সীমিতভাবে চালু মধ্যপ্রাচ্য ফ্লাইট, মধ্যপ্রাচ্য ফ্লাইট বাতিলের প্রভাবে এক সপ্তাহে ২৬৮টি ফ্লাইট বন্ধ হয়েছে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে।কিছু রুটে ফ্লাইট চালু থাকলেও সংকট এখনো কাটেনি।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্য ফ্লাইট বাতিল হওয়ার ঘটনা গত এক সপ্তাহে বড় আকার ধারণ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ থাকার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে। ফলে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত মোট ২৬৮টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সকে।
বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে কয়েকটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদিও সংকটের মধ্যেও সীমিত আকারে কিছু রুটে ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে আকাশসীমা বন্ধের প্রভাব

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পরিচালিত মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইটগুলোর ওপর। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় একাধিক ফ্লাইট বাতিল করে।
বিমান চলাচল বিশ্লেষকদের মতে, আকাশসীমা বন্ধ হয়ে গেলে অনেক সময় বিকল্প রুট ব্যবহারের সুযোগ থাকে না। ফলে ফ্লাইট বাতিল করা ছাড়া এয়ারলাইন্সগুলোর সামনে অন্য বিকল্প থাকে না।
এক সপ্তাহে বাতিল ২৬৮টি ফ্লাইট
বিমানবন্দর সূত্র অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ধাপে ধাপে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বাতিল ফ্লাইটের দিনভিত্তিক হিসাব হলো:
-
২৮ ফেব্রুয়ারি: ২৩টি
-
১ মার্চ: ৪০টি
-
২ মার্চ: ৪৬টি
-
৩ মার্চ: ৩৯টি
-
৪ মার্চ: ২৮টি
-
৫ মার্চ: ৩৬টি
-
৬ মার্চ: ৩৪টি
-
৭ মার্চ: ২০টি
সব মিলিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত মোট ২৬৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
এটি সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যগামী বিমান চলাচলে অন্যতম বড় বিঘ্ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
৭ মার্চ যেসব এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিল
৭ মার্চ বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স রয়েছে।
এসব এয়ারলাইন্সের মধ্যে রয়েছে:
-
কুয়েত এয়ারওয়েজ – ২টি
-
জাজিরা এয়ারওয়েজ – ২টি
-
এয়ার অ্যারাবিয়া – ৬টি
-
গালফ এয়ার – ২টি
-
কাতার এয়ারওয়েজ – ৪টি
-
এমিরেটস এয়ারলাইন্স – ৪টি
এই তালিকা থেকেই বোঝা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিমান সংস্থাগুলোর বেশ কয়েকটি রুট সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
সীমিতভাবে চালু কিছু মধ্যপ্রাচ্য রুট
যদিও বড় সংখ্যক মধ্যপ্রাচ্য ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, তবুও সব রুট পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সীমিত আকারে কিছু গন্তব্যে ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত মোট ২১৪টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে।
এই ফ্লাইটগুলো প্রধানত পরিচালিত হয়েছে:
-
ওমানের মাসকাট
-
সৌদি আরব
-
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু রুট
দিনভিত্তিক পরিচালিত ফ্লাইটের সংখ্যা:
-
২৮ ফেব্রুয়ারি – ৬টি
-
১ মার্চ – ২০টি
-
২ মার্চ – ১৮টি
-
৩ মার্চ – ২২টি
-
৪ মার্চ – ৩৫টি
-
৫ মার্চ – ৩৮টি
-
৬ মার্চ – ৩৪টি
-
৭ মার্চ – ৪১টি
এ থেকে বোঝা যায়, ধীরে ধীরে কিছু রুটে বিমান চলাচল আবারও স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
ধাপে ধাপে ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলেও ধীরে ধীরে কিছু রুট পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে:
-
ওমানগামী ফ্লাইট
-
সৌদি আরবগামী ফ্লাইট
এসব রুটে ফ্লাইট তুলনামূলকভাবে নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে।
এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু রুটেও ধাপে ধাপে ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জন্য সতর্কতা
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে।
কারণ পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে নির্ধারিত ফ্লাইটও শেষ মুহূর্তে বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
যাত্রীদের জন্য প্রধান পরামর্শগুলো হলো:
-
ভ্রমণের আগে এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইট বা হটলাইনে যোগাযোগ করা
-
ফ্লাইট স্ট্যাটাস যাচাই করা
-
বিকল্প ভ্রমণ পরিকল্পনা রাখা
পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা সংকট পুরোপুরি কাটতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে:
-
আকাশসীমা পুনরায় খোলা
-
নিয়মিত ফ্লাইট চালু হওয়া
-
আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের স্বাভাবিকতা ফিরে আসা
তবে সীমিত আকারে ফ্লাইট চালু হওয়া থেকে বোঝা যাচ্ছে যে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার দিকে এগোচ্ছে।




