কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি সহায়তা পৌঁছাবে কৃষকের কাছে, উন্নত বীজ ও আধুনিক যন্ত্র, যা আয় বাড়াবে ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) গৌরনদীর কাপলাতলী খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন, “কৃষি বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। দেশের অর্থনীতিকে টেকসই করতে হলে কৃষকদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।” তিনি জানান, কৃষি কার্ডের সুবিধা মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করে রাষ্ট্রীয় সহায়তা সরাসরি তাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি সহায়তা

মন্ত্রী বলেন, কৃষি কার্ডের মাধ্যমে বীজ, সার, সেচ এবং অন্যান্য প্রণোদনা বিতরণ আরও স্বচ্ছ হবে। এটি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে সহায়ক হবে। প্রকৃত কৃষকরা এবার সরাসরি রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাবেন, যা তাদের উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করবে।
উন্নত বীজ ও উৎপাদন বৃদ্ধি
মন্ত্রী আরও বলেন, “নিম্নমানের বীজ কৃষি উৎপাদনের বড় অন্তরায়। পরিকল্পিতভাবে উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ করলে একই জমিতে উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব।” এর মাধ্যমে কৃষকের আয় বাড়বে এবং খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে।
আধুনিক কৃষিযন্ত্র ও দক্ষ চাষাবাদ
এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশে এখনও অনেক কৃষক পুরোনো পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন। আধুনিক কৃষিযন্ত্র সহজলভ্য হলে শ্রম ও সময় দুটোই কমবে, এবং উৎপাদন আরও দক্ষ হবে। তিনি যোগ করেন, সঠিক চাষাবাদ, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং ফসল সংরক্ষণের জ্ঞান না থাকলে সম্ভাব্য উৎপাদন পুরোপুরি কাজে লাগানো যায় না। এজন্য কৃষি প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও খাদ্য নিরাপত্তা
মন্ত্রী বলেন, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য এই উদ্যোগগুলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। কৃষকদের পাশে দাঁড়ালে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক অর্থনীতি আরও দৃঢ় হবে।
কৃষি কার্ডের সুবিধা শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নয়, বরং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের এই নতুন উদ্যোগ কৃষি কার্ডের সুবিধা দেশের কৃষকদের জন্য একটি শক্তিশালী সহায়ক হাতিয়ার হয়ে উঠছে। পরিকল্পিত বীজ বিতরণ, আধুনিক যন্ত্র সরবরাহ এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদন ও আয় বাড়ানো সম্ভব হবে।




