এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (82)
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন: ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও ভিন্নমতে আটকে যেতে পারে জুলাই সনদের কিছু সিদ্ধান্ত
Shikor Web Image (78)
তিন যুগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন ইসলামপন্থী দলগুলোর
Shikor Web Image (75)
জামায়াত সমর্থকের বাড়িতে আগুন, বিএনপি সমর্থকদের ওপর হামলা
Shikor Web Image (73)
নতুন সরকারের শপথের পর ব্যারাকে ফিরবে সেনাবাহিনী
Shikor Web Image (69)
শপথের পর সংসদ সদস্যরা কী কী সুযোগ সুবিধা পান

রাষ্ট্রপতি পদে কার নাম আলোচনায়

রাষ্ট্রপতি পদে কার নাম আলোচনায়, নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন নিয়ে বিএনপির ভেতরে তীব্র আলোচনা। খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও নজরুল ইসলাম খানের নাম উঠে এসেছে আলোচনায়।

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন তা নিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিএনপির নেতাদের সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে নাম উত্থাপিত হচ্ছে। বিএনপির একটি সূত্র জানায়, নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন তা নির্ধারণে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং নজরুল ইসলাম খানের নাম আলোচনায় রয়েছে।

বিএনপির একাধিক সূত্র আরও বলেছে, খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম জোরালোভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে দলের ভেতরে নজরুল ইসলাম খানের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি পদের বর্তমান পরিস্থিতি

বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, যিনি ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন, নতুন সরকার গঠনের পর পদত্যাগ করতে পারেন। গত ডিসেম্বরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন,

“আমি সরে যেতে চাই। আমি চলে যেতে আগ্রহী। নির্বাচনের আগে দায়িত্ব পালন করাই আমার দায়িত্ব।”

মো. সাহাবুদ্দিন আরও উল্লেখ করেছিলেন যে, তার প্রতিকৃতি এবং ছবি হঠাৎ করে দূতাবাস ও হাইকমিশনে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। সংবিধান অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকলেও, তিনি সম্ভবত তার মেয়াদ শেষ না করেই পদত্যাগ করবেন।

বিএনপির সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থী

খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ৭৯ বছর বয়সী বর্ষীয়ান নেতা, কুমিল্লা–১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে তিনি চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন (১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ১২ জুন, এবং ২০০১)।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক খন্দকার মোশাররফ হোসেন ১৯৯১ সালে নির্বাচিত হয়ে জ্বালানিমন্ত্রী এবং ২০০১ সালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যে তিনি বাংলাদেশের সমর্থনে সক্রিয় ছিলেন।

বগুড়ায় ২০২৩ সালের একটি বিএনপি সমাবেশে দলটির নেতা জি এম সিরাজ বলেছিলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং খন্দকার মোশাররফ হোসেন রাষ্ট্রপতি হবেন

বিএনপির সূত্র বলছে, খন্দকার মোশাররফ কিছুটা আড়ালে থাকেন এবং দলের কার্যক্রমে সবসময় সরাসরি সক্রিয় নন। এটি রাজনৈতিক বিতর্ক এড়িয়ে চলার জন্য।

নজরুল ইসলাম খানের সম্ভাব্য ভূমিকা

দলের স্থায়ী কমিটির অন্য সদস্য নজরুল ইসলাম খানও রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন। তবে দলের অভ্যন্তরে তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করার পরামর্শও রয়েছে।

তিনি খালেদা জিয়ার জানাজায় দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দিয়েছেন এবং বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মন্ত্রিসভা ও রাষ্ট্রপতি গঠন সংক্রান্ত পরিকল্পনা

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। আগামীকাল নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন এবং বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে।

নতুন সরকার গঠনের পর নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন তা চূড়ান্ত হবে। মন্ত্রিসভার নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতির নামও আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যাবে।

বিএনপির ভেতরে মন্ত্রিসভা গঠন ও রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে আলোচনা এখনই তীব্রভাবে চলছে।

বর্তমানে বিএনপির অভ্যন্তরে নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং নজরুল ইসলাম খানের নাম সমানভাবে আলোচনায় থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন সরকারের ঘোষণা এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

সর্বাধিক পঠিত