এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (27)
অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বিদায় শঙ্কা
Shikor Web Image (17)
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: নিসাঙ্কার সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে সুপার এইটে শ্রীলঙ্কা
Shikor Web Image (99)
এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস: ফারজানার ক্যামিওতে থাইল্যান্ডকে হারাল বাংলাদেশের মেয়েরা
Shikor Web Image (96)
৭০০ উইকেটের অনন্য মাইলফলকে রশিদ খান
Shikor Web Image (93)
পাকিস্তান ভারতের কাছে হার: কার ঘাড়ে চাপালেন পাকিস্তান অধিনায়ক

প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব ছাড়তে চান লিপু

প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব ছাড়তে চান লিপু। ব্যক্তিগত ব্যস্ততা ও পারিবারিক কারণে বিসিবিকে নতুন চুক্তিতে অনাগ্রহের কথা জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। গাজী আশরাফ হোসেন লিপু প্রধান নির্বাচক পদ ছাড়তে চান বলে জানিয়েছেন তিনি নিজেই। ব্যক্তিগত ব্যস্ততা ও পারিবারিক কারণে দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) ইতোমধ্যে নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন এই সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান প্রধান নির্বাচক।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি নতুন চুক্তি নবায়নে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে বোর্ডও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং প্রয়োজন হলে স্বল্পমেয়াদি চুক্তির বিষয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

লিপুর সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ

বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক সিরিজ, বিশ্বকাপ এবং খেলোয়াড় নির্বাচন—সবকিছুতেই এই পদটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। এমন একটি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত সহজ নয়।

বর্তমান দুই বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি। তার আগেই লিপু বিসিবিকে জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘমেয়াদে এই দায়িত্ব চালিয়ে যেতে আগ্রহী নন।

তিনি বলেন, ৫ ফেব্রুয়ারি ইমেইলের মাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্ত বোর্ডকে জানিয়েছেন। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে ভবিষ্যতে সময় দেওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে উঠছে বলেও জানান তিনি।

চুক্তির মেয়াদ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সাধারণত ভবিষ্যৎ বড় টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে প্রধান নির্বাচক নিয়োগ দেয়। বিশেষ করে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসর সামনে রেখে দুই বছরের চুক্তি করা হয়।

তবে লিপু জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হতে পারে, কিন্তু সেই সময়েও ব্যক্তিগত কারণে ৬–৭ সপ্তাহ দেশের বাইরে থাকতে হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে তিনি পূর্ণ সময় দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না বলে মনে করছেন। ফলে বোর্ড যদি স্বল্পমেয়াদি চুক্তির প্রস্তাব দেয়, সে বিষয়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত আছেন।

পারিবারিক ব্যস্ততা ও সময়ের সংকট

লিপু জানিয়েছেন, ২৭ জানুয়ারি থেকে তিনি পারিবারিক কাজে ব্যস্ত থাকবেন। এর ফলে দায়িত্বে সক্রিয় থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বোর্ডকে এই বিষয়টিও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।

তার ভাষায়, দায়িত্ব পালন করতে হলে পূর্ণ মনোযোগ ও সময় প্রয়োজন। কিন্তু ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অগ্রাধিকার এখন তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে তিনি দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভাবছেন।

বিসিবির প্রতিক্রিয়া

এদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তার পাঠানো ইমেইল পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

প্রয়োজনে স্বল্পমেয়াদে দায়িত্ব বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। বোর্ড এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক সিরিজের কথা মাথায় রেখে তারা বিকল্প পরিকল্পনাও বিবেচনা করছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রধান নির্বাচকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বোর্ড দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে লিপুর অবদান

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তিনি বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে দলের অধিনায়ক ছিলেন। দেশের ক্রিকেটের সূচনালগ্ন থেকে তিনি যুক্ত ছিলেন।

শুধু খেলোয়াড় হিসেবেই নয়, প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও তার অবদান রয়েছে। তিনি বিসিবির সাবেক পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার অভিজ্ঞতা ও ক্রিকেট জ্ঞান নির্বাচক কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক।

প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বের গুরুত্ব

বাংলাদেশ জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ গঠন অনেকাংশেই নির্ভর করে নির্বাচকদের ওপর। তরুণ প্রতিভা খুঁজে বের করা, অভিজ্ঞদের সুযোগ দেওয়া এবং দল গঠনের ভারসাম্য রক্ষা—এসবই প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব।

বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই দায়িত্ব আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তাই প্রধান নির্বাচকের পদে পরিবর্তন হলে তা দলের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে?

যদি লিপু দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান, তাহলে বিসিবিকে নতুন প্রধান নির্বাচক খুঁজতে হবে। এর ফলে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে বোর্ড চাইলে স্বল্পমেয়াদি সমাধান হিসেবে বর্তমান কাঠামো বজায় রাখার পথও বেছে নিতে পারে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সামনে বড় টুর্নামেন্ট রয়েছে। তাই এই সময়ে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতামত

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বিসিবির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতার দিক থেকে লিপুর বিকল্প খুঁজে পাওয়া সহজ নয়।

তবে একই সঙ্গে নতুন নেতৃত্ব দলকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দিতে পারে। আধুনিক ক্রিকেটে পরিকল্পনা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি চিন্তার গুরুত্ব বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচক পরিবর্তন

বিশ্ব ক্রিকেটে নির্বাচক পরিবর্তন নতুন কিছু নয়। অনেক দেশের ক্রিকেট বোর্ড নিয়মিতভাবে নির্বাচক প্যানেলে পরিবর্তন আনে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাঠামো ও নির্বাচক প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়


বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে পরিস্থিতি। যদি স্বল্পমেয়াদি চুক্তি হয়, তাহলে বর্তমান কাঠামো বজায় থাকবে।

অন্যদিকে নতুন প্রধান নির্বাচক নিয়োগ দিলে দল গঠনের কৌশলে পরিবর্তন আসতে পারে।

এই সিদ্ধান্ত জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সবকিছু বিবেচনায় গাজী আশরাফ হোসেন লিপু প্রধান নির্বাচক পদ ছাড়তে চান—এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এখন দেখার বিষয়, বিসিবি কীভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কীভাবে সাজায়।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্তই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বাধিক পঠিত