রক্তাক্ত দেশ, তবুও প্রতিকূলতা ছাপিয়ে মাঠে নামছে ইরানের মেয়েরা, ইরান নারী ফুটবল দল অস্ট্রেলিয়ায় ২০২৬ এশিয়ান কাপের জন্য প্রস্তুত, বিশ্বকাপে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতি অতিক্রম করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মাঝেও, ইরান নারী ফুটবল দল অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে তাদের মনোনিবেশ করেছেন। ২০২৬ এশিয়ান কাপের মঞ্চে নিজেদের সেরাটা দেখিয়ে ২০২৭ সালের নারী বিশ্বকাপে স্থান নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
শনিবার তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার ফলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার খবর আসে। যদিও দেশের পরিস্থিতি উত্তপ্ত, ইরানের নারী ফুটবল দল আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলায় মনোযোগ রাখছে।
২০২৬ এশিয়ান কাপ: ইরান নারী ফুটবল দলের প্রস্তুতি

ইরান এবার দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়ান কাপে অংশ নিচ্ছে। ২০২২ সালে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল। ২০২৬ সালের আসরে তাদের প্রথম ম্যাচ হবে সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কোচ মারজিয়া জাফরি এবং অধিনায়ক জাহরা গানবারি। সাংবাদিকরা দলের মানসিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করলে, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের প্রতিনিধি সরাসরি খেলায় মনোযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। কোচ জাফরি বলেন,
“দেশের লিগে খেলেই মেয়েরা প্রস্তুত হয়েছে। তারপর কয়েকটি ক্যাম্প করে আমরা অস্ট্রেলিয়ায় এসেছি। আশা করি, কাল একটি দারুণ ম্যাচ দেখাতে পারব।”
অধিনায়ক জাহরা গানবারি যোগ করেন,
“দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া বা ফিলিপাইন—সবাই শক্তিশালী। তবে আমরা বিশ্বকাপে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করব।”
ইরান নারী ফুটবল দল: গ্রুপ ও প্রতিদ্বন্দ্বী
ফিফা র্যাঙ্কিং অনুসারে ইরান ৬৮ নম্বরে অবস্থান করছে। তাদের গ্রুপে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া (২১), স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া (১৫), এবং ফিলিপাইন (৪১)। কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে ইরান নারী ফুটবল দল বিশ্বকাপে যাওয়ার লক্ষ্যে লড়বে।
সংবাদ সম্মেলনের পরে, গোল্ড কোস্ট স্টেডিয়ামে খেলোয়াড়রা হেসে ছবি তুলেছে এবং আনন্দ ভাগাভাগি করেছে। এই দৃশ্য প্রমাণ করে, রাজনৈতিক সংকট ও পরিবার-পরিজন নিয়ে উৎকণ্ঠার মাঝেও তারা মাঠে মনোযোগ রাখছে।
আন্তর্জাতিক ও দেশীয় উৎসাহ
ইরান নারী ফুটবল দল-এর প্রস্তুতি এবং খেলায় মনোযোগ নিয়ে FIFA এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, “প্রত্যেক দলের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও খেলোয়াড়রা আত্মবিশ্বাসী।”
ইরান নারী ফুটবল দলের কৌশল ও প্রশিক্ষণ স্পষ্টভাবে নির্দেশ করছে, তারা শুধু এশিয়ান কাপে নয়, ২০২৭ সালের নারী বিশ্বকাপেও অংশ নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কোচ জাফরি এবং অধিনায়ক গানবারি উভয়ই দলের মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।
তাদের দৃঢ় মনোভাব ও পেশাদারিত্ব দেখায়, ইরান নারী ফুটবল দল শুধুমাত্র মাঠে নয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করার জন্য প্রস্তুত।




