ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রবাসীদের জন্য প্রথমবার চালু করা প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রমে ইতিমধ্যেই চমকপ্রদ ফলাফল দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের নভেম্বরের ১৯ তারিখে শুরু হওয়া এই নিবন্ধনে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার ৮৬৬ জন প্রবাসী ভোটার সফলভাবে নিজেদের নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
নিবন্ধনকারীদের মধ্যে ১ লাখ ১১ হাজার ৩৫৮ জন পুরুষ এবং ১৬ হাজার ৫০৮ জন নারী, যা প্রমাণ করছে প্রবাসীদের মধ্যে নির্বাচনী সচেতনতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রাপ্ত এই তথ্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) ওয়েবসাইট থেকে নিশ্চিত হয়েছে।
প্রবাসী ভোটারদের এই সাড়া বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনের বিস্তারিত এবং সময়সীমা
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন সম্পন্নকারী ভোটারদের ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠানো হবে পোস্টাল ব্যালট পেপার। ভোটাররা ব্যালট গ্রহণের পর তা পূরণ করে নির্দিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার ঠিকানায় ফেরত পাঠাবেন।
এই উদ্যোগটি এবারই প্রথম চালু হয়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ আইটি–সাপোর্টেড। শুধুমাত্র প্রবাসী ভোটারই নয়, আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তি ও নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিতরাও এই পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন।
নিবন্ধনের সময়সীমা নভেম্বর ১৯ থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী রাখা হয়েছে। সুতরাং যারা এখনও নিবন্ধন করেননি, তারা এই সময়ের মধ্যে অ্যাপে প্রবেশ করে নিজেকে নিবন্ধন করতে পারবেন।
কোন কোন দেশে চলছে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন?
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী ভোটাররা এই নিবন্ধন করতে পারছেন। গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো হলো:
-
দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মোজাম্বিক
-
যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা
-
নাইজেরিয়া, ঘানা, মরক্কো, ইথিওপিয়া, কেনিয়া
-
ব্রাজিল, উগান্ডা, রুয়ান্ডা, চিলি, জিম্বাবুয়ে
-
এবং আরও অনেক দেশ
এই বহুমুখী দেশ তালিকা প্রমাণ করছে, বাংলাদেশের প্রবাসী ভোটাররা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে সক্ষম হচ্ছেন।

ইসি’র লক্ষ্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানাচ্ছে, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। এই প্রেক্ষিতে ইসি প্রবাসী ভোটারদের মধ্যে ৫০ লাখ ভোট সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
এই উদ্যোগ শুধু প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করছে না, বরং জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসীদের অবদানকে শক্তিশালী করছে।
নির্বাচন কমিশন প্রবাসীদের কাছে আবেদন করেছেন দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে, যাতে ভোটাররা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যালট গ্রহণ এবং প্রেরণ করতে পারেন।
প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনের সুবিধা ও গুরুত্ব
প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন শুধুমাত্র ভোট দেওয়ার সুযোগই নয়, এটি প্রমাণ করে যে প্রবাসীরা বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে উৎসাহী।
উল্লেখযোগ্য সুবিধাসমূহ:
-
নিজের দেশের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত
-
আইটি-সাপোর্টেড নিরাপদ ভোটিং প্রক্রিয়া
-
ডাকযোগে ব্যালট প্রেরণের সুবিধা
এই প্রক্রিয়া বাংলাদেশের প্রবাসী সমাজের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন এই নির্বাচনে একটি নতুন দিগন্ত খুলেছে। প্রথমবারের মতো চালু হওয়া এই পোস্টাল ভোট ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসীরা নিরাপদ ও সুষ্ঠু ভাবে ভোট দিতে পারবে। ইতিমধ্যেই ১ লাখ ২৭ হাজারের বেশি প্রবাসী নিবন্ধিত হয়েছে, যা নির্বাচনী ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
নির্বাচন কমিশন আরও একাধিক উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে কাজ করছে। এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র ভোটারদের সুবিধা প্রদান করছে না, বরং দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকেও আরও শক্তিশালী করছে।




