আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে পাকিস্তানের শ্বাসরুদ্ধকর জয়। শেষ ওভারের নাটকীয়তায় শুরু টুর্নামেন্ট।
কলম্বোতে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু পাকিস্তানের
পাকিস্তানের শ্বাসরুদ্ধকর জয় দিয়েই পর্দা উঠল আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর। শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ৩ উইকেটে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করে পাকিস্তান। শেষ ওভার পর্যন্ত গড়ানো এই ম্যাচে নাটক, উত্তেজনা আর চাপের লড়াই উপহার পায় ক্রিকেটবিশ্ব।
১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করে পাকিস্তান জয় নিশ্চিত করে ১৯.৩ ওভারে, সাত উইকেট হারিয়ে। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ একাধিকবার হাতবদল হলেও শেষ পর্যন্ত ফাহিম আশরাফের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে হাসে পাকিস্তান শিবির।
টস সিদ্ধান্ত ও পাকিস্তানের বোলিং পরিকল্পনা
টস জিতে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী আগা শুরুতেই ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। শুরু থেকেই তার এই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা দেখা যায় পাকিস্তানি বোলারদের শৃঙ্খল আক্রমণে। যদিও পাওয়ারপ্লেতে নেদারল্যান্ডস কিছুটা আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের চেষ্টা চালায়।
ডাচদের হয়ে ওপেনিংয়ে মাইকেল লেভিট ও ম্যাক্স ও’ডাউড দ্রুত রান তুলতে চাইলেও শুরুতেই ধাক্কা খায় দলটি। লেভিট ১৫ বলে ২৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেললেও ও’ডাউড মাত্র ৫ রান করে ফিরলে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি।
ডাচ ইনিংসে প্রতিরোধের চেষ্টা, কিন্তু বড় স্কোর নয়
প্রথম উইকেট পতনের পর নেদারল্যান্ডস দ্রুতই দ্বিতীয় ধাক্কা খায়। এরপর মাঝের ওভারগুলোতে বাস ডি লিড ও কলিন অ্যাকারম্যান ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন। ডি লিড ২৫ বলে ৩০ এবং অ্যাকারম্যান ১৪ বলে ২০ রান করলেও কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি।
অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস ছিলেন ডাচ ইনিংসের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটার। উইকেটকিপার-ব্যাটার ২৯ বলে ৩৭ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল তিনটি চার ও একটি ছক্কা। শেষদিকে আরিয়ান দত্ত ৮ বলে ১৩ রান যোগ করলেও নিয়মিত উইকেট পতনে বড় সংগ্রহ গড়া সম্ভব হয়নি।
নেদারল্যান্ডস ইনিংস থামে ১৯.৫ ওভারে ১৪৭ রানে।
পাকিস্তানের বোলিং নৈপুণ্য
পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন সালমান মির্জা। তিনি ৩.৫ ওভারে ২৪ রান দিয়ে নেন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। মোহাম্মদ নওয়াজ ও আবরার আহমেদ দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
শেষদিকে সাইম আইয়ুব মাত্র এক ওভারে দুটি উইকেট তুলে নিয়ে ডাচদের রানের গতি কার্যত থামিয়ে দেন। শাহিন শাহ আফ্রিদিও একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন, যা নেদারল্যান্ডসকে সীমিত স্কোরে আটকে রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।
উড়ন্ত সূচনা পাকিস্তানের, ম্যাচ তখন একপেশে
১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান পায় উড়ন্ত সূচনা। ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও সাইম আইয়ুব পাওয়ারপ্লেতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেন।
সাইম আইয়ুব ১৩ বলে ২৪ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে সাহিবজাদা ফারহান ছিলেন আরও সাবলীল—৩১ বলে ৪৭ রান করেন তিনি, যেখানে ছিল চারটি চার ও দুটি ছক্কা।

১১.১ ওভারে ফারহান আউট হওয়ার সময় পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯৮ রান। তখন ম্যাচ পুরোপুরি পাকিস্তানের দিকেই ঝুঁকে ছিল।
হঠাৎ ধস, ম্যাচে নাটকীয় মোড়
ফারহানের বিদায়ের পরই ম্যাচে নাটকীয় মোড় নেয়। উসমান খান শূন্য, বাবর আজম ১৫, শাদাব খান ৮ এবং মোহাম্মদ নওয়াজ ৬ রান করে দ্রুত ফিরে যান।
মিডল অর্ডারের এই ধসে পাকিস্তান ১১৪ রানেই সাত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়। এই পর্যায়ে নেদারল্যান্ডসের বোলাররা দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফিরে আসে এবং উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
পাকিস্তানের শ্বাসরুদ্ধকর জয় গড়ে দেন ফাহিম আশরাফ
চাপের মুহূর্তে দায়িত্ব নেন ফাহিম আশরাফ। অলরাউন্ডার মাত্র ১১ বলে ২৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল দুটি চার ও তিনটি ছক্কা।
২৬৩.৬৩ স্ট্রাইক রেটে খেলা এই ইনিংস কার্যত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অন্যপ্রান্তে শাহিন শাহ আফ্রিদি ৫ রানে অপরাজিত থেকে ফাহিমকে দারুণ সঙ্গ দেন।
শেষ পর্যন্ত ১৯.৩ ওভারে জয়ের রান তুলে নেয় পাকিস্তান। পাকিস্তানের শ্বাসরুদ্ধকর জয় দিয়েই শেষ হয় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ।
নেদারল্যান্ডসের বোলিং লড়াই প্রশংসনীয়
নেদারল্যান্ডসের হয়ে বোলিংয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন পল ভ্যান মিকারেন। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে নেন দুটি উইকেট। আরিয়ান দত্তও দুটি উইকেট শিকার করেন।
রুলফ ভ্যান ডার মারভে, কাইল ক্লেইন ও লোগান ভ্যান বিক একটি করে উইকেট নেন। বিশেষ করে মধ্য ওভারগুলোতে তাদের শৃঙ্খল বোলিং ম্যাচের উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে।
বিশ্বকাপের শুরুতেই উত্তেজনার বার্তা
এই ম্যাচের মাধ্যমে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে, তার স্পষ্ট বার্তা পাওয়া গেল। শেষ ওভার পর্যন্ত গড়ানো ম্যাচ, একাধিকবার ম্যাচের মোড় ঘোরানো—সব মিলিয়ে দর্শকদের জন্য ছিল এক রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতা।
বিশ্ব ক্রিকেটের বড় আসরে এমন শুরু টুর্নামেন্টের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।




