এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (92)
হরমুজ প্রণালি দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প
Shikor Web Image (86)
নেতানিয়াহু এখন কোথায়?
Shikor Web Image (68)
ইরানে ৯ দিনের হামলায় নিহত ১২৫৫ঃ আহত ১২ হাজারের বেশি
Shikor Web Image (65)
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান: প্রতিবেশী দেশ থেকে হামলা না হলে আর আক্রমণ করবে না ইরান
Shikor Web Image (62)
রাতে ইরানের ওপর এযাবৎকালের ‘বৃহত্তম বোমাবর্ষণ’ হবে: মার্কিন অর্থমন্ত্রী

১১টি অত্যাধুনিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি ৩৩০ মিলিয়ন ডলার

১১টি অত্যাধুনিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি ৩৩০ মিলিয়ন ডলার, ইরান যুদ্ধে এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সামরিক ক্ষতি।

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে বড় ধরনের সামরিক ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, সংঘাত চলাকালে ইরান যুদ্ধে এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মোট ১১টি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস হয়েছে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড ও সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান সংঘাতে এই ক্ষতিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংঘাতে ১১টি ড্রোন হারানোর তথ্য

মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার সময় আকাশে পরিচালিত বিভিন্ন মিশনের সময় ১১টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব ড্রোন ধ্বংস হওয়ায় মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, একেকটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের মূল্য অত্যন্ত বেশি হওয়ায় অল্প সংখ্যক ড্রোন হারালেও তা বড় ধরনের আর্থিক ও কৌশলগত ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য একটি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন কী কাজে ব্যবহৃত হয়

গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহ

এমকিউ-৯ রিপার মূলত একটি চালকবিহীন আকাশযান বা ড্রোন, যা বিভিন্ন ধরনের সামরিক মিশনে ব্যবহৃত হয়। এর প্রধান কাজ হলো গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি পরিচালনা এবং দীর্ঘ সময় ধরে নির্দিষ্ট এলাকা পর্যবেক্ষণ করা।

এই ড্রোনের মাধ্যমে শত্রুপক্ষের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়। ফলে সামরিক অভিযানে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।

নির্ভুল হামলা চালানোর সক্ষমতা

শুধু নজরদারি নয়, প্রয়োজন হলে এই ড্রোনের মাধ্যমে নির্ভুল হামলাও চালানো যায়। আধুনিক সেন্সর ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমকিউ-৯ রিপার নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

এই কারণেই যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সামরিক অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে এই ড্রোন ব্যবহার করে আসছে।

কেন সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছে এই ড্রোন

মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মুখে এই ধরনের ড্রোন অনেক সময় সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, এমকিউ-৯ রিপার মূলত এমন এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই।

কিন্তু ভারী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসম্পন্ন আকাশসীমায় এই ড্রোন পরিচালনা করা তুলনামূলকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে এগুলো সহজেই শনাক্ত ও ধ্বংস করা সম্ভব হয়।

গতি ও সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা

প্রযুক্তিগত দিক থেকে এমকিউ-৯ রিপার অত্যাধুনিক হলেও এর গতি তুলনামূলকভাবে কম।

এই ড্রোনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার

অন্যদিকে আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো ঘণ্টায় প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ মাইল গতিতে উড়তে পারে। ফলে গতি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার দিক থেকে যুদ্ধবিমানের তুলনায় ড্রোনগুলো অনেকটাই পিছিয়ে থাকে।

এই কারণেই উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে ড্রোনগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়ে বলে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

সামরিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে পরিস্থিতি

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা সব পরিস্থিতিতে সমান কার্যকর নয়।

বিশেষ করে শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসম্পন্ন অঞ্চলে ড্রোন পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে এমন সংঘাতে ড্রোনের ক্ষয়ক্ষতি বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হারানোর ঘটনা সেই বাস্তবতারই একটি উদাহরণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও এই ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। টিআরটি ওয়ার্ল্ড এবং সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারানোর ঘটনা সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে উল্লেখযোগ্য।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারানোর ঘটনা সামরিক প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি শুধু আর্থিক দিক থেকেই নয়, কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শক্তিও বড় ভূমিকা রাখে। ফলে ভবিষ্যতের সামরিক কৌশলে ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টি আরও সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা হতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত