জাতীয় পার্টি আসন প্রত্যাশা নিয়ে বড় মন্তব্য। সুষ্ঠু ভোট ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকলে ত্রয়োদশ নির্বাচনে ৪০–৭০ আসন পাওয়ার আশাবাদ জাপার।
জাতীয় পার্টি আসন প্রত্যাশা নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুষ্ঠু ভোট ও সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত হলে জাতীয় পার্টি (জাপা) ৪০ থেকে ৭০টি আসন পেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির একাংশের মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রার্থীদের আপিল শুনানিতে অংশ নিয়ে তিনি গণমাধ্যমের সামনে এই প্রত্যাশার কথা জানান। তার বক্তব্যে উঠে আসে নির্বাচন ব্যবস্থার দুর্বলতা, প্রশাসনের ভূমিকা এবং রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা।
জাতীয় পার্টি আসন প্রত্যাশা ও “ফ্লুইড” ভোটের মাঠ

জাতীয় পার্টি আসন প্রত্যাশা কেন ৪০–৭০?
ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভোটের মাঠ অত্যন্ত অনিশ্চিত বা ফ্লুইড। তিনি বলেন,
“যদি সুষ্ঠু ভোট হয় এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকে, তাহলে জাতীয় পার্টি ৪০ থেকে ৭০টি আসন পেতে পারে।”
তার ভাষায়, নির্বাচন অংশগ্রহণকারীদের জন্য কমফোর্ট জোন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভয়, প্রশাসনিক চাপ বা রাজনৈতিক ট্যাগিং থাকলে প্রকৃত জনমত প্রতিফলিত হয় না।
মনোনয়ন বাতিল ও আপিল: বাস্তব চিত্র
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় পার্টির বেশ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়। এ বিষয়ে শামীম হায়দার পাটোয়ারী জানান—
-
১৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করেন
-
এর মধ্যে ১১ জনের আপিল গ্রহণ করা হয়েছে
-
২ জন উচ্চ আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন
তিনি আরও বলেন, কুমিল্লা-১ ও বগুড়া-২ আসনের প্রার্থীদের আপিলও ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। আপিল ট্রাইব্যুনাল কারিগরি ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ দেওয়ায় বেশ কয়েকজন প্রার্থী আবার নির্বাচনী মাঠে ফিরতে পারছেন।
ডিসেম্বরের অস্থিতিশীলতা ও প্রার্থীদের সংকট
শামীম হায়দার পাটোয়ারীর মতে, ১২ থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল অস্থির। এই সময়ে—
-
অনেক প্রার্থী সময়মতো মনোনয়ন জমা দিতে পারেননি
-
আগে যেসব ছোটখাটো ভুল সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হতো, এবার তা হয়নি
-
রিটার্নিং কর্মকর্তারা ভয় ও সামাজিক চাপের কারণে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি
তিনি মনে করেন, এসব বিষয় জাতীয় পার্টি আসন প্রত্যাশা বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা তৈরি করেছে।
প্রশাসন ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রসঙ্গ
🔹 সেনা ও পুলিশের ভূমিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
জাতীয় পার্টির এই নেতা বলেন, ব্যাপকভাবে—
-
সেনা মোতায়েন
-
পুলিশ মোতায়েন
-
প্রশাসনের দৃঢ়করণ
না হলে নির্বাচন ফলহীন ও মানহীন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমন নির্বাচন থেকে গঠিত সরকার ম্যান্ডেট সংকটে ভুগবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
রাজনৈতিক সমঝোতার আহ্বান
শামীম হায়দার পাটোয়ারী স্পষ্ট করে বলেন,
“এখন রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন। সব দল একত্রিত হয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে যাবে, সবাই সবাইকে স্পেস দেবে।”
তার মতে, অতীতেও নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই ধরনের সমঝোতা হয়েছে। এবারও সেটি জরুরি।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি জাতীয় পার্টির বার্তা
জাতীয় পার্টির মহাসচিব নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার ভাষায়—
-
প্রশাসনে নিরপেক্ষতা দৃশ্যমান করতে হবে
-
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তাদের বদলি করতে হবে
-
কমিশনকেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে
এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলেই জাতীয় পার্টি আসন প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ নিতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
আন্তর্জাতিক মানের নির্বাচন কেন জরুরি
গণতন্ত্র রক্ষায় নির্বাচন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়। এটি হতে হবে—
-
অংশগ্রহণমূলক
-
গ্রহণযোগ্য
-
আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন
এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর মতামতও গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, জাতীয় পার্টি আসন প্রত্যাশা কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; এটি বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন। সুষ্ঠু ভোট, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক সমঝোতা—এই তিনটি শর্ত পূরণ হলেই জাতীয় পার্টি তাদের প্রত্যাশিত আসনের কাছাকাছি যেতে পারে।




