খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপার্সন বর্তমানে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন। টানা দুই দিন পার হলেও তার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। তবে স্বস্তির বিষয় হলো—নতুন করে কোনো অবনতির লক্ষণও দেখা যায়নি।
এই পরিস্থিতিতে গঠিত মেডিকেল বোর্ড প্রতিদিন বৈঠক করে চিকিৎসা পদ্ধতি পর্যালোচনা করছে এবং খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ পর্যবেক্ষণে। এই প্রতিবেদনে আমরা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সর্বশেষ, যাচাই করা ও বাস্তব তথ্য তুলে ধরছি।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা: বর্তমান পরিস্থিতি
বর্তমানে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও গুরুতর। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা ভালো নয়, তবে তাৎক্ষণিক কোনো সংকটও সৃষ্টি হয়নি। এ কারণেই তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে রাখা হয়েছে।
চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সিসিইউতে কেন রাখা হয়েছে খালেদা জিয়াকে
চিকিৎসকদের মতে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় রেখে সিসিইউতে রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত। এখানে—
-
২৪ ঘণ্টা হার্ট ও ভায়টাল মনিটরিং
-
জরুরি চিকিৎসা সুবিধা
-
ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা
সবকিছু নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে সামান্য পরিবর্তন হলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে।

মেডিকেল বোর্ডের প্রতিদিনের বৈঠক ও সিদ্ধান্ত
খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড প্রতিদিন বৈঠক করছে। বোর্ড—
-
আগের দিনের রিপোর্ট বিশ্লেষণ করছে
-
ওষুধ ও থেরাপিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনছে
-
সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেভাগেই চিহ্নিত করছে
এই সঙ্গে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত ব্রিফ করা হচ্ছে।
বিএনপি নেতাদের হাসপাতালে উপস্থিতি
শুক্রবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী হাসপাতালে যান।
তারা সিসিইউতে প্রবেশ না করেই বাইরে থেকে খালেদা জিয়ার খোঁজ নেন। ইনফেকশনের ঝুঁকি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান,
“ম্যাডামের অবস্থার উন্নতি হয়নি, তবে চিকিৎসকরা আন্তরিকভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।”
এই বক্তব্য আবারও খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে দলীয় ও জনমনে দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে।
ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সার্বক্ষণিক তৎপরতা
বিএনপি চেয়ারপার্সনের একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার জানান, ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. জাহিদ হোসেন সার্বক্ষণিক হাসপাতালে অবস্থান করছেন।
চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি খেয়াল রাখছেন—
-
চিকিৎসার ধারাবাহিকতা
-
ওষুধে প্রতিক্রিয়া
-
পূর্ববর্তী রোগ জটিলতার প্রভাব
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা যেন কোনোভাবে অবনতি না হয়—সেই লক্ষ্যেই এই সমন্বয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বশেষ তথ্য
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী গুলশানের বাসা থেকে প্রতিদিন খালেদা জিয়ার জন্য বিশেষ খাবার পাঠানো হচ্ছে।
হাসপাতালে সার্বক্ষণিক উপস্থিত আছেন তার ছোটপুত্রবধূ সৈয়দা শামিলা রহমান। পরিবারের পক্ষ থেকে সবাই দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে এবিএম আব্দুস সাত্তার বলেন,
“ম্যাডামের অবস্থা ভালো নয়। সবাই দোয়া করবেন।”
এই বক্তব্যে আবারও স্পষ্ট হয় খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।
চিকিৎসকদের সার্বিক মূল্যায়ন
চিকিৎসকদের ভাষায়—
-
অবস্থা অপরিবর্তিত
-
নতুন জটিলতা দেখা যায়নি
-
নিবিড় পর্যবেক্ষণ অব্যাহত
চিকিৎসকরা মনে করছেন, সঠিক সময় ও সতর্ক চিকিৎসা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
এই মূল্যায়ন অনুযায়ী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনো ক্রিটিক্যাল কেয়ার পর্যায়েই রয়েছে।
সবশেষে বলা যায়, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনো পুরোপুরি আশঙ্কামুক্ত নয়। তবে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ, মেডিকেল বোর্ডের সক্রিয়তা এবং পরিবারের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখছে।




