং প্রভাব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখেন না। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই গণভোট সচেতনতা কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে—

  • ভোটারদের বিভ্রান্তি দূর করা

  • গণভোটের সাংবিধানিক গুরুত্ব তুলে ধরা

  • অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র জোরদার করা

  • ভুয়া তথ্য ও গুজব প্রতিরোধ করা

এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে।

বরিশালে বিভাগীয় কর্মকর্তা ও ইমাম সম্মেলন

রোববার বরিশালে অনুষ্ঠিত হয় বিভাগীয় কর্মকর্তা সম্মেলন ও ইমাম সম্মেলন। এই আয়োজনে গণভোট সচেতনতা কর্মসূচি বিষয়ে প্রশিক্ষণমূলক বক্তব্য দেন—

  • অধ্যাপক আলী রীয়াজ
    (প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী, উপদেষ্টা পদমর্যাদা)

  • মনির হায়দার
    (বিশেষ সহকারী)

তাঁরা গণভোটের আইনগত কাঠামো, ভোটারদের ভূমিকা এবং সচেতনতার কৌশল তুলে ধরেন।

ধর্মীয় নেতাদের যুক্ত করার কৌশল

গণভোট সচেতনতা কর্মসূচিতে ধর্মীয় নেতাদের যুক্ত করা হয়েছে একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে। কারণ—

  • মসজিদভিত্তিক প্রচারণা দ্রুত পৌঁছায়

  • ধর্মীয় নেতারা সমাজে বিশ্বাসযোগ্য

  • গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁদের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে

এই কারণে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে।

কারা আয়োজন করছে এই কর্মসূচি?

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই গণভোট সচেতনতা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

আয়োজক সংস্থাসমূহ:

  • বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়

  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন

  • সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রশাসন

এই সমন্বিত উদ্যোগ কর্মসূচিটিকে আরও কার্যকর করেছে।

৮ বিভাগে গণভোট সচেতনতা কর্মসূচির সময়সূচি

সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গণভোট সচেতনতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভাগীয় পর্যায়ে ইমাম সম্মেলন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে—

  • ১২ জানুয়ারি – রাজশাহী

  • ১৪ জানুয়ারি – রংপুর

  • ১৫ জানুয়ারি – চট্টগ্রাম

  • ১৭ জানুয়ারি – ঢাকা

  • ১৯ জানুয়ারি – ময়মনসিংহ

  • ২২ জানুয়ারি – সিলেট

  • ২৪ জানুয়ারি – খুলনা

এই সময়সূচি অনুযায়ী পুরো দেশকে একটি কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে।

মতবিনিময় সভায় কারা থাকছেন?

গণভোট সচেতনতা কর্মসূচির আওতায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভাগুলোতে অংশ নিচ্ছেন—

  • বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা

  • বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও সিনিয়র শিক্ষক

  • বিশিষ্ট সাংবাদিক ও প্রেসক্লাব নেতারা

  • দোকান মালিক সমিতির প্রতিনিধি

  • এনজিও প্রধান ও সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধি

  • ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ

  • অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ

এতে সমাজের প্রায় সব স্তরের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।

মাঠপর্যায়ে গণভোট সচেতনতা কীভাবে বাড়বে?

এই গণভোট সচেতনতা কর্মসূচির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মাঠপর্যায়ের বাস্তব প্রয়োগ।

বাস্তবায়নের কৌশল—

  • প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা দ্বারা স্থানীয় সভা

  • ধর্মীয় খুতবা ও আলোচনায় গণভোট প্রসঙ্গ

  • স্থানীয় গণমাধ্যমে তথ্যভিত্তিক প্রচার

  • গুজব মোকাবিলায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া

এই পদ্ধতিগুলো ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

গণভোট ও গণতন্ত্র: দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব

গণভোট সচেতনতা কর্মসূচি শুধু একটি তাৎক্ষণিক কার্যক্রম নয়। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রয়েছে—

  • গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী হবে

  • নাগরিক দায়িত্ববোধ বাড়বে

  • ভবিষ্যৎ নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সহায়ক।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও গণভোট

আন্তর্জাতিকভাবে গণভোটকে নাগরিক অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে গণভোটের আন্তর্জাতিক ধারণা নিয়ে তথ্য পাওয়া যাবে

গণভোট সচেতনতা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র গড়ে তোলার পথে এগোচ্ছে। প্রশাসন, ধর্মীয় নেতা এবং সুশীল সমাজের সমন্বিত অংশগ্রহণ এই উদ্যোগকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করেছে। সময়সূচি অনুযায়ী কর্মসূচিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে বলেই আশা করা হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত