ইরানকে ছাড় দেওয়া উচিত হয়নি ইসরায়েলি মন্ত্রী আমিকাই চিকলি বলেন, এটি ভুল সিদ্ধান্ত। শান্তি টিকবে মাত্র ৫০% সম্ভাবনায়—বিস্তারিত পড়ুন।
ইরান যুদ্ধবিরতি সমালোচনা করে ইসরায়েলের প্রভাবশালী লিকুদ পার্টির সদস্য ও প্রবাসীবিষয়ক মন্ত্রী আমিকাই চিকলি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে ‘ভুল পদক্ষেপ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ইসরায়েলের একটি রেডিও স্টেশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা আলজাজিরা জানিয়েছে। তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান লড়াই আরও কঠোরভাবে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া উচিত ছিল।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা

ইরান যুদ্ধবিরতি সমালোচনা করতে গিয়ে আমিকাই চিকলি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া সঠিক হয়নি। তার ভাষায়, “ইরানি শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই শেষ পর্যন্ত চালিয়ে নেওয়া উচিত ছিল।”
এই মন্তব্য ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থানের একটি কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে, যেখানে কিছু নেতার মতে, কূটনৈতিক সমঝোতার পরিবর্তে সামরিক চাপ বজায় রাখা প্রয়োজন।
ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে তুলনা
চিকলি তার বক্তব্যে ইতিহাসের উদাহরণও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জাপান সাম্রাজ্য বা নাৎসি জার্মানির মতো শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে যেভাবে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছিল, ইরানের ক্ষেত্রেও তেমন কৌশল অবলম্বন করা উচিত ছিল।
তার এই তুলনা থেকে বোঝা যায়, তিনি ইরানকে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছেন এবং সেই অনুযায়ী কঠোর সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন।
শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে সংশয়
ইরান যুদ্ধবিরতি সমালোচনা শুধু নীতিগত দিকেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন চিকলি। তার মতে, এই যুদ্ধবিরতি টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ৫০ শতাংশ।
এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির অনিশ্চয়তাকেই প্রতিফলিত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন মন্তব্য যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
নেতানিয়াহু সরকারের ওপর চাপ
সরকারের ভেতর থেকেই এমন কড়া অবস্থান সামনে আসায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রশাসনের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, অন্যদিকে সরকারের ভেতর থেকেই কঠোর সামরিক অবস্থানের দাবি—এই দ্বৈত চাপ নীতিনির্ধারণে জটিলতা তৈরি করছে।
ট্রাম্পের শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পূর্বঘোষিত বড় ধরনের বোমাবর্ষণ ও হামলা অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করতে সম্মত হন। তবে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একটি কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতি তখনই কার্যকর থাকবে যখন ইরান অবিলম্বে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করবে।
এই শর্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি প্রধান রুট।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা
ইরান যুদ্ধবিরতি সমালোচনা ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা শুধু ইসরায়েল নয়, পুরো আন্তর্জাতিক অঙ্গনেই প্রভাব ফেলতে পারে। যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব, যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত, এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ চাপ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো অস্থির।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই যুদ্ধবিরতি সফল হবে কি না, তা নির্ভর করছে ইরানের পদক্ষেপ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ কৌশলের ওপর।




