ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, নরেন্দ্র মোদি তাঁকে বলেছিলেন, “স্যার, আমি কি আপনার সঙ্গে একটু দেখা করতে পারি?”
মোদি ট্রাম্প বৈঠক শুল্ক ইস্যু নিয়ে মুখ খুললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার তেল কেনায় ভারতের ওপর ৫০% শুল্ক আরোপে বাড়ছে কূটনৈতিক চাপ।
মোদি ট্রাম্প বৈঠক শুল্ক ইস্যু ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ভারত–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সংবেদনশীল দিকগুলো আবারও সামনে এনেছে। রাশিয়া থেকে তেল কেনাকে কেন্দ্র করে ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছে, তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি—এমন দাবিই করেছেন ট্রাম্প।
মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান সদস্যদের এক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর সঙ্গে সরাসরি দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এই বক্তব্য শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং মোদি ট্রাম্প বৈঠক শুল্ক ইস্যুর গভীর বাস্তবতা তুলে ধরেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ট্রাম্পের বক্তব্যে কী বললেন মোদি?

ট্রাম্প বলেন, তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো হলেও সাম্প্রতিক শুল্ক সিদ্ধান্তে মোদি সন্তুষ্ট নন। বিশেষ করে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপকে কেন্দ্র করেই এই অসন্তোষ।
এই মন্তব্যের মাধ্যমে মোদি ট্রাম্প বৈঠক শুল্ক ইস্যু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নতুন মাত্রা পেয়েছে।
মোদি ট্রাম্প বৈঠক শুল্ক ইস্যু: কেন ৫০ শতাংশ শুল্ক?
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এর মধ্যে—
-
২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার “শাস্তিস্বরূপ”
-
বাকি অংশ অন্যান্য বাণিজ্যিক কারণে
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ভারত দীর্ঘ সময় ধরেই রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি করছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তারা সেই আমদানি কিছুটা কমিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মোদি ট্রাম্প বৈঠক শুল্ক ইস্যুর মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো—রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের পর বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতি।
রাশিয়ার তেল কেনা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
রাশিয়া থেকে তেল কেনা ভারতের জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হলেও, পশ্চিমা বিশ্ব বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এটি রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্র চায়—
-
রাশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তি কমাতে
-
মিত্র দেশগুলোকে রাশিয়ার জ্বালানি থেকে দূরে রাখতে
কিন্তু ভারতের বাস্তবতা ভিন্ন। বিশাল জনসংখ্যা ও শিল্পখাতের চাহিদা মেটাতে সস্তা জ্বালানি ভারতের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
এই বাস্তবতার কারণেই মোদি ট্রাম্প বৈঠক শুল্ক ইস্যু কেবল দ্বিপাক্ষিক নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতির অংশ।
ভারত–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক: চাপ ও সহযোগিতা একসঙ্গে
শুল্ক ইস্যু থাকা সত্ত্বেও ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পুরোপুরি টানাপোড়েনে পড়েনি। ট্রাম্প নিজেই বলেছেন, তাঁদের সম্পর্ক “খুব ভালো”।
এর প্রমাণ পাওয়া যায় সামরিক সহযোগিতায়।
অ্যাপাচে হেলিকপ্টার চুক্তি
ট্রাম্প জানান, ভারত তাঁকে বলেছে—
-
তারা ৫ বছর ধরে অ্যাপাচে হেলিকপ্টারের জন্য অপেক্ষা করছে
-
ভারত ইতোমধ্যে ৬৮টি অ্যাপাচে হেলিকপ্টারের অর্ডার দিয়েছে
এই প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন,
“আমরা এই পরিস্থিতির পরিবর্তন করছি।”
এটি স্পষ্ট করে যে, মোদি ট্রাম্প বৈঠক শুল্ক ইস্যুর পাশাপাশি সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্কও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে।
শুল্ক ইস্যুতে ভারতের অবস্থান কী?
ভারত প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা না করলেও, কূটনৈতিকভাবে অসন্তোষের বার্তা দিয়েছে।
ভারতের যুক্তি—
-
তারা কোনো নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করছে না
-
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের অধিকার
-
একই সঙ্গে তারা ধীরে ধীরে রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমাচ্ছে
এই অবস্থানই মোদি ট্রাম্প বৈঠক শুল্ক ইস্যুকে আরও জটিল করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে—
-
এই শুল্ক সিদ্ধান্ত ভারতের অর্থনীতিতে স্বল্পমেয়াদি চাপ তৈরি করবে
-
তবে দীর্ঘমেয়াদে ভারত বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজতে আরও সক্রিয় হবে
-
যুক্তরাষ্ট্রও ভারতকে পুরোপুরি দূরে ঠেলে দিতে চাইবে না
কারণ, ভারত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার।
এই প্রেক্ষাপটে মোদি ট্রাম্প বৈঠক শুল্ক ইস্যু কেবল দ্বন্দ্ব নয়, বরং দরকষাকষির কৌশল বলেও মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা—
-
শুল্ক হার ধীরে ধীরে পুনর্বিবেচনা হতে পারে
-
ভারত রাশিয়ার তেল আমদানি আরও কমাতে পারে
-
যুক্তরাষ্ট্র–ভারত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বাড়তে পারে
সব মিলিয়ে মোদি ট্রাম্প বৈঠক শুল্ক ইস্যু আগামী মাসগুলোতেও আন্তর্জাতিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে থাকবে।




