রাজনীতি নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে একজন রাজসাক্ষী পেলাম, তার নাম রিজওয়ানা ও খলিলুর রহমানকে আইনের আওতায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে- তাহের.
মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের নির্বাচনী ত্রুটি ও নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং অভিযোগ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি সদ্য বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টাকে ‘মীরজাফর’ আখ্যা দেন এবং অভিযোগের পরবর্তী আইনি লড়াই চালানোর ইঙ্গিত দেন।

তাহের জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ৫৩টি আসনে তারা অফিশিয়ালি অভিযোগ দাখিল করেছে এবং এই অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, “নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে আমরা গতকাল একজন রাজসাক্ষী পেয়েছি। সেই রাজসাক্ষীর নাম সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা। তার ভাষ্য, যারা নারীদের উপযুক্ত অধিকার নিশ্চিত করতে পারেননি, তাদের আমরা প্রধান শক্তি হিসেবে আসতে দিইনি। এটি স্পষ্টভাবে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সত্যতা প্রমাণ করে।”
সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানার ভাষ্য
তাহের আরও জানান, রিজওয়ানা বলেছেন, “যারা নারীদের অধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ, তারা বিরোধীদলে থাকলেও মূলধারার শক্তি হিসেবে ধরা হয়নি।” জামায়াতের মতে, এটি সরাসরি প্রমাণ যে নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং কার্যক্রম হয়েছে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং অভিযোগ বিষয়ে আইনের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। তাহের বলেন, “সাবেক এই উপদেষ্টারা জাতির সুষ্ঠু নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষাকে ভণ্ডল করেছেন এবং তারা বাংলার নতুন মীরজাফর।”
খলিলুর রহমান ও লন্ডন কনস্পিরেসি
নায়েবে আমির অভিযোগ করেন, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি ভঙ্গ করেছেন। তিনি বলেন, “একটি নীতিগত কথা ছিল যে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা কোনো দলীয় সরকারের অংশ হবেন না। কিন্তু খলিলুর রহমান মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করেছেন যা তার পূর্বের শপথের পরিপন্থী।”
তাহের আরও উল্লেখ করেন, খলিলুর রহমান ছিলেন ‘লন্ডন কনস্পিরেসির’ প্রধান হোতা এবং তিনি সরকারের ওপর প্রভাব ফেলেছেন। “তার সেই কার্যক্রমের ফলেই তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে পদ লাভ করেছেন। এই সব বিষয় নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে আমরা তুলে ধরছি।”
জামায়াতের আইনি দাবি
জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, “সাবেক দুই উপদেষ্টাকে আইনের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করা আবশ্যক। তারা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক নীতির বিপর্যয় ঘটিয়েছে।” তিনি আরও জানান, দলের পক্ষ থেকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।




