এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (72)
এপস্টেইন ফাইলস: যে কারণে এটি বিশ্বব্যাপী এত আলোচিত
Shikor Web Image (21)
ফিলিপিন্সে মেয়রের গাড়িতে রকেট হামলা: চতুর্থবার প্রাণে বাঁচলেন শরিফ আগুয়াকের মেয়র
Shikor Web Image (18)
মায়ানমারের স্ক্যাম মাফিয়ার মৃত্যুদণ্ড: ১১ সদস্যকে শাস্তি দিল চীন
Shikor Web Image (15)
থাইল্যান্ডে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত: ২ পাইলট নিহত
Shikor Web Image - 2026-01-28T140227.923
অ্যারিজোনা মানবপাচার ঘটনা: সীমান্তরক্ষীর গুলিতে সন্দেহভাজন আহত

নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর ও গ্রেপ্তার হুমকি

নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর ও গ্রেপ্তার হুমকি—এই বিষয়টি সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের ঘোষণা বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

একদিকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বাস্তবতা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর।


আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর

নিউইয়র্ক টাইমসের ডিলবুক ফোরামে ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকারে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে জানান, গ্রেপ্তার হুমকি সত্ত্বেও তিনি নিউইয়র্ক সফরের পরিকল্পনা বাতিল করছেন না।

তার ভাষায়, “হ্যাঁ, আমি নিউইয়র্কে আসব।” এই মন্তব্যই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।


মামদানির গ্রেপ্তার হুমকি কতটা বাস্তব

নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র মামদানি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের যেসব নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে, তাঁরা নিউইয়র্কে প্রবেশ করলে গ্রেপ্তার করা হবে।

এ বক্তব্যে নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর ও গ্রেপ্তার হুমকি আরও আলোচনায় আসে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি মূলত ফেডারেল সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকে।


নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর ও গ্রেপ্তার হুমকি: আইসিসি পরোয়ানা বিশ্লেষণ

২০২৪ সালে হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত জানায়—গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

তবে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া কেউই আইসিসির সদস্য নয়। ফলে আইসিসির পরোয়ানা কার্যকর করা বাস্তবিক অর্থে জটিল।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও ফেডারেল ক্ষমতা

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারই ভিসা, নিরাপত্তা ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা রাখে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রশাসন বরাবরই ইসরায়েলের পক্ষে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

এমনকি আইসিসির বিচারক ও প্রসিকিউটরদের ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছিল। ফলে মামদানির ঘোষণার বাস্তবায়ন আইনি ও সাংবিধানিকভাবে দুর্বল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


নিউইয়র্ক শহরের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বাস্তবতা

নিউইয়র্ক শহর ইসরায়েলের বাইরে বিশ্বের সর্বাধিক ইহুদি জনসংখ্যার আবাসস্থল। পাশাপাশি এখানে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তর, যেখানে নেতানিয়াহু প্রতিবছর সাধারণ পরিষদে অংশ নেন।

চুক্তি অনুযায়ী, জাতিসংঘ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভিসা দিতে বাধ্য।


আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও কূটনৈতিক বিশ্লেষণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর ও গ্রেপ্তার হুমকি মূলত রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার কৌশল। এটি বাস্তব গ্রেপ্তারের চেয়ে প্রতীকী চাপ সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ইসরায়েল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং দাবি করেছে—দেশটি আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে।

ভবিষ্যৎ কী বলছে

বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তার কার্যত অসম্ভব। তবে নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর ও গ্রেপ্তার হুমকি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চাপ ও আলোচনার মাত্রা বাড়াবে—এটা নিশ্চিত।

সব দিক বিবেচনায়, নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর শুধু একটি কূটনৈতিক সফর নয়—এটি আন্তর্জাতিক আইন, রাজনীতি ও ক্ষমতার বাস্তবতার প্রতিফলন। মামদানির বক্তব্য জনমতকে নাড়িয়ে দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কাঠামো এবং বৈশ্বিক রাজনীতি নেতানিয়াহুকে আপাতত সুরক্ষা দিচ্ছে।

Shikor TV Canada পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আপনাদের জন্য নির্ভরযোগ্য আপডেট পৌঁছে দেবে।

সর্বাধিক পঠিত