আরও খবর

Shikor Web Image (54)
লেবাননে ভবন ধস: নিহত বেড়ে ১৪ জন
Shikor Web Image (50)
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে অর্থ দিয়েছিলেন এপস্টেইন
Shikor Web Image - 2026-02-07T154852.525
ইরানের যুক্তরাষ্ট্র হামলার হুঁশিয়ারি: কোনো কৌশলগত ভুল হলে ওয়াশিংটনের সব ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তুর অন্তর্ভুক্ত হবে
Shikor Web Image - 2026-02-07T153412.556
ইরানকে কোণঠাসা করতে ট্রাম্পের ‘নতুন ফাঁদ’
Shikor Web Image - 2026-02-07T152001.552
পাকিস্তানে মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা: ৩১ জন নিহত সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন পুতিন

ইরান ইস্যুতে নেতানিয়াহু-ট্রাম্প বৈঠক

ইরান ইস্যুতে নেতানিয়াহু-ট্রাম্প বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে ৭ ফেব্রুয়ারি, আলোচনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপুর্ণ সংলাপ।

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও কূটনৈতিক আলোচনার প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি বৈঠকে বসবেন। এই সংক্রান্ত তথ্য শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে প্রকাশ করা হয়। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সমর্থিত জোট ও গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনা।

প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর দফতর এক বিবৃতিতে জানায়, যেকোনো আলোচনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং ইরান সমর্থিত জোট ও গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন বন্ধ করা অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। তিনি মনে করেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বৈঠকের পেছনের প্রেক্ষাপট

টানা কয়েক সপ্তাহের উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শুক্রবার পরোক্ষ পারমাণবিক কূটনৈতিক সংলাপ পুনরায় শুরু করেছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন, যা মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই সংলাপকে “ভালো একটি সূচনা” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক অবিশ্বাস কাটিয়ে ওঠা গেলে আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। এছাড়া, উভয় পক্ষ আগামীতে ওমানের মাসকাটে পুনরায় বৈঠক করার সম্ভাবনাও রাখছে।

তবে আরাগচি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এখন কিংবা ভবিষ্যতে আলোচনার বিষয় নয়। এটি ইরানের প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত বিষয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইরান ইস্যুতে নেতানিয়াহু-ট্রাম্প বৈঠকের প্রধান বিষয়

এই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো:

  • ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি: নেতানিয়াহু বিশ্বাস করেন যে, আন্তর্জাতিক সংলাপে এ বিষয়ে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা আবশ্যক।

  • মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সমর্থিত জোট ও গোষ্ঠীর ভূমিকা: নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য এই গোষ্ঠীর কার্যক্রম সীমিত করা প্রয়োজন।

  • কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা হ্রাস: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।

এই বৈঠকটি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা এবং ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ ও ভবিষ্যত সম্ভাবনা

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংলাপ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যেই ওমানের মাসকাটে উভয় পক্ষের আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।

আব্বাস আরাগচি বলেন, “যদি পারস্পরিক অবিশ্বাস কাটানো যায়, তবে সংলাপের মাধ্যমে সম্পর্ক উন্নয়ন সম্ভব।” যদিও তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কখনো আলোচনার অংশ হবে না, এটি ইরানের রক্ষার উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে।

এই আলোচনার ফলে ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা হ্রাস এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটতে পারে।

ইরান ইস্যুতে নেতানিয়াহু-ট্রাম্প বৈঠক: আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

বৈঠক সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও এ বিষয়ে নজর রেখেছে। BBC এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ইস্যুতে নেতানিয়াহু-ট্রাম্প বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি এবং নিরাপত্তা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রাখছে।

সদ্য প্রকাশিত বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, “ইরানের ব্যালিস্টিক কর্মসূচি এবং সমর্থিত গোষ্ঠীর কার্যক্রম সীমিত না করলে নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।”

এই বৈঠক শুধু যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের জন্য নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন:

  • ইরান ইস্যুতে নেতানিয়াহু-ট্রাম্প বৈঠক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে এটি নির্মাণমূলক পদক্ষেপ হতে পারে।

  • আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এ বৈঠকের প্রতি থাকবে।

সংক্ষেপে, এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত