এইমাত্র

আরও খবর

Untitled design (24)
শাহরুখের প্রযোজনায় পুলিশের চরিত্রে সাইফ
Untitled design (21)
শাকিব খান রকস্টার টিজার: এখন অন্তর্জালে
Shikor Web Image - 2026-04-25T182000.070
একসঙ্গে রুনা লায়লা ও বাপ্পা মজুমদারঃ প্রকাশ করলেন নতুন গান অনায়াসে
Shikor Web Image - 2026-04-25T180504.964
বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেয়েছে মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক
Shikor Web Image - 2026-04-25T171807.767
আম্মু আফসোস করে বলেছিল, কখনো মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার পেলে নাঃ তমা মির্জা

ও প্রিয়া তুমি কোথায় গান আসিফ আকবর: যে গানের পর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি

ও প্রিয়া তুমি কোথায় গান আসিফ আকবর কীভাবে বদলে দেয় তাঁর জীবন—২৫ বছরে সংগ্রাম, বিশ্বাস ও জনপ্রিয়তার অজানা গল্প জানুন এই প্রতিবেদনে।

একটি গান, একটি কণ্ঠ, আর একটি সময়—এই তিনের মিলনেই জন্ম নিয়েছিল ইতিহাস। ও প্রিয়া তুমি কোথায় গান আসিফ আকবর-এর জীবনে এমন এক অধ্যায় তৈরি করে, যার পর তাঁকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০০১ সালের ৩০ জানুয়ারি মুক্তি পাওয়া এই গানটি আজ ২৫ বছরে পা দিতে যাচ্ছে। সময় বদলেছে, শ্রোতার রুচি বদলেছে, কিন্তু গানটির আবেদন এতটুকু কমেনি।

আজও এই গান শোনা মানেই নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ ও দুই হাজারের শুরুর স্মৃতিতে ফিরে যাওয়া। আসিফ আকবরের কণ্ঠে ভালোবাসা, বিরহ আর সংগ্রামের যে আবেগ ধরা পড়েছিল, তা এক প্রজন্মের অনুভূতির ভাষা হয়ে উঠেছিল।

একটি গান যেভাবে বদলে দেয় জীবন

২০০১ সালে যখন

ও প্রিয়া তুমি কোথায় গান আসিফ আকবর প্রকাশিত হয়, তখন তিনি সংগীতাঙ্গনে একেবারেই নতুন মুখ। সাউন্ডটেক ব্যানারে মুক্তি পাওয়া অ্যালবামটিতে ছিল ১২টি গান। কিন্তু শিরোনাম গানটি যেন সব গানকে ছাপিয়ে যায়।

শুরুতে ক্যাসেট ও সিডির বাজারে ধীরে ধীরে পরিচিতি পেলেও টেলিভিশনে প্রচারের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। জুলাই মাসে টিভি চ্যানেলে নিয়মিত প্রচার শুরু হতেই গানটি ছড়িয়ে পড়ে ঘরে ঘরে। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি হয়ে ওঠে সেই সময়ের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া অ্যালবামগুলোর একটি।

বাংলাদেশ ছাড়িয়ে এই গান জনপ্রিয়তা পায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও। কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বাংলা ভাষাভাষীদের প্লেলিস্টে জায়গা করে নেয় গানটি।

সংগ্রামের ভেতর দিয়েই শুরু

এই সাফল্যের পেছনে ছিল দীর্ঘ সংগ্রাম। ১৯৯৭ সালের ১৫ অক্টোবর ঢাকায় আসেন আসিফ আকবর। উদ্দেশ্য ছিল সাউন্ড ব্যবসা করা। কিন্তু গানের টান তাঁকে নিয়মিত নিয়ে যেত সুরকার শওকত আলী ইমনের স্টুডিওতে। সেখানে ডেমো ভয়েস দিতে গিয়েই পরিচয় হয় সংগীত পরিচালক আলী আকরাম শুভ ও ইথুন বাবুর সঙ্গে।

একটি সিনেমার গান গাওয়ার পর ইথুন বাবুর নজরে পড়েন তিনি। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে আসিফ এক সাক্ষাৎকারে বলেন,

“ইথুন বাবু বলেছিলেন—তোকে এমন গান দেবো, কোনো দিন পেছন ফিরে তাকাতে হবে না।”

এই কথাটিই যেন তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

প্রকাশের আগেই ভেঙে পড়ার গল্প

সবকিছু ঠিকঠাক এগোচ্ছিল। কিন্তু অ্যালবাম প্রকাশের আগেই হঠাৎ সিদ্ধান্ত বদলায় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। ঈদে অ্যালবাম বের হবে না—এই খবরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন আসিফ। একপর্যায়ে ফিরে যান কুমিল্লায়।

তবে এখানেই থেমে যাননি। আবার ঢাকায় ফিরে এসে ইথুন বাবুর সঙ্গে শুরু করেন এক ভিন্ন সংগ্রাম। গুলিস্তান থেকে মিরপুর পর্যন্ত ফুটপাতে ফুটপাতে ঘুরে নিজেরাই ক্যানভাসারদের হাতে অ্যালবাম তুলে দেন। দোকানদারদের অনুরোধ করতেন গান বাজানোর জন্য।

রাজশাহী, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বেড়ান তাঁরা। তিন মাস পর আসে সেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। ও প্রিয়া তুমি কোথায় গান আসিফ আকবর তখন দেশের সর্বত্র বাজছে।

ব্যক্তিগত কষ্ট আর অটুট বিশ্বাস

এই সময়েই আসে জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত। এক রাতে কাজের মধ্যেই খবর পান—ছোট ছেলে রুদ্র গুরুতর অসুস্থ। সেই স্মৃতি বলতে গিয়ে এক অনুষ্ঠানে কান্নায় ভেঙে পড়েন আসিফ।

ইথুন বাবুর সহযোগিতা ও সামান্য আর্থিক সহায়তাই তখন তাঁর পরিবারের জন্য বড় ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। এই ঘটনাগুলোই প্রমাণ করে, সাফল্যের পেছনে শুধু প্রতিভা নয়—মানুষ ও মানবিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ।

দুই যুগের পথচলা

ও প্রিয়া তুমি কোথায় গান আসিফ আকবর শুধু একটি হিট গান নয়; এটি তাঁর ক্যারিয়ারের ভিত্তি। এই অ্যালবামের পর দুই যুগে প্রকাশিত হয়েছে দুই ডজনের বেশি একক অ্যালবাম।

যদিও প্রথম অ্যালবামের পর নানা কারণে ইথুন বাবুর সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়। দীর্ঘ বিরতির পর পাঁচ বছর আগে ‘চুপচাপ কষ্টগুলো’ গান দিয়ে আবার একসঙ্গে কাজ করেন তাঁরা। তখনই জানান, সামনে নিয়মিত নতুন গান প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

২৫ বছরে একটি গান, একটি ইতিহাস

২৫ বছর পেরিয়েও গানটির আবেদন অটুট। আজকের প্রজন্ম ইউটিউব ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নতুন করে আবিষ্কার করছে এই গানকে।
বাংলা গানের ইতিহাসে ও প্রিয়া তুমি কোথায় গান আসিফ আকবর হয়ে আছে ভালোবাসা ও সংগ্রামের প্রতীক।

সর্বাধিক পঠিত