ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিধস নিহত নিখোঁজ ঘটনায় পশ্চিম জাভায় ৭ জনের মৃত্যু ও ৮২ জন নিখোঁজ। ভারি বৃষ্টিতে উদ্ধার অভিযান জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।
ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিধস নিহত নিখোঁজ ঘটনায় নতুন করে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটির পশ্চিম জাভা প্রদেশের পশ্চিম বান্দুং অঞ্চলে সংঘটিত ভয়াবহ এই ভূমিধসে অন্তত সাতজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৮২ জন। টানা ভারি বৃষ্টিপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
দেশটির দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিধসের পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হলেও মাটি ও কাদার নিচে চাপা পড়া মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিধস নিহত নিখোঁজ: কীভাবে ঘটলো এই দুর্ঘটনা

পশ্চিম জাভার পাহাড়ি অঞ্চল পশ্চিম বান্দুং দীর্ঘদিন ধরেই ভূমিধসপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। গত এক সপ্তাহ ধরে সেখানে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল। স্থানীয় আবহাওয়া বিভাগ আগেই চরম আবহাওয়ার সতর্কতা জারি করেছিল।
প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে পড়ে। এর ফলেই হঠাৎ করে বিশাল একটি পাহাড়ি ঢাল ধসে পড়ে নিচের বসতিপূর্ণ এলাকায়। মুহূর্তের মধ্যেই ঘরবাড়ি, রাস্তা ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ভূমিধসের সময় অনেক মানুষ ঘুমিয়ে ছিলেন। ফলে তারা পালানোর সুযোগ পাননি। এতে প্রাণহানির মাত্রা বেড়েছে।
নিহত ও নিখোঁজের সর্বশেষ তথ্য
দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র আব্দুল মুহারি জানান, এখন পর্যন্ত সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা ৮২ জনে পৌঁছেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি আরও বলেন,
“নিখোঁজের সংখ্যা অনেক বেশি। উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।”
ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিধস নিহত নিখোঁজ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা একসঙ্গে কাজ করছে।
ভারি বৃষ্টি ও আবহাওয়ার সতর্কতা
পশ্চিম জাভা প্রদেশে গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনেও বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে উদ্ধারকর্মীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় কাদা ও ধ্বংসস্তূপ এতটাই পিচ্ছিল যে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।
উদ্ধার অভিযান কতটা কঠিন
ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিধস নিহত নিখোঁজ ঘটনায় উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে কয়েকটি কারণে—
-
পাহাড়ি দুর্গম এলাকা
-
কাদা ও ধ্বংসস্তূপের স্তর
-
টানা বৃষ্টি
-
বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন
ড্রোন ব্যবহার করে কিছু এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কুকুর দলও কাজে লাগানো হয়েছে। তবে সময় যত যাচ্ছে, নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের আশা তত কমে আসছে।
সাম্প্রতিক সময়ে জাভায় দ্বিতীয় বড় ভূমিধস
মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে এটি জাভা দ্বীপে দ্বিতীয় বড় ভূমিধসের ঘটনা। এর আগে গত ১৩ নভেম্বর, কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টিপাতের পর সিবেউনিং গ্রামে ভূমিধসে ১১ জনের মৃত্যু হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিধস নিহত নিখোঁজ ধরনের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও ভূমিধসের সম্পর্ক
ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, পাহাড় কাটা এবং অপরিকল্পিত বসতি স্থাপনের কারণে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে।
বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টির ধরন বদলে যাচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে অতিবৃষ্টি পাহাড়ি এলাকায় মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনছে।
এই বিষয়ে জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত প্রতিবেদনেও ইন্দোনেশিয়াকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রাখা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের করণীয়
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যাতে মানুষ পাহাড়ি এলাকায় অপ্রয়োজনে না যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে ভূমিধস প্রতিরোধে—
-
পাহাড় কাটা বন্ধ
-
উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা
-
আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার
-
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসতি নিয়ন্ত্রণ
এই পদক্ষেপগুলো জরুরি।
ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিধস নিহত নিখোঁজ ঘটনা আবারও প্রমাণ করলো, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে মানবিক অবহেলা মিললে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কতটা ভয়াবহ হতে পারে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার এবং ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
Shikor TV Canada বিশ্বজুড়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ আপনাদের কাছে নির্ভরযোগ্যভাবে পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।




