এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (82)
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন: ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও ভিন্নমতে আটকে যেতে পারে জুলাই সনদের কিছু সিদ্ধান্ত
Shikor Web Image (75)
জামায়াত সমর্থকের বাড়িতে আগুন, বিএনপি সমর্থকদের ওপর হামলা
Shikor Web Image (73)
নতুন সরকারের শপথের পর ব্যারাকে ফিরবে সেনাবাহিনী
Shikor Web Image (69)
শপথের পর সংসদ সদস্যরা কী কী সুযোগ সুবিধা পান
Shikor Web Image (66)
মঙ্গলবার শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে থাকছেন ১২শ দেশি-বিদেশি অতিথি

তিন যুগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন ইসলামপন্থী দলগুলোর

তিন যুগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন ইসলামপন্থী দলগুলোর উত্থান লক্ষ্যণীয়; ১১ দল ৭২টি আসনে জয়ী এবং ৩৮% ভোট পেয়ে দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে নতুন দিগন্ত খুলেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামপন্থী দলের উত্থান নজর কাড়ছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটের অংশ হয়ে ১১টি ইসলামপন্থী দল নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলে তারা মোট ৭২টি আসনে জয়ী হয়েছে এবং প্রাপ্ত ভোটের হার ৩৮ শতাংশের বেশি। এটি স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতনের পর থেকে সবচেয়ে বড় উত্থান।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামপন্থী দলগুলো মোট ৬০৭ প্রার্থী দেয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং জামায়াতে ইসলামী। মোট ২৯৯টি আসনে দুই হাজারের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

নির্বাচন ফলাফল: ইসলামপন্থী দলের বিশ্লেষণ

  • জামায়াতে ইসলামী একাই ৬৮টি আসন জয়ী হয়েছে। তারা মোট ২২৪ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল।

  • তাদের নির্বাচনী মিত্র বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি আসন এবং খেলাফত মজলিস একটি আসন জয়ী হয়েছে।

  • ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো একটি আসনে জয় পেয়েছে। তারা ২৫৮ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল।

  • জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ বিএনপির সঙ্গে জোট করে পাঁচটি আসনে ভোট করলেও কোনো আসন জিততে পারেনি।

এর ফলে, ১৯৯১ সালের পর থেকে ইসলামপন্থী দলগুলো এত বড় জয় আগে কখনো পাননি। অতীতে সর্বোচ্চ ১৯টি আসন পায়, তবে ভোটের হার কখনো ১৫ শতাংশের বেশি হয়নি। এবারের নির্বাচনে ইসলামপন্থীরা সম্মিলিতভাবে ৩৮% ভোট পেয়ে নিজেদের শক্তি বাড়িয়েছে।

🔹 নির্বাচন কমিশন রিপোর্টে ইসলামপন্থী দলের উত্থান

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ও নির্বাচনের প্রেক্ষাপট

বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। এ উপলক্ষে সেখানে সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে।

নির্বাচনে অংশ নেওয়া ইসলামপন্থী দলগুলো বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটের অংশ হয়ে লড়াইয়ে নেমেছিল। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ এবং জয় দেশীয় রাজনীতিতে ইসলামপন্থীদের প্রভাব নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করেছে।

ইতিহাসের প্রেক্ষাপট: ১৯৯১–২০০৮

১৯৯১ থেকে ১৯৯৬

  • ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ১২টি ইসলামপন্থী দল অংশ নেয়। জামায়াত ছাড়া অন্য দলগুলো একসাথে ২ শতাংশ ভোটও পায়নি।

  • জামায়াতে ইসলামী ২২২ আসনে ভোট দিয়ে ১৮টিতে জয়ী হয়, ভোটের হার ১২%।

  • ১৯৯৬ সালে ১৩টি ইসলামপন্থী দল ভোটে অংশ নেয়, জামায়াতে ইসলামী ৩০০ আসনে ভোট দিয়ে তিনটি আসনে জয়ী হয়।

২০০১ সালের নির্বাচন

  • ইসলামপন্থীরা বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়।

  • জামায়াতে ইসলামী ৩১টি আসনে ভোট দিয়ে ১৭টিতে জয়ী হয়, ভোটের হার ৪%।

  • ইসলামী ঐক্যজোট ৭টি আসনে ভোট দিয়ে দুটিতে জয়ী হয়, ভোটের হার ১% এর কম।

২০০৮ সালের নির্বাচন

  • ১০টি ইসলামপন্থী দল অংশ নেয়। জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ঐক্যজোট বিএনপির সঙ্গে আবার জোটবদ্ধ হয়।

  • জামায়াতে ইসলামী ৩৯টি আসনে ভোট দিয়ে মাত্র ২টিতে জয়ী হয়, ভোটের হার ৫% এর কম।

  • ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সর্বাধিক ১৬৭ আসনে ভোট দিয়ে কোনো আসন জয় করতে পারেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মতামত

রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, “ইসলামপন্থীদের এবারের উত্থান স্থায়ী বলে মনে হচ্ছে না। অনেক দল তাদের মৌলিক এজেন্ডা প্রকাশ্যে আনেনি এবং ইসলামসংক্রান্ত বিষয় লুকানোর চেষ্টা করেছে। ভোটের কারণকে শুধুমাত্র ইসলামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করা যাবে না।”

তিনি আরও বলেন, “এবার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ভোটে ছিল না, সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আওয়ামী লীগ ভোটে অংশ নিলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত।”

আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় দিক

  • ইসলামপন্থী দলগুলোর অংশগ্রহণ দেশের নির্বাচনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

  • তাদের ভোটের হার ও আসনের সংখ্যা দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে নতুন দিগন্ত সৃষ্টি করেছে।

  • ইসলামপন্থী দল: ১১টি

  • মোট আসন: ৭২টি

  • জামায়াতে ইসলামী: ৬৮টি

  • প্রাপ্ত ভোটের হার: ৩৮%+

  • প্রধান বিশ্লেষক মন্তব্য: উত্থান স্থায়ী নাও হতে পারে

সর্বাধিক পঠিত