নতুন বাংলাদেশ পুরাতন ফর্মুলায় চলবে না—এই বক্তব্য এখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত। সাম্প্রতিক এক গণসমাবেশে এই শক্তিশালী মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে পুরনো রাজনীতির ব্যর্থতা, জনগণের প্রত্যাশা, সংস্কারের দাবি এবং আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি।
রাজধানীর ভাসানটেক বিআরপি মাঠে আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জনগণ আর পুরনো, বস্তাপচা ও দুর্গন্ধময় রাজনীতি দেখতে চায় না। তারা চায় একটি নতুন বাংলাদেশ—যে বাংলাদেশ পুরাতন ফর্মুলায় চলবে না।
পুরনো রাজনীতির প্রতি জনগণের অনাস্থা
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের আপামর জনগণ পুরনো রাজনীতির ধারা প্রত্যাখ্যান করেছে। ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, দলীয় পক্ষপাত এবং জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা—এসব কারণে রাজনীতির প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে।
এই বাস্তবতায় তিনি জোর দিয়ে বলেন, নতুন বাংলাদেশ পুরাতন ফর্মুলায় চলবে না। বরং রাজনীতিকে নতুন কাঠামো ও আদর্শে ঢেলে সাজাতে হবে।
নতুন বাংলাদেশ পুরাতন ফর্মুলায় চলবে না: বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য
এই বক্তব্য শুধুই একটি স্লোগান নয়। এর মাধ্যমে তিনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেন—
১. রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি
পুরনো শাসনব্যবস্থা ও ক্ষমতার চর্চা আর কার্যকর নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। জনগণ চায় মৌলিক সংস্কার।
২. দায়িত্বশীল নেতৃত্ব
আগামী দিনে সরকারপ্রধান ও রাষ্ট্রের প্রতিটি দায়িত্বশীল ব্যক্তি যেন নিজের আগে জনগণের কথা ভাবেন—এই প্রত্যাশা তুলে ধরেন তিনি।
৩. জনগণের মালিকানা নিশ্চিতকরণ
তার মতে, জনগণের স্বার্থ জনগণের হাতেই তুলে দিতে হবে।
জনগণের সরকার কেমন হওয়া উচিত
শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, জনগণ আর কোনো পক্ষপাতদুষ্ট সরকার দেখতে চায় না। তারা চায় এমন একটি সরকার—
-
যা জনগণের ম্যান্ডেটে গঠিত
-
যা জনগণের স্বার্থে কাজ করবে
-
যেখানে ক্ষমতা ভোগ নয়, দায়িত্ব পালনই মুখ্য
এই দর্শনের ভিত্তিতে তিনি আবারও পুনরুচ্চার করেন—নতুন বাংলাদেশ পুরাতন ফর্মুলায় চলবে না।
ফ্যাসিবাদ প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান
জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, বিপুল ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে পরিবর্তন এলেও ফ্যাসিবাদ পুরোপুরি বিদায় নেয়নি। তার ভাষায়, ফ্যাসিবাদীদের একটি অংশ বিদায় নিয়েছে, কিন্তু তাদের আদর্শ ও প্রভাব এখনো রয়ে গেছে।
এই মন্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও জামায়াতের প্রস্তুতি
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন—
-
জনগণ যাদের কর্মসূচি সমর্থন করবে, তাদেরই বেছে নেবে
-
জামায়াত জনগণের রায়কে সম্মান জানাতে প্রস্তুত
-
নির্বাচিত হলে সব রাজনৈতিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান জানানো হবে
এখানেও মূল বক্তব্য পরিষ্কার—নতুন বাংলাদেশ পুরাতন ফর্মুলায় চলবে না।
বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে বিশ্বস্ত তথ্যসূত্র হিসেবে Election Commission of Bangladesh–এর তথ্য দেখা যেতে পারে।
সহিংসতা ও রাজনৈতিক বিভাজনের অভিযোগ
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু এলাকায় পুরনো সন্ত্রাসীরা নতুন রূপে ফিরে আসছে। কোথাও প্রচারমিছিলে গুলি, কোথাও নারী কর্মীদের ওপর হামলা, আবার কোথাও প্রচারসামগ্রী ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটছে।
তার ভাষায়, যারা জাতিকে বিভক্ত করে, তারাই প্রকৃত শত্রু।
জামায়াত আমিরের শপথ ও আবেগঘন মুহূর্ত
সম্প্রতি রাজধানীর মগবাজারে তৃতীয় মেয়াদে জামায়াতে ইসলামীর আমির হিসেবে শপথ নেন ডা. শফিকুর রহমান। শপথ নেওয়ার সময় তিনি অঝোরে কেঁদে ফেলেন।
তিনি বলেন, এই দায়িত্বের জন্য নিজেকে যোগ্য মনে করেন না। তবুও দলের অর্পিত আমানত রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে মৌলিক তথ্য পাওয়া যাবে Jamaat-e-Islami Bangladesh–এর তথ্যভান্ডারে।
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে একটি বিষয় পরিষ্কার—দেশের রাজনীতি এখন একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। জনগণ পরিবর্তন চায়। তারা চায় ন্যায়ভিত্তিক, অংশগ্রহণমূলক এবং দায়বদ্ধ শাসনব্যবস্থা।





