আরও খবর

Shikor Web Image - 2026-03-01T134956.771
কেন ইরানের পক্ষে ‘গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান’ নিয়েছে চীন?
Shikor Web Image (98)
ইরানে মার্কিন হামলা: আগেই সমর্থন দিয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ
Shikor Web Image (97)
খামেনির উত্তরসূরি কে হচ্ছেন, কাদের নাম শোনা যাচ্ছে
Shikor Web Image (92)
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা শুরুর ঘোষণা ইরানের
Shikor Web Image (89)
হামলার সময় কী করছিলেন খামেনি, জানাল ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি

বিক্ষোভে উত্তাল ইরান নিহত অন্তত ৬২

বিক্ষোভে উত্তাল ইরান নিহত অন্তত ৬২ জনের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দা। ইন্টারনেট বন্ধ, দমন-পীড়ন ও সরকারবিরোধী আন্দোলনে অস্থির ইরানের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানুন।

তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে ইরান। দেশজুড়ে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে ইরান বিক্ষোভে নিহত ৬২ জন—এই খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইন্টারনেট বন্ধ, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের পাশাপাশি চলছে ব্যাপক দমন-পীড়ন।

মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য বলছে, টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই বিক্ষোভে নিহতদের মধ্যে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য উভয়ই রয়েছেন। ক্রমেই এই আন্দোলন শুধু জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ না থেকে রাজনৈতিক রূপ নিচ্ছে।

ইরান বিক্ষোভে নিহত ৬২ জন: কী বলছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো

মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA)-এর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সহিংসতায় ইরান বিক্ষোভে নিহত ৬২ জন। নিহতদের মধ্যে ৪৮ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।

এই সংখ্যাটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; বরং এটি ইরানে চলমান গভীর সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটের প্রতিফলন। বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণ, গ্রেপ্তার এবং সহিংস অভিযানের অভিযোগ উঠেছে।

জীবনযাত্রার ব্যয় থেকে সরকার পতনের আন্দোলন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১৩ দিন আগে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আন্দোলন রূপ নেয় সরকার পতনের দাবিতে।

বিক্ষোভকারীরা প্রকাশ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন। ইরানের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটি অত্যন্ত বিরল ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আন্দোলন শাসকগোষ্ঠীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 ইন্টারনেট বন্ধ: তথ্য নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, টানা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে। সরকার দাবি করেছে, “নিরাপত্তা পরিস্থিতির” কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে, ইরান বিক্ষোভে নিহত ৬২ জন-এর প্রকৃত তথ্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ আড়াল করতেই সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে।

ফ্লাইট বাতিল, আঞ্চলিক প্রভাব বাড়ছে

ইন্টারনেট বন্ধের প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলেও। দুবাই বিমানবন্দরের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, দুবাই ও ইরানের মধ্যকার অন্তত ১৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতি শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকট নয়; বরং এর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাবও স্পষ্ট হচ্ছে। ব্যবসা, পর্যটন ও কূটনৈতিক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।

ইউরোপীয় নেতাদের তীব্র নিন্দা

ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানির নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা ইরানি কর্তৃপক্ষকে সহিংসতা বন্ধ এবং মানবাধিকার রক্ষার আহ্বান জানান।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান বিক্ষোভে নিহত ৬২ জন-এর ঘটনায় পশ্চিমা বিশ্ব আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে।

খামেনির হুঁশিয়ারি ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অভিযোগ

টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি স্পষ্টভাবে জানান, তিনি বিক্ষোভের মুখে পিছু হটবেন না। তিনি অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীরা ইরানের প্রধান প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কাজ করছে।

এই বক্তব্য পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সর্বাধিক পঠিত