১২ তারিখ জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক জানাজা নিয়ে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর শক্ত বক্তব্য। গণভোট, ‘হ্যাঁ’ ভোট ও বিএনপি প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য।
আসন্ন গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে ১২ তারিখ জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক জানাজা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের ক্ষমতার কাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটই হবে পরিবর্তনের একমাত্র পথ।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে আহ্বান

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আসন্ন গণভোট কোনো সাধারণ রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাঠামো পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তাঁর ভাষায়, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমেই সংসদের ক্ষমতার কাঠামোয় পরিবর্তন আনা সম্ভব এবং জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যাবে।
তিনি দাবি করেন, এই গণভোটের মাধ্যমে জনগণ প্রথমবারের মতো সরাসরি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসে মত দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তাই ভোটারদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির দ্বিমুখী ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ
বক্তব্যে বিএনপির সমালোচনা করে হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, দলটি প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিলেও মাঠপর্যায়ে গোপনে ‘না’ ভোটের পক্ষে কাজ করছে। তাঁর মতে, এই দ্বৈত ভূমিকা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
তিনি বলেন, গণভোট নিয়ে মুখে যা বলা হচ্ছে, তা বাস্তব রাজনীতিতে প্রমাণ করতে হবে। জনগণের কাতারে নেমে না এলে এবং দ্বৈত ভূমিকা পরিত্যাগ না করলে মানুষের আস্থা অর্জন সম্ভব নয়।
১২ তারিখ জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক জানাজা—কেন এমন মন্তব্য
জাতীয় পার্টিকে কটাক্ষ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, দলটি রাজনৈতিকভাবে মৃত। তাঁর ভাষায়, আগামী ১২ তারিখ ভোটের মাধ্যমে তাদের দাফন সম্পন্ন হবে এবং সেদিন কেবল আনুষ্ঠানিক জানাজাই অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, যখন এনসিপি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে, তখন জাতীয় পার্টি প্রকাশ্যে ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এই অবস্থানকে তিনি রাজনৈতিক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
জনসভা কোথায় ও কখন
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার রংপুর-৪ আসনে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এনসিপি মনোনীত প্রার্থী আখতার হোসেনের পক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।
সভায় বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা স্থানীয়ভাবে গণভোট ও নির্বাচনী রাজনীতির গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
আখতার হোসেন প্রসঙ্গে প্রশংসা
এনসিপি মনোনীত প্রার্থী আখতার হোসেনের প্রশংসা করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, তিনি শুধু কাউনিয়ার কৃতি সন্তান নন, বরং সারা বাংলাদেশের সম্পদ। তাঁর মতে, আখতার হোসেনের জনপ্রিয়তা ও নেতৃত্বগুণ এমন যে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে নির্বাচন করলে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কাউনিয়া ও পীরগাছার মানুষ দায়িত্ব নিলে আখতার হোসেনের বিজয় ঠেকানো কারও পক্ষে সম্ভব হবে না।
অর্থনীতি ও উন্নয়ন নিয়ে অবস্থান
অর্থ ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, এনসিপির কাছে অবৈধ অর্থ নেই। তারা চাঁদাবাজি বা জুলুম করে অর্থ সংগ্রহ করেনি। তবে তাদের রয়েছে সুদূরপ্রসারী উন্নয়ন পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা।
তিনি দাবি করেন, এই নৈতিক শক্তিই এনসিপির প্রধান পুঁজি এবং এর মাধ্যমেই তারা সামনে এগিয়ে যেতে চায়।
ভোটারদের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি সতর্ক করে বলেন, ভোটের আগের দিন যারা শাড়ি, লুঙ্গি কিংবা টাকা নিয়ে দরজায় আসবে, ১২ তারিখ তাদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে। সাময়িক সুবিধার লোভে পড়লে আগামী পাঁচ বছর গোলামির শিকার হতে হবে—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, পরিবর্তনের যে সুযোগ এসেছে, তা হাতছাড়া করা যাবে না।
বক্তব্যের শেষাংশ ও সমর্থন আহ্বান
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সর্বস্তরের জনগণের সমর্থন কামনা করেন। তাঁর মতে, এই গণভোট ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।
জনসভায় উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দ
এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল হালিম, এনসিপির সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের প্রার্থী আখতার হোসেন, এবং এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়া সজীব। এছাড়া এনসিপি ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
গণভোটের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক তাৎপর্য
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১২ তারিখ জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক জানাজা—এই বক্তব্য কেবল একটি মন্তব্য নয়, বরং চলমান গণভোট ও ক্ষমতার কাঠামো পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রতিফলন। এই ধরনের বক্তব্য আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।




