নতুন সরকারের শপথের পর ব্যারাকে ফিরবে সেনাবাহিনী, সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান জানিয়েছে নির্বাচনের পর সেনাবাহিনী কবে মাঠ থেকে ব্যারাকে ফিরবে।
সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান জানিয়েছেন, নতুন সরকারের শপথ ও সেনাবাহিনী বিষয়ক পরিকল্পনা অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সরকার শপথ নেওয়ার পরই সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে। তবে, তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, পুলিশ পুরোপুরি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া না পর্যন্ত, সেনাবাহিনীর একটি অংশ সহায়তামূলক ভূমিকা পালন করবে এবং প্রয়োজনে মাঠে মোতায়েন থাকবে।
এই মন্তব্য তিনি করেছিলেন গতকাল বেলা ১১টায় আয়োজিত ‘সিএএস দরবার’-এ, যেখানে সেনাবাহিনীর সব পদমর্যাদার সদস্যদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়া হয়। প্রায় ১৫ মিনিটের এই অনুষ্ঠানে দেশ ও বিদেশে কর্মরত সেনাসদস্যদের পাশাপাশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত সদস্যরাও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
নির্বাচনি দায়িত্বে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও প্রশংসা

সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের সময় সেনাসদস্যদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “কঠিন ও সংবেদনশীল সময়ে সেনাবাহিনী যে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে, তা দেশের মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় করেছে।”
নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, তা দেশের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করেছে। সেনাপ্রধানের মতে, দেশ ও জনগণ সেনাবাহিনীর এ সেবাকে স্মরণ রাখবে।
আরও পড়ুন: নতুন সরকারের শপথ ও সেনাবাহিনী বিষয়ে বিশ্লেষণ
সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও সংবিধান সম্মান
সেনাপ্রধান আরও বলেন, সেনাবাহিনী সর্বদা সংবিধান ও বেসামরিক প্রশাসনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে দায়িত্ব পালন করে আসছে। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের পুরস্কৃত করেন।”
তিনি সেনাসদস্যদের ধৈর্য, সংযম ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান, বিশেষ করে নির্বাচনকালীন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে।
সেনাবাহিনী মাঠ থেকে ফিরে যাবে কবে?
নতুন সরকারের শপথ ও সেনাবাহিনী বিষয়ক পরিকল্পনা অনুযায়ী, শপথ গ্রহণের পর সেনাবাহিনী মূলত ব্যারাকে ফিরে যাবে। তবে সহায়তামূলক অংশটি পুলিশকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা পর্যন্ত মাঠে থাকবে। এটি একটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য ব্যবস্থা, যা দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।
বৃহত্তর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, নির্বাচনকালীন সময় সেনাবাহিনীর ভূমিকা স্বাভাবিকভাবেই সীমিত হওয়া উচিত, যা দেশের সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতিফলন। বিস্তারিত জানতে এখানে দেখতে পারেন।
সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান স্পষ্ট করেছেন যে, নির্বাচনের পর সেনাবাহিনী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাবে, তবে দেশের স্থিতিশীলতা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাদের ভূমিকা সহায়কভাবে অব্যাহত থাকবে। নতুন সরকারের শপথ ও সেনাবাহিনী বিষয়ক এই পদক্ষেপ দেশের নিরাপত্তা, জনসাধারণের আস্থা ও নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।




