আশঙ্কাজনক নন ওসমান হাদি , রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। নিরাপত্তা ও নির্বাচনের প্রভাব নিয়ে জানুন বিস্তারিত।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ‘পর্যবেক্ষণে’ রয়েছেন ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদি আশঙ্কাজনক অবস্থায়। শনিবার সকালে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাদির শারীরিক অবস্থা এখনও নিশ্চিত নয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
গত শুক্রবার, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন, গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ওসমান হাদি আশঙ্কাজনক অবস্থায় এভারকেয়ার হাসপাতালে

এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মঞ্চ-২৪ প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী। তিনি বলেন, “এই হামলা পরিকল্পিত। আমরা প্রমাণ পেয়েছি হামলাকারীরা কার্যক্রমনিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদস্য।” ফারুকী দ্রুত বিচার দাবি করেন এবং বলেন, “নিরাপত্তা–সংকটে রয়েছেন চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সক্রিয়রা।”
অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া: ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের জানান, ওসমান হাদির ‘ইন্টারনাল রেসপন্স’ আছে, কিন্তু তিনি এখনো আশঙ্কামুক্ত নন। তিনি দেশবাসীর কাছে সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন।
হামলার প্রেক্ষাপট ও চিকিৎসা পরিস্থিতি
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “একটি গুলি হাদির কানের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে মাথার বাঁ পাশ দিয়ে বেরিয়েছে। তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল।” নিউরোসার্জারি বিভাগে প্রাথমিক অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।
এরপর হাদিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। তফসিল ঘোষণার পরপরই হামলার ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
নির্বাচনের প্রভাব ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিএনপি, জামায়াতে ইসলামিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল হামলার নিন্দা ও দ্রুত বিচার দাবি করেছে। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। তবে এই হামলার কারণে নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
হাদির বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষে তিনি শিক্ষকতা করতেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে আলোচনায় আসেন।
হাদির রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ভূমিকা
ইনকিলাব মঞ্চের লক্ষ্য হলো, “সমস্ত আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করা।” ঢাকা ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙার সময় হাদি সক্রিয় ছিলেন এবং গোপালগঞ্জ জেলা ভেঙে দিতে বলেছিলেন।
বর্তমানে ৪৮ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে থাকা ওসমান হাদি আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। চিকিৎসকরা নিশ্চিত তথ্য দিতে পারছেন না, তাই দেশবাসীর কাছে তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও নির্বাচনের প্রভাব নিয়ে এখনও উদ্বেগ রয়েছে।




