নির্বাচনের আগে মানবাধিকার নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টাকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর খোলা চিঠি পাঠানো হয়েছে, যা নির্বাচনের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মানবাধিকার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে এক গুরুত্বপূর্ণ খোলা চিঠি প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। চিঠিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নাগরিকের জীবন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিঠি প্রকাশ করেছে সংস্থার মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড, যা বুধবার (২৯ জানুয়ারি) তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। নির্বাচনের আগের এই সময়কালে মানবাধিকার নিশ্চিত করা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবাদিক ও নাগরিকের অধিকার রক্ষার জরুরি আহ্বান
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের খোলা চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসবিরোধী আইন (এটিএ) এর অপব্যবহার উদ্বেগজনক। বিশেষ করে সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না এবং আনিস আলমগীরের গ্রেপ্তারের ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের স্বচ্ছ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংস্থার মতে, এই ধরনের স্বেচ্ছাচারী গ্রেপ্তার নিঃসন্দেহে নাগরিকের মত প্রকাশ ও সংগঠনের অধিকার লঙ্ঘন করে। তাই নির্বাচনকালে নাগরিকদের নির্বিঘ্নে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন ও নীতি প্রয়োগ অপরিহার্য।
নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করা সময়ের দাবি
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ ডিসেম্বর সহিংস ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের অপর্যাপ্ত ভূমিকা উদ্বেগজনক। বিশেষ করে, শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের পর First & Daily Star কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ এবং নিউজ এজ সম্পাদক নূরুল কবীরকে হেনস্তা করা হয়েছে।
একইসাথে, ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্মীয় উগ্রতা ও গণপিটুনিতে দীপু চন্দ্র দাস নামের এক হিন্দু ব্যক্তির মৃত্যু নির্বাচনকালীন মানবাধিকার পরিস্থিতির গুরুতর সংকেত।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ও জনগণের আস্থা
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল উল্লেখ করেছে, নির্বাচনের আগে মানবাধিকার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। নাগরিকেরা যাতে স্বচ্ছ ও নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টার সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
চিঠিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালন ও জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে মানবাধিকার রক্ষা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, যা আগামী কয়েক সপ্তাহে হবে।
বিস্তারিত তথ্য: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
মানবাধিকার সনদ ও করণীয়

নির্বাচনের আগে মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একটি মানবাধিকার সনদও প্রকাশ করেছে। এতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কিছু করণীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনের আগে সাংবাদিক, সমালোচক এবং সাধারণ নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা ছাড়া ভোট প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না।
নাগরিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণের গুরুত্ব
নির্বাচনের সময় নাগরিকদের সচেতন থাকা এবং মানবাধিকার রক্ষার জন্য সক্রিয় অংশগ্রহণ করা অপরিহার্য। এই সময়ে সামাজিক মাধ্যম ও সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে জনগণকে সঠিক তথ্য জানানো এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচনের আগে মানবাধিকার নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হওয়া শুধুমাত্র সরকারের নয়, নাগরিক সমাজেরও দায়িত্ব। এজন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা, স্থানীয় সাংবাদিক এবং নাগরিক সমাজকে একসাথে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনের আগে মানবাধিকার নিশ্চিত করা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নাগরিক আস্থা এবং সুষ্ঠু ভোটের জন্য অপরিহার্য। নির্বাচনের আগে মানবাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বানকে অবহেলা করা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করতে পারে।




