এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (82)
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন: ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও ভিন্নমতে আটকে যেতে পারে জুলাই সনদের কিছু সিদ্ধান্ত
Shikor Web Image (78)
তিন যুগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন ইসলামপন্থী দলগুলোর
Shikor Web Image (73)
নতুন সরকারের শপথের পর ব্যারাকে ফিরবে সেনাবাহিনী
Shikor Web Image (69)
শপথের পর সংসদ সদস্যরা কী কী সুযোগ সুবিধা পান
Shikor Web Image (66)
মঙ্গলবার শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে থাকছেন ১২শ দেশি-বিদেশি অতিথি

জামায়াত সমর্থকের বাড়িতে আগুন, বিএনপি সমর্থকদের ওপর হামলা

জামায়াত সমর্থকের বাড়িতে আগুন, বিএনপি সমর্থকদের ওপর হামলা, জামায়াত-বিএনপি সংঘাতের ঘটনায় খুলনা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫ বড় সহিংসতা, আহত ও নিহতের খবর, ভোটের আগে উত্তেজনা বেড়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ বড় ধরনের সহিংসতা ছাড়াই সম্পন্ন হলেও ভোটের আগে ও পরবর্তী সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে। শনিবার ও রবিবার পর্যন্ত ২০টি জেলার ২৫ স্থানে সংঘাত-সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে দুইজন নিহত ও দুই শতাধিক আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় বিশেষ করে খুলনা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাতে জামায়াত-বিএনপি সংঘাত নজরকাড়া।

খুলনায় জামায়াত সমর্থকের বাড়িতে আগুন

শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে খুলনা-৫ আসনের ফুলতলা উপজেলার মশিয়ালী গ্রামের আকুঞ্জিপাড়ায় শোকর আকুঞ্জি নামে জামায়াতের প্রার্থীর এক সমর্থকের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা দ্রুত পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। শোকর আকুঞ্জি অভিযোগ করেছেন, “দাঁড়িপাল্লার সমর্থক হওয়ায় ভোটের পর একই আসনে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরা হুমকি দিয়ে আসছিল। তাদেরাই আগুন দিয়েছেন।”

খানজাহান আলী থানার জামায়াতের আমির সৈয়দ হাসান মাহামুদ জানান, শোকর আকুঞ্জির বড় ছেলে রমজান আকুঞ্জি জামায়াতের রুকন ও ইউনিট সভাপতি, আর ছোট ছেলে আবদুর রাজ্জাক ছাত্রশিবিরের মশিয়ালী ওয়ার্ড সভাপতি।

এই ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার বিকেলে স্থানীয়রা সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। ঘটনাস্থলে ছুটে যান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা জেলা আমির এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মইনুল ইসলাম ও ছাত্রশিবিরের খুলনা জেলা সভাপতি ইউসুফ ফকির।

খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সানওয়ার হোসাইন জানিয়েছেন, “রাতের অন্ধকারে কে বা কারা আগুন দিয়েছে তা শনাক্ত করা যায়নি।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপি সমর্থকদের ওপর হামলা

নির্বাচনসংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের নদীপাড় এলাকায় বিএনপির এক নেতাসহ দুজনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকের বিরুদ্ধে। আহতরা হলেন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান ও তার চাচাতো ভাই নায়েব আলী। তাঁরা বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আহত মিজানুর রহমান বলেন, “ইউনিয়ন জামায়াতের সহসভাপতি মো. আব্দুল্লাহকে ভোটের আগের রাতে টাকাসহ আটক করায় আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমার ডান হাতে আঘাত লাগে, চাচাতো ভাই নায়েব আলীকেও মারধর করা হয়।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. আব্দুল্লাহ জানান, “নদীর পাড়ে একটি ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। মিজানুরসহ কয়েকজন আমার ভাইয়ের সঙ্গে কথাকাটাকাটির ঘটনায় পড়ে গিয়ে আহত হয়ে থাকতে পারে।”

রাজশাহীতে বিএনপি বিদ্রোহী সমর্থকের ওপর হামলা

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক আহসান হাবীবকে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা মারধরের অভিযোগ করেছেন। আহত আহসানকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আহসান হাবীব জানিয়েছেন, “বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে কাজ করেছি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ধানের শীষের সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে।”

দেশের অন্যান্য সংঘাত-সহিংসতার ছবি

এছাড়া গত শুক্রবার মুন্সীগঞ্জ ও বাগেরহাটে বিএনপি সমর্থকদের হামলায় বিদ্রোহী প্রার্থীর দুই সমর্থক নিহত হয়েছেন। রাজশাহীতে বিদ্রোহী প্রার্থীর একজন সমর্থককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ধানের শীষ প্রতীকের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

জাতীয় নির্বাচনের আগে এই ধরনের সহিংসতা রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করছে। দেশবাসী আশা করছেন, নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হবেন।

সর্বাধিক পঠিত