এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (50)
মুক্তিযুদ্ধের জায়গায় মুক্তিযুদ্ধ চব্বিশের জায়গায় চব্বিশ: আমীর খসরু
Shikor Web Image (47)
সংযমের মধ্য দিয়ে সমাজজীবনে শান্তি-স্বস্তি-ইনসাফ ফিরে আসুক: মির্জা ফখরুল
Shikor Web Image (45)
বাংলাদেশে মব কালচারের দিন শেষ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
Shikor Web Image (41)
সংস্কারের মাধ্যমে দেশের সব ধরনের আবর্জনা দূর করতে চাই: বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান
Shikor Web Image (35)
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ: বলেন আইনের শাসনই হবে শেষ কথা

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ৩ সিটি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক সূচনা

স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হচ্ছে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি দিয়ে। ইসি প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঈদের পর ধারাবাহিক ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা।

বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করতে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, এই তিনটি বড় সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সিটি, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করা হবে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই দ্রুত প্রস্তুতি গ্রহণ করে ভোট আয়োজনের পথে এগোনো হবে। ঈদের পর ধারাবাহিকভাবে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিশনাররা।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: কেন ৩ সিটি দিয়ে শুরু

নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ সিটি করপোরেশনগুলো। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন

আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন বাধ্যতামূলক। সেই হিসেবে এই তিনটি সিটির নির্বাচন জরুরি হয়ে পড়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালের ২ জুন। পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের ১ জুন। একইভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা হয়েছিল ২০২০ সালের ৩ জুন এবং এর মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ২ জুন।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। আইন অনুযায়ী এই সিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি। ফলে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সময়ের চাপ সবচেয়ে বেশি চট্টগ্রামে।

অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপ ও বর্তমান বাস্তবতা

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর নতুন পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের স্থানীয় সরকার কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনে। মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০ পৌরসভা, ৪৯৭ উপজেলা পরিষদ এবং ৬৪টি জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করা হয়।

বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এই বাস্তবতায় দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।

তবে আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাহাদাত হোসেন।রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও নির্বাচন বিলম্ব

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আলোচনা শুরু হয়েছিল। সে সময় তিনটি বড় সিটির নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)সহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের আপত্তির কারণে সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার সম্মতি দেয়নি।

এতে নির্বাচন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হলেও বর্তমানে আবার এই বিষয়টি অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

প্রশাসনিক প্রস্তুতি: ইসির করণীয়

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, চিঠি পাওয়ার পরই প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরু করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • ভোটার তালিকা হালনাগাদ

  • নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ

  • প্রার্থী যাচাই-বাছাই

  • নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়োগ

  • নির্বাচনী উপকরণ প্রস্তুতি

বিশেষ করে চট্টগ্রাম সিটির ক্ষেত্রে সময় সীমিত হওয়ায় আলাদা জরুরি পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের অবস্থান

ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নির্বাচন আয়োজনই কমিশনের মূল দায়িত্ব। তিনি বলেন, কমিশন সবসময় প্রস্তুত থাকে। সরকারের নির্দেশনা পেলেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন শুরু করা হবে।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, ঈদের পর ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ধারাবাহিকভাবে সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ভোট সম্পন্ন করা হবে।

নির্বাচন সময়সূচি ও সম্ভাব্য ধাপ

ইসি সূত্র অনুযায়ী সম্ভাব্য ধাপগুলো হতে পারে—

প্রথম ধাপ

ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন

দ্বিতীয় ধাপ

বাকি ৯টি সিটি করপোরেশন

তৃতীয় ধাপ

জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

এই ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার কাঠামো পুনর্গঠন করা হবে।

স্থানীয় প্রশাসন ও সেবা কার্যক্রমে প্রভাব

প্রশাসকদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার পরিচালিত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সেবা কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে বলে বিভিন্ন মহল মনে করছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

এই কারণে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হলে তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র আরও কার্যকর হয়। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রশাসনিক কার্যকারিতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

আইনগত বাধ্যবাধকতা ও সাংবিধানিক দিক

বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচন আয়োজন করতে হয়। এর ব্যত্যয় হলে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে ইসি তিনটি মেয়াদোত্তীর্ণ সিটিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় নির্বাচন—কোনটি আগে হবে—এই প্রশ্নটি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সফলভাবে আয়োজন করতে পারলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘ সময় প্রশাসকদের মাধ্যমে পরিচালিত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আবার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন দিয়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হলে তা দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোতে নতুন গতি আনতে পারে।

ঈদের পর ধারাবাহিকভাবে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের তৃণমূল গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত