মেসি অবসরের পর ক্লাবের মালিক হতে চান। কোচ নয়, নিজস্ব ক্লাব গড়ে তোলার ২০২৮ পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য জানুন Shikor TV Canada-তে।
মেসি অবসরের পর ক্লাবের মালিক—এই কথাটাই এখন ফুটবল দুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে। মাঠের জাদুকর লিওনেল মেসি জানিয়ে দিয়েছেন, অবসরের পর কোচ হওয়ার পথে হাঁটতে তিনি আগ্রহী নন। বরং তার লক্ষ্য আরও বড়—নিজের একটি ফুটবল ক্লাব গড়ে তোলা।
সম্প্রতি আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম লুজু টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, কোচিং নয়, ক্লাব মালিকানাই তাকে বেশি টানে। ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে এমন ঘোষণা ভক্তদের জন্য যেমন চমক, তেমনি ফুটবল ব্যবসার দুনিয়ায় এটি এক নতুন বার্তা।
মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ভবিষ্যতের এই পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কোচ নয় কেন? মেসির দৃষ্টিভঙ্গি

ফুটবল ইতিহাসে অনেক কিংবদন্তিই অবসরের পর কোচিং পেশায় এসেছেন। পেপ গার্দিওলা, জিনেদিন জিদান কিংবা কার্লো আনচেলত্তির মতো নামগুলো তার উদাহরণ। কিন্তু মেসি অবসরের পর ক্লাবের মালিক হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটছেন।
মেসির ভাষায়,
“কোচ হওয়া আমার পছন্দ, কিন্তু আমি মালিক হতে চাই। নিজের ক্লাব থাকবে, নিচের স্তর থেকে শুরু করব এবং সেটাকে বড় করব।”
এই বক্তব্যে পরিষ্কার, তিনি শুধু মাঠের কৌশল নয়—একটি ক্লাবের পূর্ণ কাঠামো, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ গড়তে চান।
ইন্টার মায়ামির সঙ্গে ২০২৮ পর্যন্ত চুক্তি
মেসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বড় অংশ জুড়ে আছে ইন্টার মায়ামি। তিনি ইতোমধ্যে ক্লাবটির সঙ্গে ২০২৮ মৌসুম পর্যন্ত চুক্তি বাড়িয়েছেন। এর অর্থ, মাঠের ফুটবলে এখনও পুরোপুরি মনোযোগী মেসি।
এই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি তাকে ধীরে ধীরে ফুটবলের প্রশাসনিক ও মালিকানা দিক বুঝে নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টার মায়ামিতে খেলার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে তার নিজস্ব ক্লাব পরিচালনায় বড় ভূমিকা রাখবে।
ডিপোর্তিভো এলএসএম: মালিকানার পথে প্রথম ধাপ
অনেকেই জানেন না, মেসি অবসরের পর ক্লাবের মালিক হওয়ার পথে ইতোমধ্যেই একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন।
গত বছর দীর্ঘদিনের সতীর্থ লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে মিলে তিনি উরুগুয়ের চতুর্থ বিভাগের ক্লাব ডিপোর্তিভো এলএসএম চালু করেন। ক্লাবটির নাম এসেছে দুই বন্ধুর নামের আদ্যক্ষর থেকে।
বর্তমানে—
-
ক্লাবের সদস্য সংখ্যা: ৩ হাজারের বেশি
-
পেশাদার কর্মী: প্রায় ৮০ জন
-
লক্ষ্য: নিচের স্তর থেকে ধীরে ধীরে উপরের লিগে ওঠা
এটি স্পষ্ট করে দেয়, মেসির পরিকল্পনা কাগজে-কলমে নয়; বাস্তব কাজের মধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।
যুব ফুটবলে বিনিয়োগ: মেসি কাপ
ক্লাব মালিক হওয়ার স্বপ্নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আরেকটি উদ্যোগ হলো ‘মেসি কাপ’। এটি একটি অনূর্ধ্ব-১৬ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট।
এই টুর্নামেন্টে—
-
বিশ্বের বিভিন্ন ফুটবল একাডেমির দল অংশ নেয়
-
তরুণ প্রতিভা খুঁজে বের করাই মূল লক্ষ্য
-
প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব রিভার প্লেট
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে মেসি অবসরের পর ক্লাবের মালিক হিসেবে শুধু ব্যবসা নয়, ফুটবলের ভবিষ্যৎ গড়তেও আগ্রহী।
মেসির পরিকল্পনায় ফুটবল ব্যবসার নতুন ধারা
ফুটবল এখন আর শুধু খেলা নয়, এটি একটি বড় শিল্প। ক্লাব মালিকানা মানে কেবল দল গড়া নয়—এটি একটি ব্র্যান্ড তৈরি করা।
মেসির মতো তারকা যদি সরাসরি ক্লাব মালিক হন, তাহলে—
-
স্পনসরশিপ সহজ হবে
-
তরুণ খেলোয়াড়রা আকৃষ্ট হবে
-
বিশ্বব্যাপী ফ্যানবেস তৈরি হবে
বিশ্ব ফুটবল অর্থনীতি নিয়ে আরও জানতে চাইলে দেখুন
মাঠে এখনও পুরোপুরি ফোকাসড মেসি
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমানকে অবহেলা করছেন না মেসি। তিনি ইন্টার মায়ামির হয়ে ২০২৬ মৌসুম শুরু করবেন ২১ ফেব্রুয়ারি, প্রতিপক্ষ এলএএফসি।
এছাড়া, জুনে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে তাকে আবারও আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ মাঠের ফুটবল এখনও তার প্রধান অগ্রাধিকার।
কেন এই সিদ্ধান্ত মেসির ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ
মেসি অবসরের পর ক্লাবের মালিক হওয়ার সিদ্ধান্ত তার ক্যারিয়ারে তিনটি বড় অর্থ বহন করে—
-
তিনি কোচিংয়ের চাপ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন
-
নিজের ফুটবল দর্শন বাস্তবায়নের পূর্ণ সুযোগ পাবেন
-
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী অবদান রেখে যেতে পারবেন
এটি শুধু মেসির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, আধুনিক ফুটবলের এক নতুন ট্রেন্ডও।
কোচ না হয়ে ক্লাব মালিক হওয়া মানে, ফুটবলকে আরও গভীরভাবে দেখা। আর সেই পথেই হাঁটছেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা।




