খালে গোসল করানো হবে জনপ্রতিনিধিদের—নদী দখল ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জামায়াত আমিরের শক্ত অবস্থান। জানুন তাঁর ৫ দফা গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা।
খালে গোসল করানো হবে জনপ্রতিনিধিদের—এমন ব্যতিক্রমধর্মী ও শক্ত ভাষার ঘোষণা দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। নদী, খাল ও জলাশয় দখলের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন—ক্ষমতা নয়, জবাবদিহিই হবে জনপ্রতিনিধিদের মূল পরিচয়।
রাজধানীর ঢাকা-৪, ঢাকা-৫ ও ঢাকা-৬ আসনে আয়োজিত পৃথক তিনটি নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন। তাঁর বক্তব্যে পরিবেশ রক্ষা, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং রাজনৈতিক সংস্কারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
নদী ও খাল দখলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোনো মেয়র, এমপি, কমিশনার, চেয়ারম্যান বা মেম্বার ক্ষমতার অপব্যবহার করে নদী বা খাল দখল করতে পারবেন না। যদি কেউ এসব জলাশয় দখল করে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করেন, তাহলে তাকেই সেই ময়লার ভাগাড়ে নামতে হবে।
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে খালে গোসল করানো হবে জনপ্রতিনিধিদের ঘোষণা শুধু প্রতীকী নয়, বরং এটি পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জনপ্রতিনিধিরা হবেন সেবক, শাসক নয়

জামায়াত আমিরের ভাষায়, জনপ্রতিনিধির নামে জনগণকে শোষণের দিন শেষ। তিনি বলেন,
“জনপ্রতিনিধিরা শাসক নয়, জনগণের সেবক হবে। জনগণের টাকায় দেশ চললে জনগণের কাছেই জবাবদিহি করতে হবে।”
তিনি আরও জানান, জামায়াত ইসলামী ক্ষমতায় গেলে প্রতি ছয় মাস অন্তর জনপ্রতিনিধিদের জনগণের মুখোমুখি হতে হবে। তারা কী কাজ করেছেন এবং কী করবেন—তার পূর্ণ হিসাব জনগণকে দিতে হবে।
ক্ষমতার ঊর্ধ্বে আইন—প্রেসিডেন্টও ছাড় পাবেন না
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে বিচারের ক্ষেত্রে কেউ বিশেষ সুবিধা পাবে না।
সাধারণ নাগরিক ও প্রেসিডেন্ট—দুজনের অপরাধের শাস্তি হবে সমান।
এই বক্তব্য রাজনৈতিক সংস্কার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি শক্ত বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খালে গোসল করানো হবে জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্যের মতো এখানেও তিনি প্রতীকী ভাষায় কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেন।
নির্বাচনি জনসভা ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান
জনসভাগুলোতে তিনি ঢাকা-৪ আসনের সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা-৫ আসনের মো. কামাল হোসেন, ঢাকা-৬ আসনের ডা. আবদুল মান্নান, ঢাকা-৭ আসনের হাফেজ হাজি মো. এনায়েত উল্লাহ এবং ঢাকা-৮ আসনের নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর হাতে প্রতীক তুলে দেন।
তিনি দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
“হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামি”
গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন,
“‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, আর ‘না’ মানে গোলামি।”
এই বক্তব্যে রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের বিষয়টি সামনে আসে। খালে গোসল করানো হবে জনপ্রতিনিধিদের ঘোষণার মতোই এটি ছিল জনগণের ক্ষমতায়নের বার্তা।
যাত্রাবাড়ী অঞ্চলের ত্যাগের স্বীকৃতি
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের কবল থেকে জাতিকে মুক্ত করতে যাত্রাবাড়ী অঞ্চলের মানুষ সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে। এই অঞ্চল শহীদের রক্তে রঞ্জিত। তাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব এই অঞ্চলের প্রতি বিশেষভাবে নজর দেওয়া।
তিনি আশ্বাস দেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সংশ্লিষ্ট এলাকার সব সমস্যার সমাধান করা হবে।
কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি প্রসঙ্গ
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, প্রতিটি সরকার কওমি মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থাকে অবহেলা করেছে। সিনিয়র লেভেলের সনদের স্বীকৃতি থাকলেও নিচের স্তরের সনদ স্বীকৃতি পায়নি।
জামায়াত ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে কওমি মাদ্রাসার সর্বস্তরের সনদের স্বীকৃতি দেওয়া হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।
জামায়াত আমিরের ধারাবাহিক কর্মসূচি
দলীয় সূত্র জানায়, জামায়াত আমির আজ কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহে জনসভায় বক্তব্য দেবেন। পরবর্তী দিনগুলোতে যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, জামালপুর, শেরপুর ও ময়মনসিংহে তাঁর কর্মসূচি রয়েছে।
এই ধারাবাহিক সফরের মধ্য দিয়ে খালে গোসল করানো হবে জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার ও ফরাসি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক
ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক এবং ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লেটের সঙ্গে পৃথক সাক্ষাৎ করেন জামায়াত আমির।
বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার বিষয়সহ গণতন্ত্র, ব্যবসা ও পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
এ বিষয়ে বিস্তারিত আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি জানতে দেখা যেতে পারে খালে গোসল করানো হবে জনপ্রতিনিধিদের প্রসঙ্গে পরিবেশ ও সুশাসন বিষয়ক প্রতিবেদন—
পরিবেশ রক্ষা ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, খালে গোসল করানো হবে জনপ্রতিনিধিদের ঘোষণা পরিবেশ রক্ষায় রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা তৈরির একটি শক্ত বার্তা। নদী ও খাল দখল বন্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপও জরুরি।
বাংলাদেশের নদী রক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ পাওয়া যায় World Bank-এর পরিবেশ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে, যেখানে নদী দখল ও দূষণের প্রভাব বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের প্রতীকী কিন্তু শক্ত বক্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করে। বাস্তবে বাস্তবায়ন সম্ভব হলে এটি নদী রক্ষা ও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
একই সঙ্গে খালে গোসল করানো হবে জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য রাজনীতিতে জবাবদিহির সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার আলোচনাও জোরদার করেছে।




