এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image - 2026-03-12T150711.345
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন
Shikor Web Image - 2026-03-12T150235.435
ডেপুটি স্পিকার হলেন কায়সার কামাল
Shikor Web Image - 2026-03-12T145742.401
সংসদ অধিবেশনে ড. ইউনূস-জাইমাসহ আরো রয়েছেন যারা
Shikor Web Image (98)
নতুন মন্ত্রী আহমেদ আযম খান
Shikor Web Image (96)
সংসদে শোকপ্রস্তাব খালেদা জিয়া ও বিশিষ্টজনদের মৃত্যুতে

কিছু মানুষকে পাস করাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকারের একটি অংশ: মির্জা আব্বাস

কিছু মানুষকে পাস করাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকারের একটি অংশ, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই অভিযোগ তুলে মির্জা আব্বাস বলেন, সরকারের একটি অংশ কিছু মানুষকে পাস করাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জানুন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য।

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই অভিযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস সরাসরি সরকারের একটি অংশের ভূমিকা নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন। তাঁর ভাষায়, কিছু মানুষকে নির্বাচনে “পাস করিয়ে আনতে” সরকার–ঘনিষ্ঠ একটি অংশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গতকাল নির্বাচনী প্রচারণাকালে দেওয়া এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। নির্বাচন সামনে রেখে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে যে দীর্ঘদিনের বিতর্ক, মির্জা আব্বাসের মন্তব্য তা আরও জোরালো করেছে।

নির্বাচনী মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই অভিযোগ কেন উঠছে

মির্জা আব্বাস বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। তাঁর মতে, সরকারের একটি অংশ বিশেষ কিছু প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছে। এতে নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক ও নিরপেক্ষ হওয়ার শর্ত পূরণ করছে না।

তিনি বলেন,

“এ কারণে এখন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। এদের যে কার্যক্রম, তাতে স্পষ্ট বোঝা যায় সমান সুযোগ নেই।”

এই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই অভিযোগ শুধু বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি বিএনপির দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন বলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

“ক্ষমতা থাকলে নির্বাচনই করতে দিত না” – মির্জা আব্বাস

নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে মির্জা আব্বাস আরও এক ধাপ এগিয়ে যান। তিনি বলেন,

“ওদের যদি ক্ষমতা থাকত, আমাদের নির্বাচন করতেই দিতো না।”

এই বক্তব্যে বোঝা যায়, নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়েই বিএনপির আস্থার সংকট রয়েছে। তাঁর মতে, বর্তমান বাস্তবতায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়ছে, কারণ কমিশন সবকিছু দেখেও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

বিরোধী ভাষা ও রাজনৈতিক শালীনতা প্রসঙ্গ

মির্জা আব্বাস তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক ভাষার মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন,

“লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকলে এই ছেলেটা এমন অসভ্যের মতো কথা বলতে পারত না।”

এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ভাষা ও আচরণকে দায়ী করেন। তাঁর মতে, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রশ্রয়ের কারণেই এমন ভাষা ব্যবহারের সাহস পাচ্ছে কেউ কেউ।

ধৈর্য ধারণের আহ্বান বিএনপি নেতাকর্মীদের

উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও মির্জা আব্বাস তাঁর নেতাকর্মীদের প্রতি সংযমের আহ্বান জানান। তিনি বলেন,

“আল্লাহর অশেষ রহমত আমাদের ওপর যে আমরা এখনো রিঅ্যাক্ট করছি না।”

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো প্রকার প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে নির্বাচন পর্যন্ত ধৈর্য ধরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষায়,

“ওরা বলুক। আমরা নির্বাচন পর্যন্ত ধৈর্যধারণ করব। তারপর দেখা যাবে কী হয়।”

এই বক্তব্য বিএনপির কৌশলগত অবস্থানও স্পষ্ট করে—সংঘাত নয়, বরং ধৈর্য ও রাজনৈতিক লড়াই।

নির্বাচন কমিশনকে অভিযোগ জানানো হয়নি কেন

নির্বাচন কমিশনকে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে মির্জা আব্বাস ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন,

“পত্রিকা, মিছিল, মিটিং, রেডিও—সবখানেই নির্বাচন কমিশন শুনতে পাচ্ছে।”

তার মতে, নতুন করে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ কমিশন সবকিছু জানে। এখানেই আবার উঠে আসে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই অভিযোগ, যা কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

সরকারের একটি অংশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

মির্জা আব্বাসের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো—সরকারের একটি অংশ নাকি কিছু প্রার্থীকে নির্বাচনে পাস করাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন,

“সরকারের একটি অংশ কিছু কিছু লোককে নির্বাচনে পাস করাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

এই অভিযোগ রাজনীতিতে গুরুতর ইঙ্গিত বহন করে। এটি প্রমাণিত হলে নির্বাচন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে বিষয়টি

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই অভিযোগ নতুন নয়। তবে নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এমন বক্তব্য রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াতে পারে। অনেকেই মনে করছেন, এটি ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের কৌশলও হতে পারে।

বিশ্লেষকেরা আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের উচিত এসব অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং আস্থার সংকট দূর করতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া।

নির্বাচন ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কী ইঙ্গিত দিচ্ছে

এই অভিযোগগুলো বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। না হলে নির্বাচন বিতর্কিত হয়ে উঠতে পারে।

নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে থাকে।

মির্জা আব্বাসের বক্তব্য স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে, আসন্ন নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলের আস্থার ঘাটতি এখনো কাটেনি। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই অভিযোগ শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, এটি নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি বড় প্রশ্ন। সামনে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, এ ধরনের অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

Shikor TV Canada এই বিষয়ে সর্বশেষ ও নির্ভরযোগ্য আপডেট পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সর্বাধিক পঠিত