এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image - 2026-03-12T152436.301
হিজবুল্লাহর ১৫০ রকেট, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল; ভয়ংকর রাত দেখল ইসরায়েল
Shikor Web Image - 2026-03-12T151110.281
ট্রাম্পের ঘোষণা: যুক্তরাষ্ট্রে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তেল শোধনাগার নির্মাণ, বিনিয়োগে রিলায়েন্সের নাম
Shikor Web Image (92)
হরমুজ প্রণালি দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প
Shikor Web Image (89)
১১টি অত্যাধুনিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি ৩৩০ মিলিয়ন ডলার
Shikor Web Image (86)
নেতানিয়াহু এখন কোথায়?

কুয়েতে হামলা চালিয়ে শতাধিক মার্কিন সেনাকে আহত করার দাবি ইরানের

কুয়েতে হামলা চালিয়ে শতাধিক মার্কিন সেনাকে আহত করার দাবি ইরানের। হামলার সময় আল-উদাইরি ঘাঁটি ও পঞ্চম নৌবহরের অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু ছিল।

কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ‘আল-উদাইরি’ লক্ষ্য করে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) ‘ইরানের কুয়েত হামলা’ চালিয়েছে। আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ জানায়, পবিত্র রমজান মাসের ২১তম রাতে ‘ট্রু প্রমিজ ফোর’ অভিযানের অংশ হিসেবে এই হামলা বাস্তবায়িত হয়। এই ঘটনায় অন্তত ১০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছে, যাদের দ্রুত আল-জাবের এবং আল-মুবারক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ইয়া হায়দার আল-কাররার’ কোডনেমে পরিচালিত এই অভিযানে আল-উদাইরি বিমানঘাঁটিতে দুটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। একই সঙ্গে, কেবল ঘাঁটিই নয়, মিনা সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং অত্যাধুনিক ‘লিডস’ সিস্টেমও ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

হামলার লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতি

আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, মোহাম্মদ আল-আহমদ ও আলী আল-সালেম নৌঘাঁটিতে থাকা প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম, সামরিক গুদাম এবং মার্কিন ব্যারাকগুলোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইরান এই হামলার মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী ও ইহুদিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে তাদের লড়াই অব্যাহত রাখার সংকল্প ব্যক্ত করেছে।

তেহরান থেকে বলা হয়েছে, শত্রুর চূড়ান্ত আত্মসমর্পণ না হওয়া পর্যন্ত এবং ইরান থেকে যুদ্ধের ছায়া পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত তাদের সামরিক অভিযান চলবে।

ইরানের কুয়েত হামলা: বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলা কেবল কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটির উপর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ ক্ষমতা প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান তার সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্তরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে চায়।

এই ঘটনার মাধ্যমে ইরান কেবল মার্কিন সেনাদের উপর ক্ষতি করেনি, বরং তাদের নৌ-প্রকৌশল ও আধুনিক সামরিক প্রযুক্তির ওপরও হুমকি প্রদর্শন করেছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম যেমন Al Jazeera রিপোর্ট করেছে যে, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের কুয়েত হামলা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে।

ইরানের কুয়েত হামলা এবং স্থানীয় নিরাপত্তা

কুয়েত সরকার এবং স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী এখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। আহত মার্কিন সেনাদের স্থানান্তর এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্রুত উন্নয়ন করা হচ্ছে।

ইরানের কুয়েত হামলার প্রভাব

  1. মার্কিন সেনাদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি।

  2. কুয়েতের পঞ্চম নৌবহরের অবকাঠামো ও লজিস্টিক সিস্টেমে ক্ষতি।

  3. মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি।

  4. আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনায় নতুন চাপ।

এই ঘটনার আলোকে বলা যায়, ইরানের কুয়েত হামলা কেবল সামরিক আক্রমণ নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত