এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (50)
মুক্তিযুদ্ধের জায়গায় মুক্তিযুদ্ধ চব্বিশের জায়গায় চব্বিশ: আমীর খসরু
Shikor Web Image (47)
সংযমের মধ্য দিয়ে সমাজজীবনে শান্তি-স্বস্তি-ইনসাফ ফিরে আসুক: মির্জা ফখরুল
Shikor Web Image (45)
বাংলাদেশে মব কালচারের দিন শেষ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
Shikor Web Image (41)
সংস্কারের মাধ্যমে দেশের সব ধরনের আবর্জনা দূর করতে চাই: বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান
Shikor Web Image (38)
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ৩ সিটি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক সূচনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ: বলেন আইনের শাসনই হবে শেষ কথা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণে আইনের শাসন, অর্থনীতি, দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা এসেছে। জানুন তার ১০ শক্ত বার্তা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকারের মাধ্যমে নতুন সরকারের নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করেছে। গতকাল রাতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় দলীয় প্রভাব বা জোরজবরদস্তির কোনো স্থান থাকবে না; বরং আইন ও বিধিবদ্ধ নিয়মই হবে শেষ কথা।

এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয় এবং এতে দেশের অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্য, বাজারব্যবস্থা, যোগাযোগব্যবস্থা, জুয়া-মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং যানজট নিরসনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়।

আইন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নীতিনিষ্ঠ অবস্থান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিধিবদ্ধ নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা ক্ষমতার অপব্যবহার সহ্য করা হবে না।

তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক থাকবে। তার মতে, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠাই নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা ভোট দিয়েছেন বা দেননি—সবার জন্য সরকার সমানভাবে কাজ করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্র কোনো দলের নয়; এটি সকল নাগরিকের।

সমতা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে বার্তা

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ধর্ম, বর্ণ, মতাদর্শ বা অবস্থান নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সমান। তিনি বলেন, “মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সবাই এই দেশের সমান নাগরিক। পাহাড়ে বা সমতলে বসবাসকারী সকল মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।”

তিনি আরও বলেন, নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়াই সরকারের মূল লক্ষ্য।

দুর্বল অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতের দুর্নীতি ও দুঃশাসনের প্রভাব কাটিয়ে ওঠাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের কথা বলেন।

তিনি জানান, জনগণের মনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়।

জুয়া ও মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে জুয়া ও মাদকের বিস্তার আইনশৃঙ্খলার অবনতির অন্যতম কারণ। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকার জনজীবনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাজার ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের আহ্বান

ব্যবসায়ী মহলের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করতে চায়। তিনি জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও অভিযোগ গ্রহণে সরকার প্রস্তুত।

রমজান মাস সামনে রেখে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, অনিয়ম ও সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার।

রমজানে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের নির্দেশ

রমজান মাসে রোজাদারদের সুবিধার্থে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ইফতার, তারাবি ও সাহরির সময় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যানজট ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় সংস্কারের পরিকল্পনা

রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে যানজট নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, রাজধানীতে জনসংখ্যার চাপ কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা জরুরি।

মানুষ যাতে নিজ জেলায় বসেই কাজ করতে পারেন—এ লক্ষ্য নিয়ে সারা দেশে রেল যোগাযোগব্যবস্থা আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই পরিকল্পনার মাধ্যমে অফিস, ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণের কথাও উঠে আসে।

কৃচ্ছ্রসাধনে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ জনগণের আগে সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে কৃচ্ছ্রসাধনের উদাহরণ স্থাপন করা হবে।

তিনি জানান, বিএনপির সংসদীয় দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য সরকারি সুবিধায় ট্যাক্সমুক্ত গাড়ি আমদানি করবেন না এবং প্লট সুবিধা নেবেন না।

এটি ন্যায়পরায়ণতার আদর্শের প্রতিফলন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গণতন্ত্র ও ন্যায়পরায়ণতার আদর্শ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় মহানবীর ন্যায়পরায়ণতার আদর্শ অনুসরণ করা হবে।

তিনি মনে করেন, সংসদীয় দলের সিদ্ধান্ত সেই আদর্শের বাস্তব প্রতিফলন।

রাজনৈতিক তাৎপর্য ও বিশ্লেষণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ নতুন সরকারের নীতিগত দিকনির্দেশনা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। এতে আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি, বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই ভাষণ থেকে বোঝা যায়, সরকার জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে কাজ করতে চায় এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি দমন সফল হলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন সহজ হবে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক কাঠামো নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও আগ্রহ রয়েছে। এ বিষয়ে আরও বিশ্লেষণ পাওয়া যেতে পারে BBC–এর প্রতিবেদনগুলোতে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও মূল্যায়ন প্রকাশিত হতে পারে।

সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ দেশের বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি রূপরেখা তুলে ধরেছে। আইনের শাসন, দুর্নীতি দমন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন—এই চারটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুন সরকারের কার্যক্রম কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে ঘোষিত নীতির বাস্তবায়নের ওপর। তবে প্রথম ভাষণে দেওয়া বার্তাগুলো দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ভবিষ্যতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সর্বাধিক পঠিত