এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (27)
বিজিবির নতুন ৩০২৩ সদস্য শপথ: নিলেন দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষার
Shikor Web Image (24)
বিএনপি গণভোটে হ্যাঁ ভোট সিদ্ধান্ত: নজরুল ইসলাম খান
Shikor Web Image (23)
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লাখ সদস্য: দায়িত্বে থাকবে বললেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
Shikor Web Image (19)
জনগণের আস্থা তৈরি করার দায়িত্ব রাজনীতিবিদদেরই: আমীর খসরু
Shikor Web Image (8)
১১ দলীয় জোট আসন সমঝোতা: জামায়াত লড়বে কত আসনে?

কত আসনে লড়বে এনসিপি

কত আসনে লড়বে এনসিপি বলে জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কৌশলগত জোট, গণভোট ও সরকার গঠনের লক্ষ্য স্পষ্ট।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির সাম্প্রতিক ঘোষণা। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কত আসনে লড়বে এনসিপি—এমন তথ্য প্রকাশ্যে জানিয়েছেন দলটির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এই ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে।

সোমবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ১১ দলের নির্বাচনী সমঝোতা জোটের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের ভেতরে ও জোটের শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এনসিপি ৩০ আসনে লড়বে: নির্বাচনী সমঝোতার বাস্তব চিত্র

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া স্পষ্টভাবে বলেন, এনসিপি ৩০ আসনে লড়বে জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। তিনি জানান, দেশের বৃহত্তর স্বার্থ এবং জনগণের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে দলীয় নেতাকর্মীরা এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন।

তার ভাষায়, এটি কোনো আবেগনির্ভর সিদ্ধান্ত নয়। বরং বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ১১ দলের সমঝোতা জোটের লক্ষ্য একটাই—সংস্কার ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত রাজনৈতিক অবস্থান গড়ে তোলা।

এই জোটকে তিনি “সংস্কারের জোট” হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার মতে, এই ঐক্যই আগামী দিনে সরকার গঠনের পথ সুগম করতে পারে।

কৌশলগত জোট, আদর্শিক নয়

এনসিপির এই জোট নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠলেও আসিফ মাহমুদ বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, এটি কোনো আদর্শিক জোট নয়, বরং একটি কৌশলগত জোট।

রাজনীতির বাস্তবতায় অনেক সময় ছাড় দিতে হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এনসিপি এই জোট গঠনের জন্য যথেষ্ট ছাড় দিয়েছে। একই মানসিকতা অন্য দলগুলোর মধ্যেও থাকায় জোটটি সম্ভব হয়েছে।

এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, আসন্ন নির্বাচনে এনসিপি শক্ত অবস্থান নিলেও তারা এককভাবে নয়, বরং জোটগত রাজনীতিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

সরকার গঠনের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক লক্ষ্য

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই জোট ইনশাআল্লাহ সরকার গঠন করবে। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপি ৩০ আসনে লড়বে—এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে দলটি নিজেদের সীমাবদ্ধতা যেমন স্বীকার করছে, তেমনি বৃহত্তর রাজনৈতিক লক্ষ্যকেও সামনে আনছে।

তিনি আরও বলেন, যারা পদত্যাগপত্র দিয়েছেন, তারা এখনো দলের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাদের পদত্যাগপত্র এখনো গ্রহণ করা হয়নি। ভবিষ্যতে আবার একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

২৭০ আসনে গণভোট কার্যক্রমে এনসিপি

৩০টি আসনের বাইরে এনসিপির কার্যক্রম এখানেই শেষ নয়। আসিফ মাহমুদ জানান, যেসব ২৭০টি আসনে এনসিপির কোনো প্রার্থী নেই, সেখানে দলটি ভিন্ন কৌশল নিয়েছে।

সেসব আসনে প্রতিনিধির মাধ্যমে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাবে এনসিপি। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করবে দলটির নেতাকর্মীরা।

এই উদ্যোগকে তিনি একটি রাজনৈতিক সচেতনতা কর্মসূচি হিসেবেও ব্যাখ্যা করেন। এতে করে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়বে এবং দলীয় অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে।

এনসিপির সিদ্ধান্ত কতটা বাস্তবসম্মত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এনসিপি ৩০ আসনে লড়বে—এই সিদ্ধান্ত বাস্তবতা বিবেচনায় যথেষ্ট কৌশলী। সীমিত আসনে প্রার্থী দিয়ে শক্তিশালী প্রচারণা চালানো তুলনামূলকভাবে কার্যকর হতে পারে।

একই সঙ্গে গণভোট কার্যক্রমের মাধ্যমে সারাদেশে দলীয় উপস্থিতি বজায় রাখার কৌশলও গ্রহণ করেছে এনসিপি। এতে করে দলটি জাতীয় রাজনীতিতে দৃশ্যমান থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি ব্যালান্সড রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি, যা ছোট ও মাঝারি দলের জন্য কার্যকর হতে পারে।

নির্বাচন কমিশন ও আইনগত কাঠামো

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালিত হয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে। নির্বাচন সংক্রান্ত সব নিয়ম, আচরণবিধি ও গণভোট কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট একটি নির্ভরযোগ্য উৎস।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এনসিপির এই সিদ্ধান্ত দলটির ভবিষ্যৎ কৌশলের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। সীমিত আসনে নির্বাচন করেও জাতীয় পর্যায়ে প্রভাব রাখার পরিকল্পনা করছে দলটি।

আসিফ মাহমুদের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে ঐক্য, ছাড় এবং কৌশলের কথা। এতে বোঝা যায়, এনসিপি আবেগ নয়, বাস্তবতার ভিত্তিতেই এগোতে চায়।

আগামী দিনে এই সিদ্ধান্ত কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে ভোটারদের সাড়া, জোটের ঐক্য এবং মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমের ওপর।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এনসিপি ৩০ আসনে লড়বে—এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।

সর্বাধিক পঠিত