নুরি আল-মালিকি পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হলে ইরাকের ভবিষ্যৎ বিপদে পড়তে পারে। ট্রাম্পের ৭টি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা জেনে নিন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরাককে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, যদি দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হন, তাহলে ইরাক দারিদ্র্য ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়তে পারে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “এটা আর ঘটতে দেওয়া উচিত নয়। নুরি আল-মালিকি নির্বাচিত হলে আমেরিকা ইরাককে সাহায্য করবে না। যদি আমরা সাহায্য না করি, ইরাক কখনোই সফল বা সমৃদ্ধ হতে পারবে না। ইরাককে আবার শক্তিশালী করুন!”
হাইস্টেকিং শিয়া নেতৃত্বে আল-মালিকির মনোনয়ন

ইসলামিক দাওয়া পার্টির নেতা নুরি আল-মালিকি ২০০৬ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত দুইবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। সম্প্রতি শিয়া সমন্বয় জোট তাকে আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেছে।
নভেম্বর ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে শিয়া জোট ৩২৯ আসনের মধ্যে ১৮৭টি জিতেছে। ইরাকের রাষ্ট্রপতি আব্দুল লতিফ রশিদ আল-মালিকিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে আল-মালিকির নেতৃত্ব দেশকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অংশীদারত্ব ও উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নেবে।
নুরি আল-মালিকির রাজনৈতিক জীবন
নুরি আল-মালিকি ১৯৫০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৮ সালে দাওয়া পার্টিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন।
সাদ্দাম হোসেনের শাসনামলে তিনি ইরান চলে যান। ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনের পর, সাদ্দামের পতনের পর ইরাক দীর্ঘদিন অস্থিরতার মধ্যে ছিল। আল-মালিকির প্রশাসনের সময়, বিশেষ করে ২০১৩-২০১৪ সালে, আইএসআইএস ইরাকের বড় অংশ দখল করেছিল।
ট্রাম্পের ৭টি মূল সতর্কবার্তা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত ৭টি প্রধান বার্তা দিয়ে ইরাককে সতর্ক করেছেন:
-
আর্থিক সহায়তা বন্ধ: আল-মালিকি নির্বাচিত হলে আমেরিকা আর ইরাককে আর্থিকভাবে সহায়তা করবে না।
-
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা: দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
-
দারিদ্র্য বৃদ্ধি: অর্থনৈতিক অগ্রগতি স্থগিত হবে এবং দারিদ্র্য বৃদ্ধি পাবে।
-
সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি: আইএসআইএস বা অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পুনরায় উত্থান সম্ভব।
-
ভ্রাতৃত্ব ও অংশীদারিত্বের ক্ষতি: জাতীয় সংহতি ভাঙতে পারে।
-
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সংকট: যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য বন্ধু দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক কঠিন হবে।
-
দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি: পুনরায় অবনতির ঝুঁকি এবং দেশকে সার্বভৌম শক্তিশালী হওয়া থেকে বিরত রাখা।
External link suggestion: BBC News – Iraq Politics
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
মার্কিন বিশেষ দূত মার্ক সাভায়া সতর্ক করেছেন, ইরাকি নেতাদের সিদ্ধান্ত আগামী দিনে নির্ধারণ করবে দেশ “শক্তিশালী ও সার্বভৌম” হবে নাকি আবার “খণ্ডিত ও পতনের” পথে যাবে।
ইরাকের রাজনীতিতে শিয়া, সুন্নি এবং কুর্দিশ অংশীদারিত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আল-মালিকির নেতৃত্বে শিয়া প্রভাব বৃদ্ধি পেলে অন্যান্য গোষ্ঠীর মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে।
আল-মালিকি প্রশাসনের শিক্ষা
নুরি আল-মালিকির পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময়কাল ইরাকের জন্য মিশ্র ফলাফল নিয়ে এসেছে।
-
সাফল্য: দেশের পুনর্গঠন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করা।
-
চ্যালেঞ্জ: আইএসআইএস দখল, জাতিগত বিভাজন, এবং রাজনৈতিক অংশীদারিত্বে অশান্তি।
এই অভিজ্ঞতা ইরাককে সতর্ক করে যে ভবিষ্যতে পুনরায় ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো বিবেচনা করা জরুরি।
ইরাকের ভবিষ্যৎ ও সঠিক নেতৃত্ব
ইরাকের জনগণ আশা করে, নেতারা দেশের উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও মনোযোগ দিয়ে দেখছে ইরাকের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে।
ট্রাম্পের সতর্কবার্তা ইরাককে ভাবাচ্ছে, কিভাবে দেশের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা যায়। রাজনৈতিক নেতা ও আন্তর্জাতিক অংশীদাররা একসাথে কাজ না করলে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।




