এক সপ্তাহে ব্রয়লারের দাম বাড়ল ২০ টাকা—এই খবর এখন দেশের কাঁচাবাজারে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। হঠাৎ করে মুরগি ও মাছের দাম বাড়ায় চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষদের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু ব্রয়লার নয়, ইলিশসহ প্রায় সব ধরনের মাছের দাম এখন চড়া।
এক সপ্তাহে ব্রয়লারের দাম বাড়ল ২০ টাকা: কী ঘটছে বাজারে
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহে ব্রয়লারের দাম বাড়ল ২০ টাকা—যা গত সপ্তাহের তুলনায় বড় পরিবর্তন। বিক্রেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফিডের দাম বাড়া, খামার পর্যায়ের ব্যয় বৃদ্ধি এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াই এর প্রধান কারণ।
বর্তমানে খুচরা বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৯০ টাকায়, যেখানে এক সপ্তাহ আগেও দাম ছিল ১৭০ টাকা।
মুরগির বর্তমান দাম তালিকা
বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী—
-
✅ ব্রয়লার মুরগি: ১৯০ টাকা/কেজি
-
✅ সোনালি মুরগি: ৩০০–৩৩০ টাকা/কেজি
-
✅ দেশি মুরগি: ৫৫০–৬৫০ টাকা/কেজি
-
✅ লেয়ার মুরগি: ৩২০ টাকা/কেজি
এই তালিকা স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে, এক সপ্তাহে ব্রয়লারের দাম বাড়ল ২০ টাকা, যা অন্য মুরগির চাহিদাতেও প্রভাব ফেলছে।
কেন হঠাৎ বেড়েছে ব্রয়লারের দাম
বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকটি কারণ একসঙ্গে কাজ করছে—
-
✅ মুরগির ফিডের দাম বৃদ্ধি
-
✅ খামার পর্যায়ের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি
-
✅ শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে যাওয়া
-
✅ পরিবহন ও জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি
-
✅ পাইকারি বাজারে দাম বাড়তি
-
✅ শীত মৌসুমে চাহিদা বেশি
-
✅ বিকল্প প্রোটিনের দামও বেশি
এই কারণগুলো মিলেই এক সপ্তাহে ব্রয়লারের দাম বাড়ল ২০ টাকা—বাজার বিশেষজ্ঞরা এমনটাই বলছেন।

বিক্রেতারা কী বলছেন
মুরগি বিক্রেতা আজাদ মিয়া বলেন,
“গত সপ্তাহে ফিডের দাম অনেক বেড়েছে। আমরা আগে ১৭০ টাকায় ব্রয়লার বিক্রি করেছি, এখন সেটা ১৯০ টাকা। আমাদের হাতেও কিছু নেই।”
আরেক বিক্রেতা হাসান উদ্দিন জানান,
“সোনালি ও দেশি মুরগি বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় মানুষ ব্রয়লারের দিকে ঝুঁকছে। কিন্তু পাইকারিতে দাম বেশি থাকায় আমরা কমাতে পারছি না।”
তাঁদের মতে, সরবরাহ বাড়লে এক সপ্তাহে ব্রয়লারের দাম বাড়ল ২০ টাকা—এই পরিস্থিতি সাময়িক হতে পারে।
ইলিশের বাজার: মাঝারি ইলিশ ১৫০০ টাকা
মুরগির পাশাপাশি মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ইলিশ।
বর্তমানে বাজারে—
-
✅ মাঝারি ইলিশ: ১৫০০ টাকা/কেজি
-
✅ বড় ইলিশ: ২০০০–৩০০০ টাকা/কেজি
বনলতা কাঁচাবাজারের মাছ বিক্রেতা ইব্রাহিম আলী বলেন,
“সরবরাহ বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু জ্বালানি আর পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় দাম কমছে না।”
অন্যান্য মাছের দাম কত
ইলিশ ছাড়াও প্রায় সব মাছের দাম চড়া—
-
রুই, কাতল, মৃগেল: ৩০০–৭৫০ টাকা
-
পাঙ্গাস, তেলাপিয়া: ১৯০–২৫০ টাকা
-
মাগুর: ৫০০ টাকা
-
চাষের কৈ: ২০০–২৫০ টাকা
-
বোয়াল মাছ: ৫০০–৭০০ টাকা
-
আইড় মাছ: ৬০০ টাকা
-
গলদা চিংড়ি: ৬৫০–১০০০ টাকা
সব মিলিয়ে এক সপ্তাহে ব্রয়লারের দাম বাড়ল ২০ টাকা—এর পাশাপাশি মাছের বাজারও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে যাচ্ছে।
সাধারণ ক্রেতাদের ভোগান্তি
এই মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষ। দৈনন্দিন আমিষের যোগান দিতে গিয়ে পরিবারগুলোকে বাজেট কাটছাঁট করতে হচ্ছে।
বিশেষ করে যারা নিয়মিত মুরগি কিনতেন, তাদের জন্য এক সপ্তাহে ব্রয়লারের দাম বাড়ল ২০ টাকা—একটি বড় চাপ।
সামনে কী দাম কমতে পারে?
বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা—
-
✅ যদি ফিডের দাম স্থিতিশীল হয়
-
✅ খামার পর্যায়ে উৎপাদন বাড়ে
-
✅ পরিবহন ব্যয় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে
তাহলে সামনে দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে এখনই স্বস্তির খবর নেই।
সব দিক বিবেচনায় বলা যায়, এক সপ্তাহে ব্রয়লারের দাম বাড়ল ২০ টাকা—এই বাস্তবতা এখন বাজারের কঠিন সত্য। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের চড়াদাম। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে।




