আরও খবর

Shikor Web Image (39)
আওয়ামী লীগ আমলের মতো তাণ্ডব দেখতে পাচ্ছি: আসিফ মাহমুদ
Shikor Web Image (36)
দায়িত্বশীল বিরোধী দল হবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান
Shikor Web Image (30)
মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন যাঁরা
Shikor Web Image (27)
আজ ডা. শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলামের বাসায় যাবেন তারেক রহমান
Shikor Web Image (24)
নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান: ১৩ দেশের সরকার প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে

মির্জা ফখরুলের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হওয়ার গুঞ্জন

মির্জা ফখরুলের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হওয়ার গুঞ্জন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও আপসহীন নেতৃত্ব দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের পাশাপাশি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদগুলো নিয়ে হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হবেন। বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এই পদে এগিয়ে রয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে, নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর মির্জা ফখরুল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এই ঘটনাক্রমে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি পদে তার মনোনয়নের বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক গুরুত্ব

দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ এবং পরিচ্ছন্ন নেতৃত্বের জন্য পরিচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং দলের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার গ্রহণযোগ্যতা ও আপসহীন ভাবমূর্তি রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদের জন্য তাকে একজন শক্ত প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছে।

সূত্র জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। একই দিন বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতিই মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করেন—এই কারণে রাষ্ট্রপতি নিয়োগের বিষয়টি এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদ: রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দীর্ঘদিনের আন্দোলন, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং সৎ নেতৃত্ব দেশের রাষ্ট্রীয় ভারসাম্য ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তার রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব নেওয়া দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি শক্ত বার্তা হিসেবে গ্রহণ করা হবে।

জীবনী ও শিক্ষা

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলার একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে তিনি ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে উঠে আসেন এবং ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তী সময়ে সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী এবং দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০১৬ সালে বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি দলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি মহাসচিব হিসেবে পরিচিতি পান। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, স্বাধীন নির্বাচন এবং জনগণের মৌলিক অধিকারের দাবিতে দীর্ঘদিনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে, রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব নিলে এটি দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দাঁড়াবে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রত্যাশা

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হলে সংবিধানিক ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করতে অবদান রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং আপসহীন নেতৃত্ব দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রেরণা যোগ করতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত