মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন যাঁরা বিএনপি মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য ২০–২২ জনের সম্ভাব্য তালিকা প্রস্তুত, যার মধ্যে টেকনোক্র্যাট ও জোটসঙ্গীরাও অন্তর্ভুক্ত। বিস্তারিত দেখুন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর নতুন সরকার গঠন নিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে নতুন বিএনপি মন্ত্রিসভা। দলের ঘোষণানুযায়ী, চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, প্রশাসনিক দক্ষতা ও আন্দোলন-সংগ্রামে অবদানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ২০ থেকে ২২ জনের ছোট আকারের কার্যকর এবং জবাবদিহিমূলক মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে।
দলের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই মন্ত্রিসভায় দুই থেকে তিনজন টেকনোক্র্যাটও থাকতে পারেন। ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১৩ আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
২০–২২ জনের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা সদস্য
নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয় করা হবে। টেকনোক্র্যাট কোটায় অনির্বাচিত বিশেষজ্ঞ এবং জোটসঙ্গীরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন।
স্থায়ী কমিটির সদস্যরা

মন্ত্রিসভার অংশ হতে পারেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির নিম্নলিখিত সদস্যরা:
-
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
-
মির্জা আব্বাস
-
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
-
ড. আবদুল মঈন খান
-
সালাহউদ্দিন আহমদ
-
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
-
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু
-
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন
-
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ
সম্ভাব্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী
নিম্নলিখিত নেতাদের নাম মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য হিসেবে শোনা যাচ্ছে:
রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আমান উল্লাহ আমান, খন্দকার মোক্তাদির, অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, রেজা কিবরিয়া, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আসাদুল হাবিব দুলু, আফরোজা খানম রিতা, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, আবদুল আউয়াল মিন্টু, জয়নুল আবদিন ফারুক, মিজানুর রহমান মিনু, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, জহির উদ্দিন স্বপন, আলী আসগার লবি, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, রকিবুল ইসলাম বকুল, শরীফুল আলম, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, নজরুল ইসলাম আজাদ, জি কে গউছ, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জাকারিয়া তাহের সুমন, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, এ কে এম ফজলুল হক মিলন, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, রফিকুল আলম মজনু, ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, সাইদ আল নোমান, হাবিবুর রশিদ হাবিব, এস এম জিলানী, খন্দকার আবু আশফাক, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, দীপেন দেওয়ান, নুরুল ইসলাম নয়ন, এইচএম সাইফ আলী খান।
টেকনোক্র্যাট ও জোটসঙ্গীদের সম্ভাবনা
টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন:
নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, রুহুল কবির রিজভী, হুমায়ন কবির, অধ্যাপক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, মাহদী আমিন, আমিনুল হক।
জোটসঙ্গীরাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন:
-
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর
-
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি
-
এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ
-
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ
-
জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারনতুন সরকারের লক্ষ্য ও অগ্রাধিকার
বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলেছেন, নতুন মন্ত্রিসভা কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোয় গড়ে তোলা হবে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ছাড়াও রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একইভাবে, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও রাষ্ট্রপতি হওয়ার আলোচনায় রয়েছেন।
স্থায়ী কমিটির কিছু সদস্য স্পিকারের পদেও আসতে পারেন। নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য সম্পর্কে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন:
“আমাদের লড়াই ছিল রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের। শহীদদের আকাঙ্খা ও তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা মেধা ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র গঠন করতে চাই। আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার এবং ‘৩১ দফা’ অনুযায়ী সংবিধানের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার করা হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। স্বাধীনতার পর এই সংসদই হবে সবচেয়ে বেশি আইন প্রণয়নকারী এবং জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলক। নতুন সরকারের তিনটি মূল অগ্রাধিকার হবে:
-
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
-
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
-
দুর্নীতি নির্মূল
তিনি বলেন, নতুন মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত রূপ দেখতে দেশবাসীকে আর অল্প কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।
নির্বাচনী একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পর নতুন বিএনপি মন্ত্রিসভা গঠন দেশ ও রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। নির্বাচিত ও সম্ভাব্য সদস্যদের তালিকা, টেকনোক্র্যাট কোটার অন্তর্ভুক্তি, এবং জোটসঙ্গীদের অংশগ্রহণ দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।




