আইসিসি প্রতিনিধি দলের ভারতীয় কর্মকর্তা ভিসা পাননি, ঢাকায় আসছেন একক প্রতিনিধি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু সংকট ও বাংলাদেশের অবস্থান জানুন।
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আইসিসি প্রতিনিধি দলের ভারতীয় কর্মকর্তা ভিসা পাননি—এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বাংলাদেশ, ভারত ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ভেন্যু পরিবর্তন, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং কূটনৈতিক জটিলতা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন বেশ সংবেদনশীল।
শনিবার ঢাকায় আসছেন আইসিসির প্রতিনিধি, তবে পূর্বপরিকল্পিত সফরে বড় পরিবর্তন এসেছে। শুরুতে দুজন প্রতিনিধি আসার কথা থাকলেও ভিসা জটিলতার কারণে একজন আসতে পারছেন না। বিসিবি সূত্র জানিয়েছে, আইসিসির যে ভারতীয় কর্মকর্তার আসার কথা ছিল, তাকে বাংলাদেশ সরকার ভিসা দেয়নি। ফলে এই ঝটিকা সফরে একাই ঢাকায় পৌঁছাবেন আইসিসির দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান এন্ড্রু এফগ্রেভ।
এই প্রেক্ষাপটে

আইসিসি প্রতিনিধি দলের ভারতীয় কর্মকর্তা ভিসা পাননি—এই তথ্যটি শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এর প্রভাব পড়তে পারে পুরো বিশ্বকাপের সূচি ও ভেন্যু ব্যবস্থাপনায়।
কেন ঢাকায় আসছে আইসিসি প্রতিনিধি দল
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের সবগুলো গ্রুপ ম্যাচ ভারতের কলকাতা ও মুম্বাইয়ে আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল।
কিন্তু বিসিবি নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ভারতে গিয়ে খেলতে অনীহা প্রকাশ করে। চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে জানানো হয়, বাংলাদেশ দল ভারতে ম্যাচ খেলবে না। এর পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের জোরালো দাবি জানায় বিসিবি।
এই সিদ্ধান্তের বাস্তবতা যাচাই, নিরাপত্তা বিশ্লেষণ এবং সরকারের অবস্থান সরাসরি বোঝার জন্যই আইসিসি এই প্রতিনিধি পাঠিয়েছে।
আইসিসি প্রতিনিধি দলের ভারতীয় কর্মকর্তা ভিসা পাননি: এর প্রভাব কী?
কূটনৈতিক বার্তা
আইসিসি প্রতিনিধি দলের ভারতীয় কর্মকর্তা ভিসা পাননি—এই ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। বিষয়টি শুধুই ক্রিকেট নয়, বরং নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
আলোচনার ভারসাম্য নষ্ট
ভারতীয় কর্মকর্তা না থাকায় আলোচনায় ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি সরাসরি উপস্থাপিত হবে না। ফলে ঢাকার বৈঠকে বিসিবি ও বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব পেতে পারে।
সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব
একক প্রতিনিধি দিয়ে সব পক্ষের সম্মতি আদায় কঠিন হতে পারে। এতে ভেন্যু পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
বিসিবির অবস্থান: শ্রীলঙ্কার দাবিতে অনড়
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অবস্থান পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। তার ভাষায়, নিরাপত্তা বাংলাদেশের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
তিনি আরও জানান, আইসিসি প্রতিনিধির সঙ্গে বোর্ড ও সরকারের একাধিক পর্যায়ে বৈঠক হতে পারে। তবে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের দাবিতে বিসিবি অনড় থাকবে।
সরকারের ভূমিকা ও অনুমোদনের বিষয়
ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, আইসিসি প্রতিনিধির সঙ্গে বিশ্বকাপ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে সরকারপ্রধানের অনুমোদনের পর।
অর্থাৎ, আইসিসি প্রতিনিধি দলের ভারতীয় কর্মকর্তা ভিসা পাননি—এই ঘটনা সরাসরি সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গেই সম্পৃক্ত। যদি সরকারের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে আইসিসিকে বিকল্প পথ খুঁজতেই হবে।
গ্রুপ পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনা
বর্তমান সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ রয়েছে ‘সি’ গ্রুপে। তবে ভেন্যু জটিলতা কাটাতে একটি বিকল্প প্রস্তাব আলোচনায় এসেছে।
বাংলাদেশকে ‘সি’ গ্রুপ থেকে সরিয়ে ‘বি’ গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত করা
আয়ারল্যান্ডের জায়গায় বাংলাদেশ
সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজন
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আইসিসির বোর্ড সভার অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এখানেই আজকের বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পূর্বনির্ধারিত ম্যাচ ও সম্ভাব্য পরিবর্তন
সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ছিল ৯ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ম্যাচসহ পুরো গ্রুপের ভেন্যু নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিসিবি ইতোমধ্যে ভারতের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে নিজেদের বিশ্লেষণ ও গাইডলাইন আইসিসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে ভার্চুয়াল বৈঠকে উপস্থাপন করেছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আইসিসির অবস্থান
আইসিসি সাধারণত সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। অতীতে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে ভেন্যু পরিবর্তনের নজির রয়েছে।
এই বিষয়ে আইসিসির অফিসিয়াল অবস্থান ও নিয়মাবলি জানতে দেখা যেতে পারে তাদের অফিসিয়াল সাইট।
ঢাকায় আইসিসি প্রতিনিধি এন্ড্রু এফগ্রেভের বৈঠকের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। ভেন্যু পরিবর্তন, গ্রুপ পুনর্বিন্যাস কিংবা সূচি সংশোধন—সব সম্ভাবনাই এখন খোলা।
আজকের আলোচনার পর নতুন কোনো বার্তা আসে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গন। একদিকে বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ, অন্যদিকে বিশ্বকাপ আয়োজনের বাস্তবতা—এই দুইয়ের সমন্বয় করাই এখন আইসিসির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।




